এইচএসসি ও ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতিতে বাংলা ১ম পত্র গদ্য আংশঃ বিড়াল

3155

আজ,তোমাদের কাছে এইচএসসি ও ভর্তি পরীক্ষা প্রস্তুতির বাংলা ১ম পত্রের গদ্য আংশের নোট নিয়ে হাজির হয়েছি। এইচএসসি বা ভর্তি পরীক্ষায় বাংলা নিয়ে দুশ্চিন্তা করে না এমন শিক্ষার্থী খুবই কম পাওয়া যাবে। তাই তোমাদের কাজ অনেকটা এগিয়ে দিচ্ছি আমরা। যারা বাসায় বসে প্রিপ্রারেশন নিয়ে লক্ষ্যে পৌঁছাতে চান,সেইসব মেধাবীদের সফলতার সহায়ক হওয়ায় আমাদের Admissioninfos.com এর লক্ষ্য। আজকের আলোচ্য বিষয় বাংলা ১ম পত্রের গদ্য আংশের বিড়াল পাঠ

আমাদের এই পোস্টটি কেন পড়বেন আপনি?

  • বাংলা ১ম পত্র মূল বই এর প্রতিটি গদ্যকে কয়েকটি পাঠ করে ভাগ করে দিয়েছি ।
  • প্রতিটি পাঠের জন্য আলাদা করে মূলভাব ,শব্দার্থ সহ বহুনির্বাচনী প্রশ্ন যুক্ত করেছি ।
  • প্রতিটি পাঠকে একত্রিত করে পুরো গল্পের মূলভাব এবং গুরুত্বপূর্ণ তথ্য যোগ করেছি ।
  • প্রতিটি গদ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ  বহুনির্বাচনী প্রশ্ন সংযুক্ত করেছি।
  • প্রতিটি গদ্যের জন্য টেস্ট পেপার থেকে বাছাইকৃত গুরুত্বপূর্ণ সৃজনশীল প্রশ্ন ও বহুনির্বাচনী প্রশ্ন যুক্ত করেছি
  • প্রতিটি গদ্যের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষার জন্য বাছাইকৃত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষায় আসা বহুনির্বাচনী প্রশ্ন ও নিজেকে যাচাই করার জন্য আরো বহুনির্বাচনী প্রশ্ন  যুক্ত করেছি ।
  • পোস্ট পড়া শেষে নিজেকে যাচাই করার জন্য অনলাইনে মডেল টেস্ট এর ব্যবস্থা করেছি ।

আমাদের পোস্ট রেগুলার আপডেট করা হয় । চোখ রাখুন আমাদের সাইটে ।আর রেগুলার পোস্টের আপডেট পেতে নোটিফিকেশন বাটন অন করে রাখুন ।

বিড়াল
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়

লেখক

বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনা জেলার নৈহাটির কাছাকাছি কাঁঠালপাড়া গ্রামে ১৮৩৮ সালের ২৬ জুন জন্মগ্রহণ করেন। হুগলি মোহসিন কলেজ এবং প্রেসিডেন্সি কলেজে তিনি লেখাপড়া করেন। ১৮৫৮ সালে কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএ পাস করেন। তিনি কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রম গ্রাজুয়েট। কর্মজীবনে তিনি প্রম ভারতীয় ও বাঙালি ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট ছিলেন এবং এ-পদে ৩৩ বছর চাকরি করে ১৮৯১ সালে অবসর গ্রহণ করেন। তাঁর পিতা যাদবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ও একজন ডেপুটি কালেক্টর ছিলেন। বঙ্কিমচন্দ্র ১৮৫২ সালে ‘সংবাদ প্রভাকর’ পত্রিকায় কবিতা লিখে সাহিত্যচর্চায় আত্মনিয়োগ করেন। ১৮৬৪ সালে প্রকাশিত হয় ইংরেজি উপন্যাস জধলসড়যধহদং রিভব। মোগল-পাঠান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে নারী-পুরুষের প্রেমকে উপজীব্য করে ১৮৬৫ সালে তাঁর প্রম উপন্যাস দুর্গেশনন্দিনী প্রকাশিত হয় এবং বাংলা সাহিত্যে এটিই প্রম শিল্পসম্মত সার্থক উপন্যাস। বিদ্যাসাগরের সংস্কৃতঘেঁষা সাধুরীতির বাংলায় যেটুকু জড়তা ছিল, বঙ্কিমচন্দ্রের হাতে তা দূর হলোÑ বাংলা হয়ে উঠল সাহিত্যের উপযোগী ভাষা। ধর্ম, দর্শন, সাহিত্য, ভাষা, সমাজ প্রভৃতি বিষয়ে তিনি উৎকৃষ্টমানের প্রবন্ধ রচনা করেছেন। এ ছাড়াও তাঁর অন্যতম কীর্তি বঙ্গদর্শন (১৮৭২) পত্রিকার প্রকাশ ও সম্পাদনা। এই পত্রিকাকে কেন্দ্র করে একটি লেখকগোষ্ঠী গড়ে উঠেছিল। বাংলা সাহিত্যে তিনি ‘সাহিত্যস সম্রাট’ হিসেবে অধিক পরিচিত। এই কীর্তিমান পুরুষ ১৮৯৪ সালের ৮ এপ্রিল কলকাতায় মৃত্যুবরণ করেন। বঙ্কিমচন্দ্রের গ্রন্থসংখ্যা ৩৪।

বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের কয়েকটি বিখ্যাত গ্রন্থের নাম :
উপন্যাস : দুর্গেশনন্দিনী (১৮৬৫), কপালকুন্ডলা (১৮৬৬), মৃণালিনী (১৮৬৯), বিষবৃক্ষ (১৮৭৩), কৃষ্ণকান্তের উইল (১৮৭৮), আনন্দমঠ (১৮৮২), রাজসিংহ (১৮৮২);
রম্যরচনা : কমলাকান্তের দপ্তর (১৮৭৫);
প্রবন্ধ : লোকরহস্য (১৮৭৪), বিজ্ঞানরহস্য (১৮৭৫), বিবিধ প্রবন্ধ (১৮৮৭ ও ১৮৯২), কৃষ্ণচরিত্র (১৮৮৬)।

মূলভাব

কমলাকান্ত আফিং এর নেশায় বিভোর থাকলেও তার বক্তব্যের মধ্য দিয়ে সমাজে গভীর থেকে গভীরতর রোগের বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে। বিড়ালের সাথে কথোপকথনে কমলাকন্তের পরাজয় সূচিত হওয়ার মধ্য দিয়ে প্রকৃতপক্ষে লেখক তার সমাজতান্ত্রিক চিন্তাধারার বহিঃপ্রকাশ ঘটাতে চেয়েছেন। বিড়ালের আত্নোপলব্ধিকে কমলাকান্তের চিন্তাধারার মধ্য দিয়ে বিকশিত করে তোলার মাধ্যমে প্রকৃতপক্ষে এখানে লেখক নিজ আদর্শ প্রতিষ্ঠার আনন্দ অভিব্যক্ত করেছেন।

ভূমিকা

বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত ‘বিড়াল’ একটি আকর্ষণীয় রম্যরচনা। প্রবন্ধটি ’কমলাকান্তের দপ্তর’ গ্রন্থ থেকে সংকলিত হয়েছে। রূপকের মাধ্যমে লেখক আমাদের সমাজের দরিদ্র, বঞ্চিত ও শোষিত মানুষের প্রতি ধনী সমাজের প্রভাবের কথা  তুলে ধরেছেন। সমাজে শৃঙ্খলা আনতে হলে মানুষকে যে বিচারবুদ্ধি নিয়ে চলতে হবে এবং বৈষম্য দূর করতে হলে যে মানুষকেই প্রধান ভূমিকা পালন করতে হবে তা লেখক সুস্পষ্টভাবে প্রবন্ধটিতে তুলে ধরেছেন।

সাধারণ উদ্দেশ্য
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ‘বিড়াল’ প্রবন্ধটি পাঠের পর আপনি-বঙ্কিমচন্দ্রের রম্যরচনার গুণ, মান ও রসবোধের সঙ্গে পরিচিত হবেন।
লেখকের সমাজ সচেতনতার পরিচয় পাবেন।
সাধুরীতির গদ্য যে কতো সহজ এবং আকর্ষণীয় হতে পারে তা বুঝতে পারবেন।

 

পাঠ-১


পাঠভিত্তিক উদ্দেশ্য
এ পাঠটি পড়ে আপনি

কিছু ঐতিহাসিক নাম ও স্থান সম্বন্ধে লিখতে পারবেন।
বিড়াল কোন সমাজের প্রতিনিধি হয়ে কী বলছে তা বিশ্লেষণ করতে পারবেন।

মূলপাঠ

আমি শয়ন গৃহে চারপায়ীর উপর বসিয়া হুঁকা হাতে, ঝিমাইতেছিলাম। একটু মিট্ মিট্ করিয়া ক্ষুদ্র আলো
জ্বলিতেছেÑ দেয়ালের উপর চঞ্চল ছায়া, প্রেতবৎ নাচিতেছে। আহার প্রস্তুত হয় নাইÑ এ জন্য হুকা হাতে,
নিমীলিতলোচনে আমি ভাবিতেছিলাম যে, আমি যদি নেপোলিয়ন হইতাম, তবে ওয়াটার্লু জিতিতে পারিতাম কি না। এমত সময়ে একটু ক্ষুদ্র শব্দ হইল, “মেও!”
চাহিয়া দেখিলামÑ হঠাৎ কিছু বুঝিতে পারিলাম না। প্রমে মনে হইল, ওয়েলিংটন হঠাৎ বিড়ালত্ব প্রাপ্ত হইয়া, আমার নিকট আফিঙ্গ ভিক্ষা করিতে আসিয়াছে। প্রম উদ্যমে, পাষাণবৎ কঠিন হইয়া, বলিব মনে করিলাম যে, ডিউক মহাশয়কে ইতিপূর্বে যথোচিত পুরস্কার দেয়া গিয়াছে, এক্ষণে আর অতিরিক্ত পুরস্কার দেয়া যাইতে পারে না। বিশেষ অপরিমিত লোভ  ভালো নহে। ডিউক বলিল, “মেও!”
তখন চক্ষু চাহিয়া ভালো করিয়া দেখিলাম যে, ওয়েলিংটন নহে। একটি ক্ষুদ্র মার্জার; প্রসনড়ব আমার জন্য যে দুগ্ধ রাখিয়া গিয়াছিল, তাহা নিঃশেষ করিয়া উদরসাৎ করিয়াছে, আমি তখন ওয়াটার্লুর মাঠে ব্যূহ-রচনায় ব্যস্ত, অত দেখি নাই। এক্ষণে মার্জারসুন্দরী, নির্জল দুগ্ধপানে পরিতৃপ্ত হইয়া আপন মনের সুখ এ জগতে প্রকটিত করিবার অভিপ্রায়ে, অতি মধুর স্বরে বলিতেছেন, “মেও!” বলিতে পারি না, বুঝি, তাহার ভিতর একটু ব্যঙ্গ ছিল; বুঝি, মার্জার মনে মনে হাসিয়া আমার পানে চাহিয়া ভাবিতেছিল, “কেহ মরে বিল ছেঁচে কেহ খায় কই।” বুঝি সে “মেও” শব্দে একটু মন বুঝিবার অভিপ্রায় ছিল। বুঝি বিড়ালের মনের ভাব, “তোমার দুধ ত খাইয়া বসিয়া আছিÑ এখন বল কী?”
বলি কী? আমি ত ঠিক করিতে পারিলাম না। দুধ আমার বাপেরও নয়। দুধ মঙ্গলার, দুহিয়াছে প্রসনড়ব। অতএব সে দুগ্ধে আমারও যে অধিকার, বিড়ালেরও তাই; সুতরাং রাগ করিতে পারি না। তবে চিরাগত একটি প্রা আছে যে, বিড়াল দুধ খাইয়া গেলে, তাহাকে তাড়াইয়া মারিতে যাইতে হয়। আমি যে সেই চিরাগত প্রার অবমাননা করিয়া মনুষ্যকুলে কুলাঙ্গার স্বরূপ পরিচিত হইব, ইহাও বাঞ্ছনীয় নহে। কী জানি, এই মার্জারী যদি স্বজাতিম-লে কমলাকান্তকে কাপুরুষ বলিয়া উপহাস করে? অতএব পুরুষের ন্যায় আচরণ করাই বিধেয়। ইহা স্থির করিয়া, সকাতরচিত্তে, হস্ত হইতে হুঁকা নামাইয়া, অনেক অনুসন্ধানে এক ভগড়ব ষষ্টি আবিষ্কৃত করিয়া সগর্বে মার্জারীর প্রতি ধাবমান হইলাম।
মার্জারী কমলাকান্তকে চিনিত; সে ষষ্টি দেখিয়া বিশেষ ভীত হওয়ার কোনো লক্ষণ প্রকাশ করিল না। কেবল আমার
মুখপানে চাহিয়া হাই তুলিয়া, একটু সরিয়া বসিল। বলিল, “মেও!” প্রশড়ব বুঝিতে পারিয়া ষষ্টি ত্যাগ করিয়া পুনরপি শয্যায় আসিয়া হুঁকা লইলাম। তখন দিব্যকর্ণ প্রাপ্ত হইয়া, মার্জারের বক্তব্যসকল বুঝিতে পারিলাম।
বুঝিলাম যে বিড়াল বলিতেছে, “মারপিট কেন? স্থির হইয়া, হুঁকা হাতে করিয়া, একটু বিচার করিয়া দেখ দেখি? এ
সংসারের ক্ষীর, সর, দুগ্ধ, দধি, মৎস্য, মাংস সকলই তোমরা খাইবে, আমরা কিছু পাইব না কেন? তোমরা মনুষ্য, আমরা বিড়াল, প্রভেদ কী? তোমাদের ক্ষুৎপিপাসা আছেÑ আমাদের কি নাই? তোমরা খাও, আমাদের আপত্তি নাই; কিন্তু আমরা খাইলে তোমরা কোন্ শাস্ত্রানুসারে ঠেঙ্গা লাঠি লইয়া মারিতে আইস, তাহা আমি বহু অনুসন্ধানে পাইলাম না। তোমরা আমার কাছে কিছু উপদেশ গ্রহণ কর। বিজ্ঞ চতুষ্পদের কাছে শিক্ষালাভ ব্যতীত তোমাদের জ্ঞানোনড়বতির উপায়ান্তর দেখি না। তোমাদের বিদ্যালয়সকল দেখিয়া আমার বোধ হয়, তোমরা এত দিনে এ কথাটি বুঝিতে পারিয়াছ।
“দেখ, শয্যাশায়ী মনুষ্য! ধর্ম কী? পরোপকারই পরম ধর্ম। এই দুগ্ধটুকু পান করিয়া আমার পরম উপকার হইয়াছে।
তোমার আহরিত দুগ্ধে এই পরোপকার সিদ্ধ হইলÑ অতএব তুমি সেই পরম ধর্মের ফলভাগীÑ আমি চুরিই করি, আর যাই করি, আমি তোমার ধর্মসঞ্চয়ের মূলীভূত কারণ। অতএব আমাকে প্রহার না করিয়া, আমার প্রশংসা কর। আমি তোমার ধর্মের সহায়।

নির্বাচিত শব্দের অর্থ ও টীকা

অনুসন্ধান- খোঁজ।
অপরিমিত- পরিমাণ করা হয়নি যার।
অবমাননা- অপমান।
অভিপ্রায়- ইচ্ছা।
আইস- আসো।
আফিঙ্গ- আফিম বা অহিফেন। পোস্ত বীজ থেকে তৈরি ওষুধ ও মাদকদ্রব্য।
আহরিত- সংগ্রহ করা হয়েছে এমন।
উদরসাৎ- খেয়ে ফেলা।
এক্ষণে- এখন।
ওয়াটার্লু- যুদ্ধক্ষেত্রের নাম। নেপোলিয়ন এখানে ডিউক অব ওয়েলিংটনের কাছে পরাজিত হন।
ওয়েলিংটন- ডিউক অব ওয়েলিংটন (১৭৬৯-১৮৫৪ খ্রি.) নামে সমধিক পরিচিত। ওয়াটার্লু যুদ্ধে ইনি মহাবীর নেপোলিয়নকে পরাজিত করেন।
কাপুরুষ- ভীতু পুরুষ।
ক্ষুৎপিপাসা- ক্ষুধা ও পিপাসা।
চতুষ্পদ- চার পেয়ে প্রাণী।
চারপায়ী- টুল বা চৌকি।
চিরাগত- প্রা, বহুদিন ধরে যা চলে আসছে।
ঠেঙ্গালাঠি- লম্বা লাঠি।
ডিউক মহাশয়-ক্ষুদ্র রাজা, অভিজাত ব্যক্তি।
দিব্যকর্ণ– অলৌকিক ক্ষমতায় শোনার কান।
ধাবমান হইলাম- ধেয়ে গেলাম। নিমীলিত
লোচনে- বন্ধ চোখে।
নিঃশেষ- একেবারে শেষ।
নেপোলিয়ন- পূর্ণনাম নেপোলিয়ন বোনাপার্ট (১৭৬৯-১৮২১ খ্রি.) মহাবীর ফরাসি সম্রাট। প্রায় সমগ্র ইউরোপ জয় করেন। ১৮১৫ খ্রি. ওয়াটার্লু যুদ্ধে ডিউক অব ওয়েলিংটন কর্তৃক পরাজিত হন। সেন্ট হেলেনা দ্বীপে নির্বাসিত অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।
পুনরপি- আবার।
পাষাণবৎ- পাথরের মতো প্রকটিতÑপ্রকাশ।
প্রভেদ-পার্থক্য।
প্রেতবৎ- প্রেতের মতো।
প্রহার- শরীরে আঘাত।
বিড়ালত্ব প্রাপ্ত হইয়া- বিড়াল হয়ে।
বাঞ্ছনীয়- যা চাওয়া যায় এমন।
বিজ্ঞ- জ্ঞানী। ব্যতীতÑ ছাড়া।
ব্যূহ রচনা- যুদ্ধের জন্য সৈন্য সাজানো।
মনুষ্য- মানুষ।
মার্জার- বিড়াল।
মূলীভূত- আসল, গোড়ার।
যথোচিত- যেমন উচিত।
শয়নগৃহ- শোয়ার ঘর।
শয্যায়- বিছানায়।
শাস্ত্রানুসারে- নিয়ম অনুসারে।
ষষ্ঠি- লাঠি।
সকাতর চিত্তে- কাতর মনে।
সগর্বে- অহঙ্কারের সঙ্গে।
সহায়- সহকারী।

সারসংক্ষেপ

লেখক এখানে নিজেই কমলাকান্ত। চরিত্রটির মুখ দিয়ে বস্তুত লেখক নিজেই তাঁর মনের ভাব ব্যক্ত করেছেন। বিড়াল
নিরীহ প্রাণী। সুযোগ পেলেই দুধ চুরি করে খায়। সমাজে ধনী ও দরিদ্রের যে ব্যবধান তা যে মানুষেরই সৃষ্টি এ কথাই
লেখক কমলাকান্ত সেজে বলেছেন। তাঁর মতে যারা দরিদ্র অসহায় তারা অনেক সময় বাধ্য হয়ে অন্যায় করে। তখন
ধনীরা তাদের জন্য শাস্তির ব্যবস্থা করে। কেন তারা অন্যায় করল তার কারণ কখনো খোঁজা হয় না। বিড়ালকে দরিদ্র
সমাজের প্রতিনিধি হিসেবে এখানে দেখানো হয়েছে। কমলাকান্তের সমস্ত কথাবার্তা হচ্ছে রূপকের আশ্রয়ে। আজ
সমাজে ধনী ও দরিদ্রের যে পার্থক্য বা বৈষম্য সৃষ্টি হয়েছে তার জন্য দায়ী ধনী মানুষগুলোই। সুতরাং এহেন কাজের
জন্য দরিদ্র শ্রেণির মানুষকে শাস্তি দেওয়া অন্যায়।

পাঠোত্তর মূল্যায়ন : বহুনির্বাচনি প্রশ্ন

১.     কে চিরায়ত প্রা অবমাননা করতে চায়নি?
ক. কমলাকান্ত                  খ. মার্জার                             গ. নসীরাম                          ঘ. প্রসন্ন
২.     কমলাকান্ত ‘পাষাণবৎ কঠিন’ হয়েছিল কেন?
নক. লর্ড ওয়েলিংটন আফিং চাওয়ায়                                   খ. বিড়ালকে সগর্বে তাড়াতে
গ. প্রসন্নের টাকা চাওয়ায়                                             ঘ. মঙ্গলার কষ্টে
নিচের উদ্দীপকটি পড় এবং ৩ ও ৪ নং প্রশেড়বর উত্তর দিন :
অথৈ ঘরের খাবার বেঁচে গেলে নর্দমায় ফেলে দেয়। কিন্তু তার প্রতিবেশী হাসনা বানু পর্যাপ্ত আয় করতে পারে না বলে
প্রায়ই অনাহারে থাকে।
৩.      উদ্দীপকের বিষয়বস্তুর সঙ্গে কোন রচনার মিল রয়েছে?
ক. বিড়াল                       খ. অপরিচিতা                        গ. বিলাসী                           ঘ. আমার পথ
৪.      উদ্দীপক ও ‘বিড়াল’ প্রবন্ধে যে বিষয়টি ফুটে উঠেছে-
ক. ধনীর বৈশিষ্ট্য               খ. দরিদ্রের বৈশিষ্ট্য                  গ. ধনী-দরিদ্র বৈষম্য              ঘ. ধনী-দরিদ্র সমঝোতা

পাঠ-২

পাঠভিত্তিক উদ্দেশ্য
এ পাঠটি পড়ে আপনি
বিড়ালের মতো অসহায় প্রাণীরা তাদের অপরাধের জন্য কী কী যুক্তি দেখায় তার বর্ণনা লিখতে পারবেন।
মানুষের স্বভাবের বৈশিষ্ট্য সম্বন্ধে বিড়াল কী কী বলেছে তার সার কথাগুলো বর্ণনা করতে পারবেন।

মূলপাঠ 

“দেখ আমি চোর বটে, কিন্তু আমি কি সাধ করিয়া চোর হইয়াছি? খাইতে পাইলে কে চোর হয়? দেখ,
যাঁহারা বড় বড় সাধু, চোরের নামে শিহরিয়া উঠেন, তাহারা অনেকে চোর অপেক্ষাও অধার্মিক। তাঁহাদের
চুরি করিবার প্রয়োজন নাই বলিয়াই চুরি করেন না। কিন্তু তাঁহাদের প্রয়োজনাতীত ধন থাকিতেও চোরের প্রতি যে মুখ
তুলিয়া চাহেন না, ইহাতেই চোরে চুরি করে। অধর্ম চোরের নহেÑ চোরে যে চুরি করে, সে অধর্ম কৃপণ ধনীর। চোর দোষী বটে, কিন্তু কৃপণ ধনী তদপেক্ষা শত গুণে দোষী। চোরের দ- হয়; চুরির মূল যে কৃপণ, তাহার দন্ড হয় না কেন?”
“দেখ আমি প্রাচীরে প্রাচীরে মেও মেও করিয়া বেড়াই, কেহ আমাকে মাছের কাঁটাখানাও ফেলিয়া দেয় না। মাছের কাঁটা, পাতের ভাত নর্দমায় ফেলিয়া দেয়, জলে ফেলিয়া দেয়, তথাপি আমাকে ডাকিয়া দেয় না। তোমাদের পেট ভরা, আমার পেটের ক্ষুধা কী প্রকারে জানিবে! হায়! দরিদ্রের জন্য ব্যথিত হইলে, তোমাদের কি কিছু অগৌরব আছে? আমার মতো দরিদ্রের ব্যথায় ব্যথিত হওয়া, লজ্জার কথা সন্দেহ নাই। যে কখনো অন্ধকে মুষ্টি-ভিক্ষা দেয় না, সেও একটা বড় রাজা ফাঁপরে পড়িলে রাত্রে ঘুমায় নাÑ সকলেই পরের ব্যথায় ব্যথিত হইতে রাজি। তবে ছোটলোকের দুঃখে কাতর! ছি! কে
হইবে?”
“দেখ যদি অমুক শিরোমণি, কি অমুক ন্যায়ালঙ্কার আসিয়া তোমার দুধটুকু খাইয়া যাইতেন, তবে তুমি তাঁহাকে ঠেঙ্গা লইয়া মারিতে আসিতে? বরং জোড়হাত করিয়া বলিতে, আর একটু কি আনিয়া দিব? তবে আমার বেলা লাঠি কেন? তুমি বলিবে, তাঁহারা অতি পন্ডিত, বড় মান্য লোক। পন্ডিত বা মান্য বলিয়া কি আমার অপেক্ষা তাঁহাদের ক্ষুধা বেশি? তা ত নয়-তেলা মাথায় তেল দেয়া মনুষ্যজাতির রোগ- দরিদ্রের ক্ষুধা কেহ বুঝে না। যে খাইতে বলিলে বিরক্ত হয়, তাহার জন্য ভোজের আয়োজন কর-আর যে ক্ষুধার জ্বালায় বিনা আহ্বানেই তোমার অনড়ব খাইয়া ফেলে, চোর বলিয়া তাহার দন্ড কর- ছি! ছি!”
“দেখ আমাদিগের দশা দেখ, দেখ প্রাচীরে প্রাচীরে, প্রাঙ্গণে প্রাঙ্গণে প্রাসাদে প্রাসাদে, মেও মেও করিয়া আমরা চারিদিক দৃষ্টি করিতেছি- কেহ আমাদিগকে মাছের কাঁটাখানা ফেলিয়া দেয় না। যদি কেহ তোমাদের সোহাগের বিড়াল হইতে পারিল- গৃহমার্জার হইয়া, বৃদ্ধের নিকট যুবতী ভার্যার সহোদর, বা মূর্খ ধনীর কাছে সতরঞ্চ খেলোয়াড়ের স্থানীয় হইয়া থাকিতে পারিল-তবেই তাহার পুষ্টি। তাহার লেজ ফুলে, গায়ে লোম হয় এবং তাহাদের রূপের ছটা দেখিয়া, অনেক মার্জার কবি হইয়া পড়ে।”
“আর আমাদিগের দশা দেখ- আহারাভাবে উদর কৃশ, অস্থি পরিদৃশ্যমান, লাঙ্গুল বিনত, দাঁত বাহির হইয়াছেÑ জিহ্বা
ঝুলিয়া পড়িয়াছে- অবিরত আহারাভাবে ডাকিতেছি, “মেও! মেও! খাইতে পাই না!-” আমাদের কালো চামড়া দেখিয়া
ঘৃণা করিও না! এ পৃথিবীর মৎস্য মাংসে আমাদের কিছু অধিকার আছে। খাইতে দাও- নহিলে চুরি করিব। আমাদের কৃষ্ণ চর্ম, শুষ্ক মুখ, ক্ষীণ সকরুণ মেও মেও শুনিয়া তোমাদিগের কি দুঃখ হয় না? চোরের দন্ড নাই কেন? দরিদ্রের আহার সংগ্রহের দন্ড আছে, ধনীর কার্পণ্যের দ- নাই কেন? তুমি কমলাকান্ত, দূরদর্শী, কেন না আফিংখোর, তুমিও কি দেখিতে পাও না যে, ধনীর দোষেই দরিদ্রে চোর হয়? পাঁচ শত দরিদ্রকে বঞ্চিত করিয়া একজনে পাঁচ শত লোকের আহার্য সংগ্রহ করিবে কেন? যদি করিল, তবে সে তাহার খাইয়া যাহা বাহিয়া পড়ে, তাহা দরিদ্রকে দিবে না কেন? যদি না দেয়, তবে দরিদ্র অবশ্য তাহার নিকট হইতে চুরি করিবে; কেন না, অনাহারে মরিয়া যাইবার জন্য এ পৃথিবীতে কেহ আইসে নাই।”

নির্বাচিত শব্দের অর্থ ও টীকা

অধীর- অধৈর্য।
অসীম- যার সীমা নেই।
উপবাস- না খেয়ে থাকা।
কস্মিনকালে- কোনো কালে।
ক্ষুধানুসারে- কেমন খিদে লাগে তা বিবেচনা করে।
জলযোগ- হালকা খাবার বা নাশতা।
দন্ডবিধান- শাস্তির ব্যবস্থা।
ধর্মাচরণে-ধর্মের আচার আচরণে।
নিউমান- একজন বিখ্যাত লেখক।
নির্বিঘেড়ব- নিরাপদে।
নৈয়ায়িক- যিনি ন্যায়শাস্ত্রে অভিজ্ঞ।
পতিত আত্মা- দুর্দশায় পড়েছে এমন আত্মা। এখানে কথাটা বিড়ালকে বলা হয়েছে।
পরাস্ত- পরাজিত।
পাঠার্থে- পড়ার জন্য।
পুনর্বার- আবার।
প্রানুসারে- নিয়ম অনুসারে।
মহিমা- গুণ।
মার্জারী মহাশয়া- স্ত্রী বিড়ালকে সম্বোধনের জন্য মহাশয়-এর সঙ্গে আ-প্রত্যয় যোগ করা হয়েছে।
সুতার্কিক- তর্কে পটু।
সরিষা ভোর- সর্ষে দানার সমান।
সোশিয়ালিস্টিক- এটি ইংরেজি শব্দ। সমাজতান্ত্রিক।
সমাজের সবাই সমান- এমন একটি রাজনৈতিক মতবাদ।
স্বস্থানে- নিজের জায়গায়।

সারসংক্ষেপ

বিড়াল তার চুরি করে দুধ খাওয়ার কারণ বলতে গিয়ে আমাদের সমাজ-ব্যবস্থার অনিয়মের কথা বলেছে। তার ব্যাখ্যায় ধনী কৃপণদের জন্যই গরিবরা চোর হয়। তাই চোরের শাস্তি হলে যারা চোর তৈরি করে, তাদেরও শাস্তি হওয়া উচিত। বিড়াল তার অভিজ্ঞতা থেকেই বলেছে যে, মানুষ তেলা মাথায় তেল ঢালেÑ এটা তাদের সবচেয়ে বড় দোষ। যাদের খাওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই, তাদের জন্য মানুষ ভোজের আয়োজন করে। আর শুধু বেঁচে থাকার জন্য যাদের একটু খাবার প্রয়োজন, তাদেরকে কেউ খেতে দেয় না। ভোজের আসরে খেতেও ডাকে না। বরং খাবার বেঁচে গেলে তা ফেলে দেয়া হয়, তবু ক্ষুধার্তদের জন্য রাখা হয় না। ধনীদের এমন নির্দয় আচরণের জন্যই দরিদ্র অসহায়রা চুরি করে। তাই চুরির জন্য দরিদ্রকে শাস্তি দেয়ার কোনো অধিকার নেই ধনীর। বিড়াল বলতে চায় যে, কৃপণ ধনীরাই চোর সৃষ্টি করে।কারণ তারাই ক্ষুধার্তকে চুরি করতে বাধ্য করে। ধনীরা একাই পাঁচশ জনের সম্পদ ভোগ করে, তবু একটু উচ্ছিষ্ট গরিবদের জন্য রাখে না। এসবই সমাজিক অন্যায়। তাই বিড়ালের মতে, চোরের শাস্তি হলে ধন কুক্ষিগত করার অপরাধে ধনীরও শাস্তি হওয়া উচিত।

পাঠোত্তর মূল্যায়ন : বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
৫.      পৃথিবীতে কিসে বিড়ালের অধিকার রয়েছে?
ক. দুধে-আফিঙে               খ. মৎস্য-মাংসে                      গ. মাংসে-দুধে                      ঘ. ছানা-দুধে
৬.      বিড়াল চোর হয়েছে কেন?
ক. লোভে পড়ে                খ. জাতিভেদে                        গ. খেতে না পেয়ে                 ঘ. ধনী হবার আশায়
নিচের উদ্দীপকটি পড় এবং ৭ ও ৮ নং প্রশ্নের উত্তর দিন :
ক্ষুধার তাড়নায় ছেলে রাসু চুরি করেছে। চুরি করার অপরাধে ছেলেকে মারতে গিয়েও থমকে দাঁড়ালো আফাজ আলি।
৭.      উদ্দীপকের আফাজ আলির সঙ্গে ‘বিড়াল’ গল্পের কোন চরিত্রের মিল পাওয়া যায়?
ক. কৃপণ ধনী                   খ. মার্জারী                             গ. কমলাকান্ত                       ঘ. বিড়াল
৮.      এরূপ সাদৃশ্য যে বিষয়ে-
i. শোষণে ii. মানবিকতায় iii. জাতিপ্রা উচ্ছেদে
নিচের কোনটি সঠিক?
ক. i                             খ. ii                                  গ. iii                                ঘ. i ও ii

পাঠ-৩

পাঠভিত্তিক উদ্দেশ্য

এ পাঠটি পড়ে আপনি
ধনীর প্রতিনিধি হিসেবে কমলাকান্ত বিড়ালকে কী বলতে চেয়েছেন তা বুঝিয়ে লিখতে পারবেন।
দরিদ্রের দৃষ্টিতে সমাজের উনড়বতি বলতে বিড়াল কী বোঝাতে চেয়েছে তার সংক্ষিপ্ত বর্ণনা দিতে পারবেন।

মূলপাঠ

আমি আর সহ্য করিতে না পারিয়া বলিলাম, “থাম! থাম মার্জারপ-িতে! তোমার কথাগুলি ভারি
সোশিয়ালিস্টিক! সমাজ বিশৃঙ্খলার মূল! যদি যাহার যত ক্ষমতা, সে তত ধনসঞ্চয় করিতে না পায়, অথবা
সঞ্চয় করিয়া চোরের জ্বালায় নির্বিঘেড়ব ভোগ করিতে না পায়, তবে কেহ আর ধনসঞ্চয়ে যতড়ব করিবে না। তাহাতে সমাজের ধনবৃদ্ধি হইবে না।”
মার্জার বলিল, “না হইল ত আমার কী? সমাজের ধনবৃদ্ধির অর্থ ধনীর ধনবৃদ্ধি। ধনীর ধনবৃদ্ধি না হইলে দরিদ্রের কী
ক্ষতি?”
আমি বুঝাইয়া বলিলাম যে, “সামাজিক ধনবৃদ্ধি ব্যতীত সমাজের উনড়বতি নাই।” বিড়াল রাগ করিয়া বলিল যে, “আমি যদি খাইতে না পাইলাম তবে সমাজের উনড়বতি লইয়া কী করিব?”
বিড়ালকে বুঝান দায় হইল। যে বিচারক বা নৈয়ায়িক, কস্মিনকালে কেহ তাহাকে কিছু বুঝাইতে পারে না। এ মার্জার
সুবিচারক এবং সুতার্কিকও বটে, সুতরাং না বুঝার পক্ষে ইহার অধিকার আছে। অতএব ইহার উপর রাগ না করিয়া
বলিলাম, “সমাজের উনড়বতিতে দরিদ্রের প্রয়োজন না থাকিলে না থাকিতে পারে, কিন্তু ধনীদের বিশেষ প্রয়োজন, অতএব চোরের দ-বিধান কর্তব্য।”
মার্জারী মহাশয়া বলিলেন, “চোরকে ফাঁসি দাও, তাহাতেও আমার আপত্তি নাই, কিন্তু তাহার সঙ্গে আর একটি নিয়ম কর। যে বিচারক চোরকে সাজা দিবেন, তিনি আগে তিন দিবস উপবাস করিবেন। তাহাতে যদি তাঁহার চুরি করিয়া খাইতে ইচ্ছা না করে, তবে তিনি স্বচ্ছন্দে চোরকে ফাঁসি দিবেন। তুমি আমাকে মারিতে লাঠি তুলিয়াছিলে, তুমি অদ্য হইতে তিন দিবস উপবাস করিয়া দেখ। তুমি যদি ইতিমধ্যে নসীরাম বাবুর ভা-ারঘরে ধরা না পড়, তবে আমাকে ঠেঙ্গাইয়া মারিও, আমি আপত্তি করিব না।”
বিজ্ঞ লোকের মতো এই যে, যখন বিচারে পরাস্ত হইবে, তখন গম্ভীরভাবে উপদেশ প্রদান করিবে। আমি সেই প্রানুসারে মার্জারকে বলিলাম যে, “এ সকল অতি নীতিবিরুদ্ধ কথা, ইহার আন্দোলনেও পাপ আছে। তুমি এ সকল দুশ্চিন্তা পরিত্যাগ করিয়া ধর্মাচরণে মন দাও। তুমি যদি চাহ, তবে পাঠার্থে তোমাকে আমি নিউমান ও পার্কারের গ্রন্থ দিতে পারি। আর
কমলাকান্তের দপ্তর পড়িলেও কিছু উপকার হইতে পারেÑ আর কিছু হউক বা না হউক, আফিঙের অসীম মহিমা বুঝিতে পারিবে। এক্ষণে স্বস্থানে গমন কর, প্রসনড়ব কাল কিছু ছানা দিবে বলিয়াছে, জলযোগের সময় আসিও উভয়ে ভাগ করিয়া খাইব। অদ্য আর কাহারও হাঁড়ি খাইও না; বরং ক্ষুধায় যদি নিতান্ত অধীর হও, তবে পুনর্বার আসিও, এক সরিষাভোর
আফিং দিব।”
মার্জার বলিল, “আফিঙের বিশেষ প্রয়োজন নাই, তবে হাঁড়ি খাওয়ার কথা, ক্ষুধানুসারে বিবেচনা করা যাইবে।”
মার্জার বিদায় হইল। একটি পতিত আত্মাকে অন্ধকার হইতে আলোকে আনিয়াছি, ভাবিয়া কমলাকান্তের বড় আনন্দ হইল!
শ্রীকমলাকান্ত চক্রবর্তী

নির্বাচিত শব্দের অর্থ ও টীকা

অবিরত- অনবরত।
অস্থি- হাড়।
আহ্বান– ডাকা।
আহার্য- খাবার।
উদর- পেট।
কৃশ- রোগা।
কার্পণ্য- কৃপণতা।
কৃষ্ণচর্ম- কালো চামড়া।
কৃপণ- যে শুধু সঞ্চয় করে খরচ করে না।
ক্ষীণ- দুর্বল।
তদপেক্ষা-তার চেয়ে দ-Ñ শাস্তি।
দূরদর্শী- যার ভবিষ্যৎ দেখার ক্ষমতা আছে।
নির্দয়- নিষ্ঠুর, দয়াহীন।
ন্যায়ালঙ্কার- ন্যায়শাস্ত্রে পন্ডিত।
পরিদৃশ্যমান- দেখা যায় এমন।
প্রাঙ্গণ- মাঠ।
প্রয়োজনাতীত- প্রয়োজনের চেয়ে বেশি ।
প্রাসাদ- বিশাল বাড়ি।
বঞ্চিত- প্রতারিত, যে ঠকেছে এমন।
বিনত- নম্র।
ভার্যা- স্ত্রী, বৌ।
ভোজ- খাওয়া-দাওয়া।
মান্য- সম্মান পাওয়ার যোগ্য।
যুবতী- যৌবনবতী মেয়ে।
লাঙ্গুল- লেজ।
শিরোমণি- সমাজের প্রধান ব্যক্তি।
শিহরিয়া- শিউরে ওঠা।
শুষ্ক মুখ- শুকনো মুখ।
সকরুণ- অতি দুঃখপূর্ণ।
সতরঞ্চ খেলা- দাবা খেলা।
সহোদর- একই উদরে জন্ম অর্থাৎ আপন ভাই।

সারসংক্ষেপ

বিজ্ঞ বিড়ালের কথায় সমাজতান্ত্রিক চেতনার প্রতিফলন লক্ষ করে কমলাকান্ত কিঞ্চিৎ বিরক্ত হলেন। যে মতবাদে ধনী
এবং নির্ধন সমান। কমলাকান্তের যুক্তি হলো ধনী যদি ধন সঞ্চয় না করে তাহলে সমাজের উনড়বতি হবে না। আর বিড়াল মনে করে নির্ধন যদি খেতেই না পায় তাহলে সমাজের উনড়বতিতে তার লাভ কী? বিড়ালের মতে, চোরকে শাস্তি দেয়ার আগে একটা নিয়ম করা প্রয়োজন। সেটা হলো, বিচারককে তিন দিন না খেয়ে থাকতে হবে। তখন যদি বিচারকের চুরি করে খেতে ইচ্ছে না করে, তবেই তিনি চোরকে শাস্তি দিতে পারবেন। কমলাকান্ত বিড়ালের সঙ্গে তর্কে না পেরে উপদেশ দিতে চাইলেন। বিড়ালকে ধর্মকর্মে মন দিতে বললেন। জ্ঞান বৃদ্ধির জন্য কিছু বইও দিতে চাইলেন। অবশেষে খাবারের ভাগ দিবেন বলে তার্কিক বিড়ালকে চলে যেতে বললেন। খুব খিদে পেলে সর্ষে পরিমাণ আফিমও দিতে চাইলেন। আপোসের কথা শুনে একটু খুশি হয়ে বিদায় নিলো বিড়াল। কমলাকান্ত বিড়ালকে জ্ঞান দিতে পেরেছেন ভেবে আনন্দিত হলেন।
পাঠোত্তর মূল্যায়ন : বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
৯.    কমলাকান্ত বিড়ালকে কিসের ভাগ দিতে চেয়েছে?
ক. ছানা                         খ. জলখাবার                         গ. আফিং                           ঘ. দুধ
১০.   কী কারণে চোর অপেক্ষা কৃপণ ধনী শতগুণে দোষী?
ক. দরিদ্রের ধন চুরি করে                                   খ. দরিদ্রকে কিছুই দেয় না
গ. অন্যের সম্পদ লুট করে                                   ঘ. সমাজের ধন কুক্ষিগত করে
নিচের উদ্দীপকটি পড় এবং ১১ ও ১২ নং প্রশ্নের উত্তর দিন :
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় বাংলা সাহিত্যে হাস্যরস ও ব্যঙ্গধর্মী রচনার জন্য বিশেষ খ্যাতিমান। তবে তাঁর এই ব্যঙ্গের
পেছনে রয়েছে সাম্যচেতনা, ন্যায়বোধ ও মানবিকতা।
১১.   উদ্দীপকের চেতনা ‘বিড়াল’ প্রবন্ধে কার মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে?
ক. কমলাকান্ত                  খ. প্রসন্ন গোয়ালিনী                  গ. ওয়েলিংটন                      ঘ. বিড়াল
১২.   উদ্দীপক ও ‘বিড়াল’ প্রবন্ধে সাদৃশ্য রয়েছে যে বিষয়ে
i. সাম্যচেতনা প্রকাশে ii. ডিউক মহাশয়ের বক্তব্যে         iii. বিড়ালের দ্রোহে
নিচের কোনটি সঠিক?
ক. i                             খ. ii                                   গ. iii                                ঘ. i ও iii
চূড়ান্ত মূল্যায়ন বহুনির্বাচনি প্রশ্ন :
১৩.   আফিংখোর কে ?

ক. ওয়েলিংটন                 খ. ডিউক                              গ. প্রসন্ন                             ঘ. কমলাকান্ত
১৪.   ‘পরোপকার’ বলতে বোঝানো হয়েছে
ক. মানবধর্ম                     খ. নৈতিক ধর্ম                        গ. পরম ধর্ম                         ঘ. চরম ধর্ম
নিচের উদ্দীপকটি পড়ুন এবং ১৫ ও ১৬ নং প্রশ্নের উত্তর দিন :
রাস্তার পাশে দশতলা একটি অবৈধ স্থাপনা ভাঙ্গা হবে। স্থানীয় সরকার কর্তৃপক্ষের লোকজন প্রস্তুত। এলাকার মানুষের
মধ্যে হাহাকার পড়ে গেল। ওদিকে অপরপাশে রেলের বস্তিটি উচ্ছেদ করার সময় কোন প্রতিক্রিয়া দেখা যায় না।
১৫.   উদ্দীপকের বিষয়বস্তুর সঙ্গে নিচের কোন রচনার সাদৃশ্য রয়েছে?
ক. আমার পথ                  খ. অপরিচিতা                        গ. বিড়াল                           ঘ. জীবন ও বৃক্ষ
১৬.   উদ্দীপক ও ‘বিড়াল’ প্রবন্ধের উপজীব্য
ক. ধনী ও দরিদ্রের বৈষম্য    খ. প্রতিবাদী চেতনা                  গ. অন্যায়ের প্রতিরোধ            ঘ. দরিদ্রের প্রতি মমত্ববোধ
সৃজনশীল প্রশ্ন-১ :
বনমালী বাবুর বাড়িতে আজ ভোজের আয়োজন। উপলক্ষ আর কিছুই নয়। তার বড় মেয়ে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায়
জিপিএ-৫ পেয়েছে। তিনি এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের দাওয়াত করেছেন। সমাজসেবায় জড়িত থাকার কারণে ছোট
নেতারা পর্যন্ত আমন্ত্রণ থেকে বাদ পড়েনি। আমন্ত্রিত অতিথিরা বিলাস-ব্যসনে সময় কাটিয়ে আনন্দচিত্তে বাড়ি ফেরেন।
এর কয়েকদিন পর বনমালী বাবুর বাড়িতে একজন ভিখারি আসে। অভুক্ত ভিখারি ক্ষুধার তাড়নায় বনমালী বাবুর নিকট
খাবার খেতে চায়। কিন্তু তিনি ভিখারিকে খাবার না দিয়ে তিরস্কার করেন।
ক. নেপোলিয়ন কে ছিলেন?
খ. ‘তেলা মাথায় তেল দেওয়া মনুষ্য জাতির রোগ’-কেন? বুঝিয়ে বলুন।
গ. উদ্দীপকে ‘বিড়াল’ প্রবন্ধের কোন দিকটি ফুটে উঠেছে?- ব্যাখ্যা করুন।
ঘ. “উদ্দীপক ও ‘বিড়াল’ প্রবন্ধের বিষয়বস্তু চেতনাগত দিক থেকে এক ও অভিনড়ব।” Ñমন্তব্যটি বিচার করুন।
সৃজনশীল প্রশ্ন-২ :
ডাকিল পান্থ, দ্বার খোলো বাবা, খাইনি তো সাত দিন !
সহসা বন্ধ হলো মন্দির, ভুখারি ফিরিয়া চলে,
তিমির রাত্রি, পথ জুড়ে তার ক্ষুধার মানিক জ্বলে !
ভুখারি ফুকারি কয়,
ঐ মন্দির পূজারীর, হায় দেবতা, তোমার নয় !
ক. মার্জার শব্দের অর্থ কী?
খ. ‘অনাহারে মরিয়া যাইবার জন্য এ পৃথিবীতে কেহ আইসে নাই।’ -বুঝিয়ে বলুন।
গ. উদ্দীপকের ভিখারির সঙ্গে ‘বিড়াল’ প্রবন্ধে কার মিল রয়েছে? -আলোচনা করুন।
ঘ. “উদ্দীপকে ‘বিড়াল’ প্রবন্ধের একটি সমাজ-সত্য ফুটে উঠেছে।” -মন্তব্যটি মূল্যায়ন করুন।

নমুনা উত্তর : সৃজনশীল প্রশ্ন-১

ক.         নেপোলিয়ন ফ্রান্সের সম্রাট ছিলেন।
খ.         ‘তেলা মাথায় তেল দেওয়া’ বলতে ধনীরা যে শুধু ধনীদেরকেই গুরুত্ব দেয় সে বিষয়টিকে বোঝানো হয়েছে।

‘বিড়াল’ প্রবন্ধে মনুষ্যজাতির একটি রোগ বা বিশেষ প্রবণতার কথা বলা হয়েছে। এই রোগটি হলো তেলা মাথায় তেল
দেয়া। অর্থাৎ যার সম্পদের অভাব নেই তাকে আরও সহযোগিতা করা। সমাজে সাধারণত দেখা যায় ধনী ব্যক্তিরা যদি কখনো ভোজের আয়োজন করেন সেখানে ধনী ব্যক্তিদেরই প্রাধান্য থাকে। তাদের খাবারের অভাব নেই তবুও তারা অন্য ধনী ব্যক্তির বাড়িতে খাবারের জন্য আমন্ত্রিত হয়ে থাকেন। কিন্তু যারা ক্ষুধার জ্বালায় মরে তারা কিন্তু এসব ভোজসভায় সহসা নিমন্ত্রণ পায় না। এখানে ‘তেলা মাথায় তেল দেওয়া’ বলতে সমাজে ধনিক শ্রেণির এই বিশেষ প্রবণতাটিকেই বোঝানো হয়েছে।

গ.         উদ্দীপকে বনমালী বাবুর আচরণে অমানবিকতার দিকটি ফুটে উঠেছে।

সমাজে ধনী ব্যক্তিরা দরিদ্রদের অধিকার থেকে বঞ্চিত করে নিজেরা বিলাসী জীবন যাপন করে। দরিদ্ররা যে এ সমাজেরই অংশ তা তারা বিবেচনায় আনতে চায় না। অনেক সময় দেখা যায় দরিদ্রদের রক্ত পানি করা পরিশ্রমের অর্থে ধনীরা আরাম আয়েশ করে। ধনীরা মুখে নীতিকথা শোনায়, সুযোগ পেলে ধর্মের বুলি আওড়ায়। কিন্তু দরিদ্রদের প্রাপ্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করে। সমাজের উনড়বতির নামে তারা নিজেদের ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিল করে।
উদ্দীপকে বনমালী বাবু একজন ধনী ব্যক্তি। তিনি কন্যার উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় জিপিএÑ৫ প্রাপ্তি উপলক্ষে সমাজের প্রভাবশালী ব্যক্তিদের আপ্যায়ন করান। তার আমন্ত্রণ থেকে ছোট-খাট নেতারাও বাদ পড়ে না। কিন্তু কয়েকদিন পরে বাড়িতে একজন ভিখারি এলে তিনি তাকে তাড়িয়ে দেন। বনমালী বাবু সমাজের প্রভাবশালীদের আমন্ত্রণ করে খাইয়েছেন, কিন্তু যে অভুক্ত ও দরিদ্র সে অনড়ব ভোগ করতে পারেনি। উদ্দীপকে বনমালী বাবু উপলব্ধি করেননি যে দরিদ্ররাও মানুষ, তাদেরও ক্ষুধা-তৃষ্ণার যন্ত্রণা আছে। বনমালী বাবুর এ ধরণের আচরণ যেমন অমানবিক তেমনি তা অনৈতিকও বটে।
অন্যদিকে ‘বিড়াল’ প্রবন্ধেও দেখা যায়, বিড়াল ও কমলাকান্তের কথোপকথনে দরিদ্রদের প্রতি ধনীদের এই অবহেলার
স্বরূপটি ফুটে ওঠেছে। বলা যায়, বিড়াল প্রবন্ধে ধনীদের অমানবিক আচরণের বিষয়টি উদ্দীপকের বনমালী বাবুর আচরণে
প্রকাশিত হয়েছে।

ঘ.        ‘বিড়াল’ প্রবন্ধের শ্রেণি-বৈষম্য উদ্দীপকে ফুটে উঠেছে যা চেতনাগত দিক থেকে এক ও অভিনড়ব।
যে সমাজ শ্রেণি চরিত্রকে ধারণ করে সেখানে ধনিক শ্রেণি দরিদ্রদের শোষণ করে অর্থ সঞ্চয় করে। সমাজের উনড়বতির কথা বলে তারা নিজেদের আখের গুছিয়ে নেয়। এই ধনিক শ্রেণিটি মুখে ধর্মের কথা শোনায়, আদর্শের কথাও বলে। তাদের এ ধরনের মানসিকতার কারণে সমাজে দরিদ্ররা আরও নিঃস্ব হয়। একটি সুস্থ সমাজ বিনির্মাণে এটা অন্তরায় সৃষ্টি করে।
উদ্দীপকে সমাজের প্রভাবশালী ব্যক্তি বনমালী বাবু তার কন্যার জিপিএÑ৫ প্রাপ্তি উপলক্ষে বাড়িতে ভোজের আয়োজন করেছেন। সেখানে সমাজের গণ্যমান্য ব্যক্তি ও ছোট নেতারা পর্যন্ত আমন্ত্রিত হয়েছেন। কিন্তু এই ভোজ অনুষ্ঠানে দরিদ্রদের আহারের কোনো সুযোগ নেই, অথচ তারা অভুক্ত। বনমালী বাবু এই ভোজ অনুষ্ঠানের কয়েকদিন পর তার বাড়িতে আসা একজন ভিখারীকে খাবার না দিয়ে তাড়িয়ে দিয়েছেন। অন্যদিকে ‘বিড়াল’ প্রবন্ধে দেখি বিড়াল শোষিত শ্রেণি ও কমলাকান্ত ধনিক শ্রেণির প্রতিনিধি। বিড়াল ও কমলাকান্তের কথোপকথনে উঠে এসেছে ধনীরা কীভাবে দরিদ্রদের অধিকার ক্ষুণড়ব করে।
সমাজে দরিদ্রদের প্রতিবাদে কোন কাজ হয় না। বরং তারা যেন শোষক শ্রেণির যাঁতাকলে নিয়ত চμাকারে ঘুরতে থাকে। বস্তুত ‘বিড়াল’ প্রবন্ধে কমলাকান্ত ও বিড়ালের আলোচনায় এই চিরকালীন সমাজ সত্যটিই ফুটে উঠেছে।
‘বিড়াল’ প্রবন্ধে বিড়াল দরিদ্র শ্রেণি এবং কমলাকান্ত ধনিক শ্রেণির প্রতিনিধি। উদ্দীপকের বনমালী চরিত্রেও ধনিক শ্রেণির চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য ফুটে উঠেছে। উভয়টিতে দেখা যায় দরিদ্ররা বরাবরই শোষিত ও বঞ্চিত হয়েছে। মানুষকে মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করে ধনীরা ভোগ-বিলাসে লিপ্ত থেকেছে। দরিদ্রদের বাঁচার অধিকারটুকুকেও এই ধনিক শ্রেণি স্বীকৃতি দেয় না। যদিও এ শোষণ ও নিপীড়ন একটি মানবিক সমাজ গঠনের পক্ষে বেশ অন্তরায়। সবশেষে বলা যায়, উদ্দীপক ও ‘বিড়াল’ প্রবন্ধ চেতনাগত দিক থেকে এক ও অভিনড়ব।

অ্যাসাইনমেন্ট : সৃজনশীল প্রশ্ন

‘পদ্মা নদীর মাঝি’ উপন্যাসে হোসেন মিয়া একটি রহস্যময় চরিত্র। উপন্যাসে সে একটি দ্বীপের মালিক, যার নাম ময়না
দ্বীপ। ময়না দ্বীপে হোসেন মিয়া সকল শ্রেণির মানুষের আবাস গড়তে চায়। সে স্বপড়ব দেখে এখানে কোনো ধর্মীয় ভেদ
থাকবে না, কোনো অর্থনৈতিক বৈষম্য তৈরি হবে না। এখানকার সকল মানুষ সমাজে সম অধিকারে বসবাস করবে।
এখানে এমন একটি স্বপেড়বর রাজ্য প্রতিষ্ঠিত হবে যেখানে সকল সময়ে সাম্য, মৈত্রী ও ভ্রাতৃত্ব বজায় থাকবে।
ক. কার দোষে দরিদ্ররা চোর হয়?
খ. ‘খাইতে দাও, নহিলে চুরি করিব।’ Ñবুঝিয়ে বলুন।
গ. উদ্দীপকের সঙ্গে ‘বিড়াল’ রচনাটির মিলগুলো তুলে ধরুন।
ঘ. “হোসেন মিয়ার ভাবনাই ‘বিড়াল’ রচনাটিতে প্রকাশিত হয়েছে।” Ñউদ্দীপকের আলোকে মন্তব্যটি বিচার করুন।

উত্তরমালা : বহুনির্বাচনি প্রশ্ন

১. ক ২. ক ৩. ক ৪. গ ৫. খ ৬. গ ৭. গ ৮. খ ৯. গ ১০. ঘ ১১. ক ১২. ঘ ১৩. ক ১৪. গ ১৫. গ ১৬. ক

 

গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

• কমলাকান্ত ও বিড়ালটির মধ্যে কাল্পনিক কথোপকথন শুরু হয়।
• পৃথিবীর সকল অবহেলিত প্রাণীর প্রতি মমত্ববোধের আচরণ।
• একে অপরকে উপকার করার মাধ্যমে প্রকৃত ধর্মের উপলব্ধি করতে পারা।
• সমাজের সকল বঞ্চিত মানুষের প্রতি অবহেলা স্বরুপ আচরণ।
• ক্ষুধার্ত ও অবহেলিতের প্রতি সমবেদনার প্রকাশ ঘটেছে।
• সমাজের মানুষের প্রতি বিড়ালের অভিযোগ সমূহ।
• ক্ষুধার অনুভূতির সে সার্বজনীন রূপ ও নৈতিকতার ধারণার প্রকাশ।
• সমাজে সকলের অধিকার প্রতিষ্ঠা, অপরাধ বিষয়ক স্বরূপ।
• রচনায় রসাত্নক ও ব্যাঙ্গাত্নক অভিব্যক্তির প্রকাশ ঘটেছে

গুরুত্বপূর্ণ বহুনির্বাচনি প্রশ্ন

 

1. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় কত তারিখে জন্মগ্রহণ করেন?
১৮৩৮ খ্রিষ্টাব্দের ২৬ শে জুন √
১৮৩৯ খ্রিষ্টাব্দের ২৬ শে জুন
১৮৪০ খ্রিষ্টাব্দের ২৬ শে জুন
১৮৪১ খ্রিষ্টাব্দের ২৬ শে জুন
2. বাংলা ভাষার প্রথম শিল্পসম্মত উপন্যাস রচনার কৃতিত্ব কার?
প্যারীচাঁদ মিত্রের
কালীপ্রসন্ন সিংহের
বঙ্কিমচন্দ্র চট্রোপাধ্যায়ের √
শরৎচন্দ্র চট্রোপাধ্যায়ের
3. বঙ্কিমচন্দ্র চট্রোপাধ্যায় পেশাগত জীবনে কী ছিলেন?
ম্যাজিস্ট্রেট
ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট
কালেক্টর
ডেপুটি কালেক্টর √
4. বঙ্কিমচন্দ্র চট্রোপাধ্যায় কোন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন?
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয় √
করাচি বিশ্ববিদ্যালয়
যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়
5. বঙ্কিমচন্দ্র চট্রোপাধ্যায় পেশাগত জীবনে কী ছিলেন?
আইনজীবী
ব্যবসায়ী
প্রকৌশলী
ম্যাজিস্ট্রেট √
6. ‘বঙ্গদর্শন’ পত্রিকাটি প্রথম প্রকাশিত হয় কত সালে?
১৮৭০
১৮৭১
১৮৭২ √
১৮৭৩
7. কোন পত্রিকায় কবিতা প্রকাশের মাধ্যমে বঙ্কিমচন্দ্র চট্রোপাধ্যায়ের সাহিত্য জীবনের সূচনা ঘটে?
বঙ্গদর্শন
সংবাদ প্রভাকর √
তত্ত্ববোধিনী
সংবাদ কৌমুদী
8. বঙ্কিমচন্দ্র চট্রোপাধ্যায়ের গ্রন্থসংখ্যা কত?
৩৩টি
৩৪টি √
৩৫টি
৩৬টি
9. নিচের কোন উপন্যাসটি বঙ্কিমচন্দ্র চট্রোপাধ্যায় রচিত?
আনন্দমঠ √
চোখের বালি
দেনাপাওনা
রাঙা প্রভাত
10. বঙ্কিমচন্দ্র কোথায় মৃত্যুবরণ করেন?
ঢাকায়
খুলনায়
বরিশালে
কলকাতায় √

11. কমলাকান্ত চারপায়ীর উপর বসে কী করছিলেন?
বই পড়ছিলেন
ঝিমাচ্ছিলেন √
কথা বলছিলেন
শব্দ করছিলেন
12. কমলাকান্ত হুঁকা হাতে ঝিমাচ্ছিলেন কেন?
প্রচুর ঘুম আসায়
হুঁকা খেয়ে নেশার কারণে
ক্লান্তি অনুভব করায়
আহার প্রস্তুত না হওয়ায় √
13. কমলাকান্ত নেশার ঘোরে নিজেকে কী ভেবেছিলেন?
মার্জার
ওয়েলিংটন
নেপোলিয়ন √
ডিউক
14. কমলাকান্ত ওয়াটারলুর যুদ্ধ নিয়ে ভাবছিলেন কেন?
তখন ওয়াটারলুর যুদ্ধ চলছিল বলে
স্মৃতি মনে পড়ছিল বলে
নেশার ঘোরে ছিলেন বলে √
যুদ্ধ বিরতি চলছিল বলে
15. ওয়েলিংটন বিড়ালত্ব প্রাপ্ত হয়ে কমলাকান্তের নিকট কী ভিক্ষা করতে আসে?
আফিং √
দুধ
কাপড়
মাছের কাঁটা
16. ‘চক্ষু চাহিয়া ভালো করিয়া দেখিলাম যে ওয়েলিংটন নহে। একটি ক্ষুদ্র মার্জার।’ এখানে মার্জার আসলে কী?
ইঁদুর
বিড়াল √
টিকটিকি
পতঙ্গবিশেষ
17. কমলাকান্তের জন্য কে দুগ্ধ রেখে গিয়েছিল?
প্রসন্ন √
মঙ্গলা
কমলাকান্ত
নেপোলিয়ন
18. কমলাকান্ত কাকে ‘মার্জার সুন্দরী’ বলেছেন?
বিড়াল √
প্রসন্ন
নেপোলিয়ান
ওয়েলিংটন
19. “বুঝি তাহার ভিতর একটু ব্যঙ্গ ছিল।”-কীসে?
মেও স্বরে √
দুধ চুরিতে
অধার্মিকতায়
কৃপণতায়
20. প্রসন্ন যে গাভীর দুধ দোহন করেছিল তার নাম কী?
মার্জারী
মঙ্গলা √
ধবলী
শ্যামলী
21. কমলাকান্তের মতে মার্জারী স্বজাতি মন্ডলে কমলাকান্তকে কী বলে উপহাস করতে পারে?
চোর
কাপুরুষ √
অধার্মিক
অদূরদর্শী
22. ‘মার্জারী ক্ষুধার জ্বালা সহ্য করতে না পেরে চুরি করে খেয়ে ফেলেছে কমলাকান্তের জন্য রেখে যাওয়া দুধ। এখানে মার্জারীর যুক্তি কোনটি?
ক্ষুধা থাকলেই চুরি করতে হবে
ধনীর ধন বৃদ্ধিতে কিছু যায়-আসে না
খেতে না পেলে চুরি করতে হবে √
গরিব না খাওয়ার জন্য পৃথিবীতে এসেছে
23. সন্তু সারাদিন না খেতে পেয়ে ক্ষুধার জ্বালা মেটাতে হোটেল থেকে খাবার চুরি করে। সন্তুর সঙ্গে ‘বিড়াল’ রচনার কার মিল আছে?
প্রসন্নের
মঙ্গলার
বিড়ালের √
কমলাকান্তের
24. যাঁরা চোরের নামে শিহরিয়া ওঠেন তাঁরা অনেকে চোর অপেক্ষা কেমন?
ধার্মিক
অধার্মিক √
কপট
ভয়্ঙ্কর
25. ‘সংসারে ক্ষীর সর দুগ্ধ দধি মৎস মাংস সকলই তোমরা খাইবে’-এখানে তোমরা’ কারা?
বিড়ালরা
মানুষরা √
অধার্মিকরা
চোরেরা
26. রহিম চৌধুরীর অগাধ সম্পদের মালিক হলেও অসহায়-দরিদ্রদের সহযোগিতা করেন না। রহিম চৌধুরীর সাথে ‘বিড়াল’ রচনার কার সাদৃশ্য রয়েছে?
বিচারকের
কমলাকান্তের
কৃপণ ধনীর √
নেপোলিয়নের
27. আহারাভাবে বিড়ালের উদর কীরূপ হয়েছে?
বিনত
কৃশ √
ফুলা
লোমশ
28. আহারাভাবে বিড়ালের দাঁতের পরিণতি কী হয়েছে?
কৃশ হয়েছে
ঝুলে পড়েছে
বিনত হয়েছে
বাহির হয়েছে √
29. কমলাকান্তের বর্ণনা অনুযায়ী বিড়ালটির আকার ও বর্ণ কীরূপ?
ক্ষুদ্র কৃষ্ণবর্ণ √
মাঝারি কৃষ্ণবর্ণ
ক্ষুদ্র শ্বেতবর্ণ
মাঝারি শ্বেতবর্ণ
30. ওয়াটারলু সম্পর্কে বলা যায়-
i. এখানে নেপোলিয়নের জীবনের শেষ যুদ্ধ হয়।
ii. ১৮১৫ খ্রিস্টাব্দে এখানে যুদ্ধ হয়েছিল।
iii. এটি ব্রাসেলস থেকে ৫০ মাইল দক্ষিণে অবস্থিত।
নিচের কোনটি সঠিক?
i ও ii √
i ও iii
ii ও iii
i ii ও iii

টেস্ট পেপার থেকে বাছাইকৃত গুরুত্বপূর্ণ

সৃজনশীল ও বহুনির্বাচনী প্রশ্ন

সৃজনশীল 

০১ । ভ্লাদিমির ইলিচ লেনিন এর নেতৃত্বে ১৯১৭ সালে রুশ বিপ্লব সংগঠিত হয় । রাজতন্ত্রের পরিবর্তে সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয় ‘ ; যার মূলমন্ত্র সম্পদের সুষম বন্টন । প্রতিটি নাগরিকের মৌলিক চাহিদা পূরণ সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্রের দায় । বৃহত্তর জনগােষ্ঠীকে বঞ্চিত করে ব্যক্তিগত সম্পদের পাহাড় গড়ে তোেলা সেখানে নিষিদ্ধ ।
( ক ) বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় চাকুরিসূত্রে কোন স্থানের নীলকরদের অত্যাচার দমন করেছিলেন ? ১
( খ ) ‘ চোরে যে চুরি করে , সে অধর্ম কৃপণ ধনীর ’ বলতে কী বুঝানাে হয়েছে ? ২
( গ ) উদ্দীপকে উল্লিখিত রাষ্ট্রব্যবস্থা ’ ‘ বিড়াল ‘ প্রবন্ধে কীভাবে প্রতিফলিত হয়েছে ? তা ব্যাখ্যা কর । ৩
( ঘ ) উদ্দীপকের রাষ্ট্রব্যবস্থার সাথে ‘ বিড়াল ‘ প্রবন্ধের রাষ্ট্র ব্যবস্থার যে বৈসাদৃশ্য পরিলক্ষিত হয় তা বিশ্লেষণ কর৪

০২ । একটাও রয়্যাল গুলি কিনতে পারিনি কখনাে । লাঠি – লজেন্স দেখিয়ে দেখিয়ে চুষেছে লস্করবাড়ির ছেলেরা ভিখারীর মতন চৌধুরীদের গেটে দাঁড়িয়ে দেখেছি । ভিতরের রাস – উৎসব । অবিরত রঙের ধারার মধ্যে সুবর্ণ কঙ্কণ পরা ফর্সা রমণীরা কত রকম আমােদে হেসেছে আমার দিকে তারা ফিরেও চায়নি !
( ক ) মার্জারের মতে , সমাজের ধনবৃদ্ধির অর্থ কী ? ১
( খ ) ‘ পতিত আত্মা ’ বলতে কী বােঝানাে হয়েছে ? ২
( গ ) উদ্দীপকটি ‘ বিড়াল ‘ রচনার কোন বিষয়টিকে পরিস্ফুটিত করে তা ব্যাখ্যা কর ৩
( ঘ ) প্রেক্ষাপট ভিন্ন হলেও উদ্দীপক ও ‘ বিড়াল ‘ রচনার মূলভাব একইসূত্রে গাঁথা । – মন্তব্যটির যথার্থতা বিশ্লেষণ কর. ৪

০৩ । যুগ যুগ ধরে শ্রমজীবী মানুষের হাতে গড়ে উঠেছে মানবসভ্যতা । এদের হাড়ভাঙ্গা খাটুনির বিনিময়ে ধনিক শ্রেণি বিত্ত বিভবের মালিক হয়েছে । কিন্তু যুগের পর যুগ , এই কুলি – মজুররাই সবচেয়ে উপেক্ষিত ও বঞ্চিত ।
( ক ) বঙ্কিমচন্দ্র সম্পাদিত পত্রিকার নাম কী ? ১
( খ ) সামাজিক ধনবৃদ্ধি ব্যতীত সমাজের উন্নতি নাই ’ কে , কেন একথা বলেছে ?২
( গ ) উদ্দীপকে ‘ বিড়াল ‘ রচনার কোন দিকটি প্রতিফলিত হয়েছে ? ব্যাখ্যা কর।৩
( ঘ ) উদ্দীপকটি ‘ বিড়াল ’ রচনার সমস্তভাব ধারণ করে । | না । ” তােমার উত্তরের স্বপক্ষে যুক্তি দাও । ৪

০৪ । রনিকে তার বাবা একটি বিলেতি কুকুর কিনে দিয়েছে । কুকুরটির আদরের কমতি নেই । রনি কুকুরটিকে আদর করে কিটি বলে ডাকত । প্রতিদিন মাংস , রুটি , দুধসহ অনেক খাবার তাকে দেওয়া হয় কিন্তু কিটি তা খেতে পারে না । তাই প্রায়ই খাবার বেশি হয় এবং তা ময়লার ঝুড়িতে ফেলে দেওয়া হয় । রনিদের বাড়ির কাজের বুয়া আলাের ছােট ছেলেটি তার মাকে বলে , “ মা কিটির বেচে যাওয়া মাংস তুমি নিয়ে আসােনা কেন ? আমরা রান্না করে খাব , কতদিন মাংস খাইনি । ”
( ক ) বঙ্কিমচন্দ্র ইংরেজিতে কোন উপন্যাসটি রচনা করেছিলেন ?১
( খ ) কৃপণ ধনীরা চোর অপেক্ষা বেশী দোষী কেন ? ২
( গ ) উদ্দীপকের কুকুর কিটি ও ‘ বিড়াল ‘ প্রবন্ধের বিড়াল চরিত্রের বৈসাদৃশ্য তুলে ধর । ৩
( ঘ ) উদ্দীপক ও ‘ বিড়াল ’ প্রবন্ধের মধ্য দিয়ে যে চেতনাটি বিকশিত হয়েছে তা বর্তমান প্রেক্ষাপটে কতটুকু যুক্তিযুক্ত তা বিশ্লেষণ কর । ৪

০৫ । যে মৃত্যু ক্ষুধার জ্বালায় এই পৃথিবী টলমল করছে , ঘুরপাক খাচ্ছে , তার গ্রাস থেকে বাঁচবার সাধ্য কারুরই নেই । তােমরা মনে রেখাে , তােমরা আমায় উদ্ধারের জন্য এখানে আসনি । কারণ তােমাদের সে মন্ত্র আমি কোনদিনই শিখাইনি । তােমরা তােমাদের উদ্ধার করাে । সেই হবে আমারও উদ্ধার । তােমাদের মুক্তির সঙ্গে সঙ্গে আমিও মুক্ত হবাে ।
( ক ) নৈয়ায়িক ’ শব্দের অর্থ কী ? ১
( খ ) “ তােমার কথাগুলি ভারি  সােশিয়ালিস্টিক ! সমাজ বিশৃঙ্খলার মূল ? ” – ব্যাখ্যা কর ।২
( গ ) উদ্দীপকের বক্তা আর ‘ বিড়াল ‘ প্রবন্ধের মার্জারীর প্রত্যাশার মিল কোথায় ? তা ব্যাখ্যা কর । ৩
( ঘ ) উদ্দীপকের শ্রোতা আর ‘ বিড়াল ‘ প্রবন্ধের মার্জারী সমাজের নিরন্ন মানুষের প্রতিনিধি ” – মন্তব্যটি বিশ্লেষণ কর ।৪

০৬ । আমাদের সমাজে এমন কিছু মানুষ আছে যারা অভাবের কারণে ঠিকমতাে খেতে পায় না । তাদের স্বাস্থ্য ভঙ্গ , দেহ । কঙ্কালসার । দেখলেই মনে হয় কঠিন কোনাে রােগে আক্রান্ত তারা । সমাজের উচ্চ শ্রেণির মানুষ আবার তাদের দেখে ঘৃণা করে । ছােটলােক বলে তাদের গালি দেয় । কিন্তু শিক্ষিত তরুণ জমির ভাবে , তাদের এই অবস্থার কারণ পুঁজিবাদী সমাজ ব্যবস্থার শােষণ । সমাজের এই উচ্চ শ্রেণির মানুষরাই তাদের মুখের অন্ন কেড়ে নিয়েছে । তাই সুযােগ পেলেই জমির তাদের সঙ্গে তর্কে লিপ্ত হয় ।
( ক ) নেপােলিয়ন কোন যুদ্ধে পরাজিত হয়েছিলেন ? ১
( খ ) ‘ তেলা মাথায় তেল দেওয়া মনুষ্য জাতির রােগ | বলতে কী বােঝানাে হয়েছে ?
( গ ) উদ্দীপকের উচ্চশ্রেণির প্রতি যে অভিযােগসমূহ ব্যক্ত হয়েছে তা ‘ বিড়াল ‘ রচনার আলােকে ব্যাখ্যা কর । ৩
( ঘ ) উদ্দীপকের জমির চরিত্রটি ‘ বিড়াল ‘ রচনার ‘ বিড়াল চরিত্রটিরই প্রতিরূপ ” – তা বিড়াল রচনার আলােকে । বিশ্লেষণ কর ।

০৭ । লিজার বাবা জামান সাহেব একজন সরকারি চাকরিজীবী । প্রতিবছর ঈদের ছুটিতে তিনি পরিবারসহ গ্রামে আসেন । গরিব – দুঃখীর মাঝে কাপড় বিতরণ করেন । নিজ হাতে দীন – দুঃখী মানুষকে ঈদের দিনে তৃপ্তি সহকারে খাওয়ান । তার এহেন স্বভাবকে অনেকে অহেতুক ব্যয় বলে মনে করেন । কিন্তু তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেন , গরিব মানুষের প্রতি এটি তার দয়া কিংবা করুণা নয় । এটি তাদের ন্যায্য অধিকার বা পাওনা ।
( ক ) ষষ্টি ’ শব্দের অর্থ কী ?
( খ ) বিড়াল কেন কমলাকান্তকে প্রহার না করে তার প্রশংসা করতে বলে ?
( গ ) উদ্দীপকের ‘ জামান সাহেবের সঙ্গে ‘ বিড়াল ’ প্রবন্ধের তথাকথিত ধনিক সম্প্রদায়ের বৈসাদৃশ্য কোথায় ? ব্যাখ্যা কর ।
( ঘ ) “ বিড়াল প্রবন্ধের বর্ণিত ধনিকশ্রেণি যদি উদ্দীপকের জামান সাহেবের মত মানসিক চেতনার অধিকারী হতাে , তবে আমাদের সমাজ পাল্টে যেত । তােমার উত্তরের স্বপক্ষে যুক্তি দাও ।

০৮ । দণ্ডিতের সাথে দণ্ডদাতা কাঁদে যবে সমান আঘাতে সর্বশ্রেষ্ঠ সে বিচার ।
( ক ) ‘ প্রকটিত ’ শব্দের অর্থ কী ?
( খ ) ‘ অতএব , পুরুষের ন্যায় আচরণ করাই বিধেয় । ’ – কী প্রসঙ্গে বলা হয়েছে ?
( গ ) উদ্দীপকের কোন ভাবটি ‘ বিড়াল ‘ রচনার সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ ? ব্যাখ্যা কর ।
( ঘ ) অপরাধীর শাস্তিতে বিচারক ব্যথিত হলে তবেই সে বিচারকে শ্রেষ্ঠ বলা যায় ‘ – উক্তিটি উদ্দীপক ও ‘ বিড়াল ‘ রচনার আলােকে বিশ্লেষণ কর । ৪

০৯ । শুধু বিঘে দুই ছিল মাের ভুই আর সবই গেছে ঋণে বাবু কহিলেন , বুঝেছ উপেন এ জমি লইব কিনে. কহিলাম আমি তুমি ভূ – স্বামী ভূমির অন্ত নাই । চেয়ে দেখ মাের আছে বড়জোর মরিবার মত ঠাঁই ।
( ক ) কোনটি ব্যতিত সমাজের উন্নতি নেই ? ১
( খ ) সমাজের ধন বৃদ্ধির অর্থ ধনীর ধনবৃদ্ধি বলতে প্রাবন্ধিক কী বুঝিয়েছেন?২
( গ ) উদ্দীপকের উপেন ও ‘ বিড়াল ‘ প্রবন্ধে মার্জার ’ কী একই অবস্থায় পতিত ? ব্যাখ্যা কর.৩
( ঘ ) উদ্দীপকের বাবু যেন বিড়াল প্রবন্ধে ভােগবাদী সমাজেরই প্রতিরূপ ’ – উক্তিটির স্বপক্ষে যুক্তি দাও ।৪

১০ । খুলনা পাটকল বন্ধ হয়ে যাবার পর শ্রমিকদের মানবেতর জীবন – যাপন এবং অভিনব ভুখামিছিলের চিত্র ।
( ক ) নেপােলিয়ন কোথায় মৃত্যুবরণ করেন ?
( খ ) ‘ সােহাগের বিড়াল ’ ও ‘ গৃহমার্জার ’ শব্দ দুটি বিড়াল রচনায় কী অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে ?
( গ ) উদ্দীপকের চিত্রের সাথে বিড়াল রচনার যােগসূত্র ব্যাখ্যা কর ।
( ঘ ) উদ্দীপকের ঘটনার মধ্যে বিড়াল প্রবন্ধের বিড়ালের মতাদর্শ প্রতিফলিত হয়েছে । ‘ – বক্তব্যটি বিশ্লেষণ কর। ৪

১১ । প্রতিদিন সকালে বিকালে রমনা পার্কে অতিরিক্ত ভােজনের কারণে শরীরে জমে উঠা মেদ ভূড়ি কমানাের জন্যে ধনী লােকেরা প্রাণান্তকর কসরত করে । আর কাছে থেকেই ক্ষুধার জ্বালায় কাতরাতে কাতরাতে সেই কসরত দেখে পার্কের শীর্ণ দেহী স্থায়ী বাসিন্দারা ।
( ক ) কমলাকান্তের দপ্তর গ্রন্থটি কয়টি অংশে বিভক্ত ? ১
( খ ) এ সংসারে ক্ষীর , সর , দুগ্ধ , দধি , মৎস্য , সকলই তােমরা খাইবে , আমরা কিছু পাইব না কেন ? ২
( গ ) উদ্দীপকের কথিত স্থায়ী বাসিন্দারা বিড়াল প্রবন্ধে বর্ণিত কোন ভাবটিকে নির্দেশ করে তা বর্ণনা কর । ৩
( ঘ ) উদ্দীপকে এবং বিড়াল প্রবন্ধে একই সমাজ বাস্তবতার প্রতিফলন ঘটেছে । এ সম্পর্কে তােমার মতামত দাও. ৪

১২ । এ জগতে হায় সেই বেশি চায় আছে যার ভুরি ভুরি । রাজার হস্ত করে সমস্ত কাঙালের ধন চুরি ’
( ক ) মনুষ্যজাতির রােগ কী ?১
( খ ) কমলাকান্ত বিড়ালকে আফিং দিতে চেয়েছে কেন ? ২
( গ ) উদ্দীকের বক্তব্যের সাথে ‘ বিড়াল ‘ প্রবন্ধের বিড়ালের বক্তব্যের কোন সাদৃশ্য আছে কী ? ব্যাখ্যা কর । ৩
( ঘ ) উদ্দীপকের বর্ণনার প্রতি কমলাকান্তের মনােভাব বিশ্লেষণ কর ।৪

বহুনির্বাচনি

নিচের উদ্দীপকের আলােকে ০১ ও ০২ নং প্রশ্নের উত্তর দাওঃ 
ভূখা আছ মর গাে – ভাগাড়ে গিয়ে নামাজ পড়িস বেটা ?
’ ভুখারি কহিল , “ না বাবা ! ’ মােল্লা হাঁকিল – ‘ তা হলে শালা সােজা পথ দেখ ! ” গােস্ত – রুটি নিয়া মসজিদে দিল তালা ।
০১ । উদ্ধৃতাংশে বিড়াল রচনার যে চেতনার প্রকাশ ঘটেছে তা হলাে 
( i ) শ্রেণিবৈষম্য
( ii ) সাম্যবাদিতা
( iii ) মানবিকতা
নিচের কোনটি সঠিক
( ক ) i√
( খ ) i , iii
( গ ) ii , iii
( ঘ ) i , ii , iii
০২ । নিচের কোন বাক্যে উক্ত চেতনার বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে
( ক ) অতএব পুরুষের ন্যায় আচরণ করাই বিধেয় √
( খ ) তােমরা মনুষ্য আমরা বিড়াল , প্রভেদ কী ?
( গ ) খাইতে পাইলে কে চোর হয় ?
( ঘ ) পরােপকারই পরম ধর্ম
০৩ । বিড়াল রচনায় কোনটিকে মনুষ্যজাতির রােগ হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে
( ক ) মানুষের উপকার করা
( খ ) মানুষের অপকার করা
( গ ) ক্ষুধার্তকে খাবার না দেওয়া
( ঘ ) তেলা মাথায় তেল দেওয়া কোন √
০৪।পত্রিকার মাধ্যমে বঙ্কিমচন্দ্রের সাহিত্য জীবনের সূচনা ঘটে
( ক ) সমাচার দর্পণ
( খ ) সংবাদ প্রভাকর √
( গ ) সমকাল
( ঘ ) সংবাদ কৌমুদী
০৫ । কৃপণের দন্ড হওয়া উচিত । কেননা কৃপণেরা – 
( i ) চুরি করার মূল কারণ
( ii ) ধর্মের কথা বলে বেড়ায়
( iii ) ধন সঞ্চয় করে রাখে
নিচের কোনটি সঠিক ?
(ক) i , ii
( খ ) i , iii
( গ ) ii , iii
( ঘ ) i , ii , ii √
০৬ । গাহি সাম্যের গান . যেখানে আসিয়া এক হয়ে গেছে সব বাধা – ব্যবধান । বিড়াল প্রবন্ধের কোন ভাবটি ব্যক্ত হয়েছে
( ক ) সম্পদের সমতা
( খ ) শ্রেণি বৈষম্য √
( গ ) জাতি ধর্মের বড়াই
( ঘ ) সমাজতন্ত্রবাদ
০৭ । বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় কোন পত্রিকা সম্পাদনা করেন ?
( ক ) বঙ্গদর্শন√
( খ ) বেঙ্গল গেজেট
( গ ) দিগদর্শন
( ঘ ) সংবাদ প্রভাকর
০৮ । আমি যদি খাইতে না পাইলাম , তবে সমাজের উন্নতি লইয়া কী করিব ? মার্জারীর এ উক্তিতে প্রকাশিত হয়েছে
( ক ) ক্রোধ
( খ ) শ্রেণি বৈষম্য√
( গ ) ঈর্ষা
( ঘ ) স্বার্থপরতা
০৯ । মার্জার সুন্দরীর পানকৃত দুধের প্রকৃত মালিক কে ?
( ক ) কমলাকান্ত
( খ ) প্রসন্ন গােয়ালিনী
( গ ) মার্জার সুন্দরী
( ঘ ) মঙ্গলা √
১০ । বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত প্রথম উপন্যাস কোনটি
( ক ) মৃণালিনী
( খ ) কৃষ্ণকান্তের উইল
( গ ) দুর্গেশনন্দিনী√
( ঘ ) কপালকুণ্ডলা
১১ । বিড়াল রচনার মূল বিষয়বস্তু হলাে
( i ) ছাত্রছাত্রীদের নিরন্ন মানুষের প্রতি সহানুভূতি জাগানাে
( ii ) ছাত্রছাত্রীদের পশুপাখির প্রতি সহানুভূতি জাগানাে
( iii) ছাত্র ছাত্রীদের সমাজের দৃষ্টিভঙ্গি সম্পর্কে ধারণা দেওয়া ।
নিচের কোনটি সঠিক ? 
( ক ) i , ii
( খ ) i , ii
( গ ) i , ii
( ঘ ) i , ii , iii√
১২ । বিড়াল রচনায় নৈয়ায়িক শব্দটি কী অর্থে ব্যবহৃত
( ক ) দর্শন ও নীতিশাস্ত্রে অভিজ্ঞ
( খ ) ন্যায়বিচারে দক্ষ
( গ ) অলংকারশাস্ত্রে পারদর্শী
( ঘ ) ন্যায় শাস্ত্রে পণ্ডিত √
১৩ । তাহের আলি একজন বঞ্চিত , নিষ্পেষিত , পীড়িত মানুষ । বিড়াল রচনার কোন চরিত্রটির অবস্থা তাহের আলির মতাে
( ক ) বিড়াল √
( খ ) কমলাকান্ত
( গ ) মঙ্গলা
( ঘ ) প্রসন্ন
১৪ । বিড়াল প্রবন্ধের শিখনফল 
( i ) মানবতাই পরম ধর্ম
( ii ) মানুষ মানুষের জন্য
( iii ) সত্য ও সুন্দরভাবে বেঁচে থাকাই জীবন
নিচের কোনটি সঠিক
( ক ) i , ii √
( খ ) i , iii
( গ ) ii , iii
( ঘ ) i , ii , iii
১৫ । পুজিবাদী সমাজে ধনীরা আরও ধনী হচ্ছে , দরিদ্র হচ্ছে আরও দরিদ্র । নিচে কোন রচনায় এমন ভাবনার পরিচয় পাওয়া যায় ?
( ক ) চাষার দুক্ষু
( খ ) আহবান
( গ ) আমার পথ
( ঘ ) বিড়াল√
১৬ । ওয়াটারলু যুদ্ধ কতসালে সংঘটিত হয়
( ক ) ১৮১৩ সালে
( খ ) ১৮১৫ সালে√
( গ ) ১৮১৭ সালে
( ঘ ) ১৮১৯ সালে
১৭ । কেহ মরে বিল ঘেঁচে , কেহ খায় কই ” – বিড়াল রচনায় এই কই খাওয়ার সাথে সম্পর্কযুক্ত ।
( ক ) মার্জার
( খ ) ওয়েলিংটন
( গ ) কমলাকান্ত√
( ঘ ) প্রসন্ন
১৮ । তাঁহারা অনেকে চোর অপেক্ষাও অধার্মিক ” – কারা
( ক ) কৃপণ ধনী
( খ ) চোর
( গ ) বড় বড় সাধু √
( ঘ ) নৈয়ায়িক
১৯ । বিড়াল প্রবন্ধের উদ্দেশ্য হলাে 
( ক ) ধনী – দরিদ্রের বৈষম্য দূর করা √
( খ ) সমাজের দৈন্য দূর করা
( গ ) ক্ষুদ্র প্রাণীদের মূল্যায়ন করা
( ঘ ) পন্ডিতবর্গকে যথাযথ মূল্যায়ন করা
২০ । সমাজের ধনবৃদ্ধির অর্থ ধনীর ধনবৃদ্ধি ’ – কথাটি যা নির্দেশ করে 
( i ) গরিবদের বঞ্চনা
( ii ) সামাজিক বৈষম্য
( iii ) ধনীদের উদারতা
নিচের কোনটি সঠিক
( ক ) i , ii √
( খ ) i , ii
( গ ) ii , iii
( ঘ ) i , ii , iii
২১ । বিড়াল রচনাটির শেষাংশ কীসের খােরাক জোগায়
( ক ) প্রবল হাস্যরসের
( খ ) গভীর ভাবনার √
( গ ) গভীর অনুরাগের
( ঘ ) গভীর বেদনার
২২ । বিড়ালের প্রতি পুরুষের ন্যায় আচরণ করাই বিধেয় বলতে কী বােঝানাে হয়েছে
( ক ) প্রথাগত আচরণ √
( খ ) স্বাভাবিক আচরণ
( গ ) স্বভাব বিরুদ্ধ আচরণ
( ঘ ) অস্বাভাবী আচরণ
২৩ । বিড়াল প্রবন্ধে কমলাকান্ত বিড়ালকে কোন কোন লেখকের গ্রন্থ দিতে চাইলেন
( ক ) নিউম্যান ও পার্কর
( খ ) নিউমান ও পার্কার
( গ ) নিউম্যান ও পার্কার
( ঘ ) নিউমান ও পার্কর√
২৪ । দিব্যকর্ণ বলতে কী বুঝায়
( ক ) দিনের বেলায় শুয়ে শ্রবণ করা
( খ ) রাতের বেলায় শুয়ে শ্রবণ করা
( গ ) ঐশ্বরিক ভাবে শ্রবণ করা । √
( ঘ ) না দেখে শ্রবণ করা ।
২৫ । মার্জারি স্ব – জাতিমন্ডলে কমলাকান্তকে কী বলে উপহাস করতে পারে
( ক ) চোর
( খ ) কাপুরুষ √
( গ ) ধার্মিক
( ঘ ) দুরদর্শী
২৬ । জামান সাহেব এলাকার ধনবান ব্যক্তি হলেও এক টাকাও ভিক্ষা দেয় না । জামান সাহেবরে সঙ্গে বিড়াল প্রবন্ধের কার মিল আছে
( ক ) কৃপন ধনী √
( খ ) ধনী
( গ ) দরিদ্র
( ঘ ) কমলাকান্ত
২৭ । চোর অপেক্ষা কৃপণ ধনী কতটুকু দোষী
( ক ) দশগুণ
( খ ) সত্তরগুণ
( গ ) আশিগুণ
( ঘ ) শতগুণ √
উদ্দীপকটি পড় এবং ২৮ নং প্রশ্নের উত্তর দাও :
এক কক্ষে ভাই লয়ে , অন্য কক্ষে ছাগ দুজনের বাটি দিল সমান সােহাগ ।
২৮ । উদ্দীপকের কোন দিকটি বিড়াল রচনায় বিড়ালের কামনার সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ
( ক ) মানুষের স্নেহ দৃষ্টির পার্থক্য ‘
( খ ) তুচ্ছ জীবনকে আরাে তুচ্ছ ভাবা
( গ ) পশু ও মানুষ দুই সমান √
( ঘ ) চোরের শাস্তি প্রাপ্য ।
২৯।বিড়াল প্রবন্ধের মার্জারের মেও বলার মধ্যে কী ছিল
( ক ) কৌতুক
( খ ) ব্যঙ্গ ,
( গ ) অবজ্ঞা√
( ঘ ) গুরুত্ব
৩০। খাইতে দাও নহিলে চুরি করিব ‘ — এখানে বিড়ালের কথায় কোন ধরণের মনােভাব প্রকাশ পেয়েছে
( ক ) প্রতিশ্রুতি আদায়
( খ ) দাম্ভিক আচরণ
( গ ) প্রতিবাদ করা √
( ঘ ) প্রতিশােধ নেওয়া ,
৩১ । বিড়াল প্রবন্ধে কার কথা ভারি স্যোশিয়ালিস্টিক
( ক ) কমলাকান্ত
(খ ) ডিউক
( গ ) মার্জার√
( ঘ ) ধনী ব্যক্তি

বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষার জন্য বিড়াল প্রবন্ধের

গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

লেখক সম্পর্কে আরো কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
 বঙ্গিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ছিলেন মূলত- ঔপন্যাসিক ও বাঙালির নবজাগরণের অন্যতম অগ্রদূত।
 তাঁর রচিত প্রথম ইংরেজি উপন্যাস Rajmohon’s Wife (1854).
 তাঁর রচিত “দুর্গেশনন্দিনী” (১৮৬৫) বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক উপন্যাস হিসেবে স্বীকৃত।
 তাঁর রচিত দ্বিতীয় উপন্যাস কপালকু-লা (১৮৬৬)।
 তাঁর রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ‘ললিতা তথা মানস’ (১৮৫৬)।
 বাংলা সাহিত্যের প্রথম রোমান্টিক সংলাপ- পথিক তুমি পথ হারাইয়াছ? (কপালকু-লা) নবকুমারকে উদ্দেশ্য করে।
 এই উপন্যাসের আর একটি উল্লেখ্যযোগ্য কাব্য- তুমি অধম তাই বলিয়া আমি উত্তম না হইব কেন?
 সামাজিক সমস্যার আলোকে তাঁর রচিত উপন্যাসগুলো হল- বিষবৃক্ষ (১৮৭৩), কৃষ্ণকান্তের উইল (১৮৭৮)।
 বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের মনস্তত্ত্ব বিশ্লেষণ মূলক উপন্যাস- রজনী (১৮৭৭)
 তিনি যে সাহিত্য পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ছিলেন- ‘বঙ্গদর্শন’ (১৮৭২)।
 বঙ্কিমচন্দ্রের রম্যব্যঙ্গ রচনা সংকলনের নাম- ‘কমলাকান্তের দপ্তর’
 উপন্যাস রচনায় বঙ্কিমচন্দ্র কার দ্বারা প্রভাবিত হয়েছিলেন- ইংরেজি ঔপন্যাসিক স্যার ওয়াল্টার স্কট কর্তৃক।
 তাঁর উৎকৃষ্ট রচনার বিষয়গুলো হল- ধর্ম, দর্শন, সাহিত্য, ভাষা, সমাজ ইত্যাদি।
 বঙ্কিমচন্দ্রের পরে কে বঙ্গদর্শন সম্পাদনা করেছিলেন- বঙ্কিমচন্দ্রের পরে বঙ্গদর্শন সম্পাদনা করেছিলেন তাঁর অগ্রজ সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়।
 বঙ্কিমচন্দ্রের চারটি ইতিহাস আশ্রয়ী রোমান্সধর্মী উপন্যাসের নাম- দুর্গেশনন্দিনী, কপালকু-লা, চন্দ্রশেখর ও রাজসিংহ।
 বঙ্কিমচন্দ্রের খাঁটি ঐতিহাসিক উপন্যাস- রাজসিংহ।
 বঙ্কিমচন্দ্রের দুটি তত্ত্বমূলক উপন্যাস- আনন্দমঠ ও দেবী চৌধুরাণী।
 বঙ্কিমচন্দ্রের রজনী উপন্যাসটি যে ইংরেজি উপন্যাসের ছায়া অবলম্বনে রচিত- ইংরেজ ঔপন্যাসিক লিটন রচিত The last Days of Pompeii অবলম্বনে রচিত।
 ‘দুর্গেশনন্দিনী’ উপন্যাসের বিরোধী- ইসমাইল হোসেন সিরাজী রচিত ‘রায়নন্দিনী’ উপন্যাস।
 বঙ্কিমচন্দ্র তাঁর ‘সাম্য’ গ্রন্থটি বাজার থেকে প্রত্যাহার করে নেন।
গল্পে গল্পে বঙ্কিমচন্দ্রের রচনাসমূহ
 উপন্যাস:
দেবী চৌধুরাণীর স্বামী রাজসিংহের আদেশে দুর্গেশনন্দিনী-কপালকু-লার জন্য বিষবৃক্ষের নিচে রজনীতে আনন্দমঠ তৈরি করেন।
সীতারামের স্ত্রী মৃণালিনী,ইন্দিরাকে এ কথা বললে রাধারাণীর স্বামী চন্দ্রশেখর যুগলাঙ্গুরীয়র পরিবর্তে কৃষ্ণকান্তের উইল ফিরিয়ে নেয়।
 প্রবন্ধ:
বঙ্গদেশের কৃষকেরা, বিবিধ প্রবন্ধ;কৃষ্ণচরিত, লোকরহস্য, বিজ্ঞানরহস্যেরসাম্য বুঝতে না পেরে কমলাকান্তের দপ্তরে হাজির হল।
 উৎস:
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের রসাত্মক ও ব্যঙ্গধর্মী রচনার সংকলন ‘কমলাকান্তের দপ্তর’। তিনি অংশে বিভক্ত এই গ্রন্থটিতে যে কটি প্রবন্ধ আছে, তার মধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য রচনা ‘বিড়াল’।
 প্রথম লাইন:
আমি শয়নগৃহে, চারপায়ীর উপর বসিয়া, হুঁকা হাতে ঝিমাইতেছিলাম।
 শেষ লাইন:
একটি পতিত আত্মাকে অন্ধকার হইতে আলোকে আনিয়াছি, ভাবিয়া কমলাকান্তের বড় আনন্দ হইল!
 ভাষারীতি: সাধুরীতি

গুরুত্বপূর্ণ সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর:

প্র : বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় কত সালে জন্মগ্রহণ করেন?- ১৮৩৮।
প্র : বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় কত সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে বিএ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন?- ১৮৫৮।
প্র : বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় কীভাবে খুলনার মানুষের জীবনে শান্তি ফিরিয়ে এনেছিলেন?- নীলকরদের অত্যাচার দমন করে।
প্র : বাংলা ভাষায় প্রথম শিল্পসম্মত উপন্যাস কোনটি?- দুর্গেশনন্দিনী।
প্র : ‘জধলসড়যড়হ’ং ডরভব’ নামক উপণ্যাসটি কে রচনা করেছেন?- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
প্র : বঙ্কিমচন্দ চট্টোপাধ্যায় কত সালে মৃত্যুবরণ করেন?-১৮৯৪।
প্র : বাংলার ওয়াল্টার স্কট কাকে বলা হয়?- বঙ্কিমচন্দ্র বট্টোপাধ্যায়কে।
প্র : ‘বিবিধ প্রবন্ধ’ তাঁর কী জাতীয় রচনা?- গদ্যগ্রন্থ।
প্র : বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের গ্রস্থসংখ্যার পরিমাণ কত?- ৩৪।
প্র : বঙ্গিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের উপন্যাসের সংখ্যা কত?- ১৪
প্র : ‘বঙ্গদর্শন’ পত্রিকা কত সালে প্রকাশিত হয়?-১৯৩৫ সালে।
প্র : জধলসড়যড়হং রিভব কত সালে প্রকাশিত হয়?- ১৯৩৫ সালে।
প্র : বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের প্রথম কবিতা কোন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়?- সংবাদ প্রভাকর।
প্র : বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের প্রথম বাব্যগ্রন্থ কী?- ললিতা তথা মানস (১৮৫৬)।
প্র : কমলাকান্তের দপ্তর কয় অংশে বিভক্ত?- তিন অংশে।
প্র : বিড়াল রচনার প্রথম অংশ কেমন?- নিখাদ হাস্যরসাত্মক।
প্র : ওয়েলিংটন কী নামে পরিচিত?-ডিউক অব ওয়েলিংটন।
প্র : পেপোলিয়ান কত বছর নির্বাসিত হন?- ৬ বছর।
প্র : মার্জারের প্রথম উক্তি কী ছিল?- ‘কেহ মরে বিল ছেঁচে, কেহ খায় কই’।
প্র : মার্জারের মতে কাদের নিকট শিক্ষালাভ ছাড়া মানুষের বিকল্প নেই?- বিজ্ঞ চতুষ্পদ।
প্র : ‘ধর্ম কী’ এর উত্তরে বিড়াল কী বলেছিল?- পরোপকারই পরমধর্ম।
প্র : কে কমলাকান্তের ধর্মসঞ্চয়ের মূলীভূত করেন?- মার্জার।
প্র : চোরে যে চুরি করে, সে অধর্ম কার?- কৃপণ ধনীর।
প্র : ‘তোমাদের পেট ভরা আমার পেটের ক্ষুধা কী প্রকার জানিবে হায়’ – লাইনটিতে কতগুলো বিরামচিহ্ন বসবে?- তিনটি।
প্র : তেলা মাথায় তেল দেওয়া কার রোগ? মনুষ্যজাতির।
প্র : কমলাকান্তের দপ্তর পড়িলে কী উপকার হবে?- আফিমের অসীম মহিমা বোঝা যাবে।
প্র : কমলাকান্ত কোথায় ঝিমাচ্ছিল?- শয়নগৃহে।
প্র : কমলাকান্ত কোথায় বসে ঝিমাচ্ছিল?- চারপায়ীর উপর।
প্র : একটু মিট মিট করে কেমন আলো জ্বলছিল?- ক্ষুদ্র।
প্র : কমলাকান্ত শয়নগৃহে ঝিমাচ্ছিল কেন?- আফিমের ঘোরে।
প্র : ‘বিড়াল’ রচনায় দেওয়ালের উপর ছোয়া কিসের মতো নাচছিল?- প্রেতের মতো।
প্র : ‘বিড়াল’ রচনায় যে যুদ্ধের ইঙ্গিত আছে- ওয়াটারলু’র যুদ্ধ।
প্র : ওয়েলিংটন বিড়ালত্ব প্রাপ্ত হয়ে কমলাকান্তের কাছে কী চাইতে এসেছিল?- আফিম।
প্র : কমলাকান্তের ভাবনাজগতে বিড়ালত্ব প্রাপ্ত হয়েছিল কে?- ওয়েলিংটন।
প্র : আফিমের ঘোরে কমলাকান্ত বিড়ালকে কী মনে করেছিল?- ডিউক।
প্র : মাছের কাঁটা, পাতের ভাত বিড়ালকে না দিয়ে নর্দমা বা জলে ফেলে দেওয়ার কারণে মানুষের মধ্যে বিড়াল কী দেখতে পায়?- সমবেদনার অভাব।
প্র : কমলাকান্তের জন্য দুধ রেখেছিল কে?- প্রসন্ন।
প্র : মার্জারে দুধ খেয়ে ফেললেও কমলাকান্ত দেখতে পায়নি। কারণ সে ব্যস্ত ছিল- ওয়াটারলু’র মাঠে ব্যূহ রচনায়।
প্র : কমলাকান্তর জন্য রাখা দুধ কেমন ছিল?- নির্জল।
প্র : ‘বিড়াল’ রচনার পরের অংশ কেমন?- গূঢ়ার্থে সন্নিহিত।
প্র : ‘বিড়াল’ রচনায় বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের বাণী কীরূপ?- আত্মরক্ষামূলক, স্লোষাত্মক।
প্র : ‘পতিত আত্মা’ বলতে কাকে বোঝানো হয়েছে?- বিড়ালকে।
প্র : নেপোলিয়ান কার হাতে পরাজিত হন?- ওয়েলিংটন।
প্র : ‘বিড়াল’ রচনায় দুর্ধের প্রকৃত মালিক হিসেবে ধরা যায়- মঙ্গলাকে।
প্র : কমলাকান্ত মার্জারীকে মারতে গিয়ে অনেক অনুসন্ধানে কী পেল?- একটা যষ্টি।
প্র : “সে যদি দেখিয়া বিশেষ ভীত হওয়ার কোনো লক্ষণ প্রকাশ করিল না।”-এই যষ্টি কথাটির অর্থ হলো- লাঠি।
প্র : মার্জারী পশু হওয়া সত্ত্বেও কমলাকান্ত তার বক্তব্য শুনতে পেয়েছিল-দিব্যকর্ণ প্রাপ্তির কারণে।
প্র : ‘বিড়াল’ রচনায় মাছের কাঁটা, পাতের ভাত মানুষ কোথায় ফেলে দেয়?- নর্দমায়।
প্র : মার্জারীর মতে মনুষ্যজাতির রোগ কোনটি?- তেলা মাথায় তেল দেওয়া।
প্র : ‘বিড়াল’ রচনায় কোন ধরনের বিড়ালের শরীরে পুষ্টি বেশি?- যারা সোহাগের বিড়াল হতে পারে।
প্র : সমাজের ধনবৃদ্ধির অর্থ কার ধন বৃদ্ধি?- ধনীদের।
প্র : অনেক মার্জার কবি হয়ে যায় কেন?- গৃহমার্জারের রূপের ছটা দেখে।
প্র : কমলাকান্ত মার্জারকে সকল দুশ্চিন্তা পরিহার করে কিসে মন দিতে বলে?- ধর্মচরণে।
প্র : কোনো বিচারক যদি তিন দিন না খেয়ে থাকে তাহলে ‘বিড়াল’ রচনা অনুসারে তার ক্ষেত্রে নিচের কোনটি ঘটবে?- চুরি করা অবস্থায় ধরা পড়বে।
প্র : ‘কমলাকান্তের দপ্তর’ পাঠে মার্জারী কী বুঝতে পারবে?-আফিমের মহিমা।
প্র : কমলাকান্ত মার্জারকে কী করতে নিষেধ করেছে?- কারও হাঁড়ি খেতে।
প্র : ‘বিড়াল’ চরনাটি নেওয়া হয়েছে কোথা থেকে?- কমলাকান্তের দপ্তর।
প্র : ‘বিড়াল’ রচনার সমাপ্তিতে রচনার লেখক হিসেবে কমলাকান্তের যে নাম আছে?-কমলাকান্ত।
প্র : নেপোলিয়ন বোনাপাট কত সালে জন্মগ্রহণ করেন?- ১৭৬৯।
প্র : মাজার’ শব্দের বাংলা প্রতিশব্দ কী?- বিড়াল।
প্র : ‘ন্যায়ালংকার’ শব্দের হিসেবে কোনটি সমর্থনযোগ্য?- ন্যায়শাস্ত্রে প-িত।
প্র : বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় পেশায় কী ছিলেন?- ম্যাজিস্ট্রেট।

বিগত সালের প্রশ্নাবলি

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিগত বছরের প্রশ্নাবলি [সঠিক উত্তরসহ]
১. বঙ্কিমচন্দ্র সম্পাদিত পত্রিকার নাম কী? [ঘ-১৩-১৪]
ক. সাধনা খ. কালি ও কলম গ. বঙ্গদর্শন ঘ. বঙ্গভারতী
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিগত বছরের প্রশ্নাবলি [সঠিক উত্তরসহ]
২. বঙ্কিমচন্দ্র সম্পাদিত পত্রিকার নাম কী? [ক ১১-১৩]
ক. সবুজপত্র খ. বঙ্গদর্শন গ. কল্লোল ঘ. কবিতা
৩. ‘কাঁঠালপাড়া’ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেছেন কোন লেখক? [ক-১১-১২]
ক. আহসান হাবীব খ. সুকান্ত ভট্টাচার্য
গ. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ঘ. ফররুখ আহমদ
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বিগত বছরের প্রশ্নাবলি [সঠিক উত্তরসহ]
৪. বঙ্কিমচন্দ্র পেশাজীবন শুরু করেন কী হিসেবে? [ঙ ০৯-১০]
ক. ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট খ. বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা গ. উকিলঘ. চিকিৎসক ঙ. দলিল লেখক
৫. ‘কমলাকান্তের জবানবন্দি’ প্রথম যে পত্রিকায় প্রকাশিত হয়, সেটির নাম [গ ০৯-১০]
ক. সবুজপত্র খ. সংবাদ প্রভাকর গ. তত্ত্বববোধিনী ঘ. বঙ্গদর্শন ঙ. সমকাল
৬. বাংলা সাহিত্যে ‘সাহিত্য স¤্রাট’ কাকে বলা হয়?
ক. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর খ. কাজী নজরুল ইসলাম গ. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ঘ. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
৭. বঙ্কিমচন্দ্রের পেশা কী ছিল? [ই১ ১২-১৩]
ক. ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট খ. মোক্তার গ. উকিল  ঘ. ডাক্তার ঙ. ব্যারিস্টার
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের বিগত বছরের প্রশ্নাবলি [সঠিক উত্তরসহ]
৮. বঙ্কিমচন্দ্রের উপন্যাস কোনটি?[অ-১৩-১৪]
ক. রজনী খ. আনন্দমঠ গ. কৃষ্ণকান্তের উইল ঘ. সবগুলো
৯. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় সম্পাদিত পত্রিকার নাম কী?[অ, ঊাবহ, সেট অ: ১৪-১২]
ক. দিগদর্শন খ. বঙ্গদর্শন গ. সমাচার দর্পণ ঘ. আর্য্যদর্শন

নিজে চেষ্টা করুন

১. ভ্রমর, কুন্দরন্দিনী- চরিত্রদুটির স্রষ্টা কে?
ক. মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় খ. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর গ. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ঘ. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
২. বঙ্কিমের ‘কমলাকান্তের দপ্তর’-গ্রন্থটি কত সালে প্রকাশিত হয়?
ক. ১৮৬৩ খ. ১৮৫৪ গ. ১৮৭৫ ঘ. ১৮৭৪
৩. কোন গ্রন্থটি বঙ্কিমচন্দ্র বাজার থেকে প্রত্যাহার করে নেন?
ক. লোকরহস্য খ. কৃষ্ণচরিত্র গ. কমলাকান্তের দপ্তর
৪. কোনটি বঙ্কিমচন্দ্র রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ?
ক. বঙ্কিম চরিত্র খ. বৈসাম্য গ. ধর্মতত্ত্ব অনুশীলন ঘ. বঙ্গদর্শন
৫. কোন পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন বঙ্কিমচন্দ্র?
ক. প্রবাসী খ. রহস্য গ. সাম্য গ. বঙ্গদর্শন
৬. প্রথম সার্থক বাংলা উপন্যাস কোনটি?
ক. আলালের ঘরের দুলাল খ. দুর্গেশ নন্দিনী
গ. বলাকা ঘ. বিষবৃক্ষ
৭. ‘বিড়াল’ রচনায় যে যুদ্ধের ইঙ্গিত আছে
ক. ওয়াটারলু’র যুদ্ধ খ. পানিপথের যুদ্ধ
গ. ইরাক যুদ্ধ ঘ. ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ
৮. যখন কমলাকান্ত ওয়াটারলুর কথা ভাবছিল তখন হঠাৎ কে শব্দ করেছিল
ক. প্রসন্ন খ. ওয়েলিংটন গ. মার্জার ঘ. মঙ্গলা
৯. ওয়েলিংটন বিড়ালত্ব প্রাপ্ত হয়ে কমলাকান্তের কাছে কী চাইতে এসেছিল?
ক. হুঁকা খ. মধু গ. আফিম ঘ. দুধ
১০. কমলাকান্তের ভাবনাজগতে বিড়ালত্ব প্রাপ্ত হয়েছিল কে?
ক. ওয়েলিংটন খ. নেপোলিয়ন গ. গোয়ালিনী ঘ. মঙ্গলা
১১. আফিমের ঘোরে কমলাকান্ত বিড়ালকে কী মনে করেছিল?
ক. নেপোলিয়ন খ. প্রসন্ন গ. ডিউক ঘ. মঙ্গলা
১২. কে কমলাকান্তের জন্য দুধ রেখেছিল?
ক. মার্জার খ. মঙ্গলা গ. ডিউক ঘ. প্রসন্ন
১৩. মার্জারে দুধ খেয়ে ফেললেও কমলাকান্ত দেখতে পায়নি। কারণ সে ব্যস্ত ছিল
ক. আফিমের সুখ অনুভবে খ. ডিউকের সাথে আলাপে
গ. ওয়াটারলু’র মাঠে ব্যূহ রচনায় ঘ. প্রসন্নের সাথে হাস্যরসে
১৪. দুধ খাওয়ার পরে ‘মেও’ শব্দের মধ্যে বিড়ালের যে অভিপ্রায় প্রকাশ পেয়েছে
ক. তপ্তি বোঝানোর অভিপ্রায় খ. ব্যঙ্গ দেখানোর অভিপ্রায়
গ. মন বোঝার অভিপ্রায় ঘ. প্রশ্ন করার অভিপ্রায়
১৫. ‘বিড়াল’ রচনায় দুধের প্রকৃত মালিক হিসেবে ধরা যায়
ক. কমলাকান্তকে খ. মার্জারকে গ. প্রসন্নকে ঘ. মঙ্গলাকে
১৬. বঙ্কিমচন্দ্র পেশাজীবন শুরু করেন কী হিসেবে?
ক. ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট খ. বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক
গ. উকিল ঘ. চিকিৎসক
১৭. বিড়াল দুধ খেলে চিরায়ত প্রথা হিসেবে ‘বিড়াল’ রচনায় যে বিষয়টির উল্টেখ পাওয়া যায়
ক. তাড়িয়ে দেওয়া খ. সাবধান হয়ে যাওয়া
গ. তেড়ে মারতে যাওয়া ঘ. প্রথমবার কিছু না বলা
১৮. দুধ খাওয়া বিড়ালকে মারার যে প্রথা তা অবমাননা করলে কমলাকান্ত কী হিসেবে পরিচিত হওয়ার সম্ভবনা আছে?
ক. ভীরু খ. কাপুরুষ গ. কুলাঙ্গার ঘ. নিষ্ঠুর
১৯. কমলাকান্ত মার্জারীকে মারতে গিয়ে অনেক অনুসন্ধানে কী পেল?
ক. একটা বড় কাঠের চেলা খ. একটা যষ্টি
গ. একটা গাছের ডাল ঘ. একটা ছোট লাঠি
২০. কমলাকান্ত কেমন চিত্তে মার্জারীকে মারতে ধাবমান হলো?
ক. উদারচিত্তে খ. ভীরুচিত্তে গ. সকাতরচিত্তে ঘ. প্রসন্নচিত্তে
২১. “সে যষ্টি দেখিয়া বিশেষ ভীত হওয়ার কোনো লক্ষণ প্রকাশ করিল না।”-এই যষ্টি কথাটির অর্থ হলো
ক. পাটখড়ি খ. কঞ্চি গ. লাঠি ঘ. বেত
২২. মার্জারী পশু হওয়া সত্ত্বেও কমলাকান্ত তার বক্তব্য শুনতে পেয়েছিল কীভাবে?
ক. দিব্যকর্ণ প্রাপ্তির কারণে খ. আধ্যাত্মিক ক্ষমতাবলে
গ. প্রখর শ্রবণশক্তির কারণে ঘ. এয়ারফোন কানে থাকার কারণে
২৩. ‘ন্যায়ালংকার’ শব্দের হিসেবে নিচের কোন অর্থটি সমর্থনযোগ্য?
ক. ন্যায়শাস্ত্রে প-িত খ. ব্যাকরণশাস্ত্রে প-িত
গ. ন্যায় বিচারক ঘ. নীতিশাস্ত্রে পন্ডিত
২৪. মার্জারী বহু অনুসন্ধানেও খুঁজে পেল না
ক. তাকে লাঠি দিয়ে মারতে আসার কারণে
খ. মাছের কাঁটা নর্দমায় ফেলে দেওয়ার কারণ
গ. মাছের কাঁটা জলে ফেলে দেওয়ার কারণ
ঘ. কমলাকান্তের গরম দুধ খাওয়ার কারণ
২৫. কমলাকান্তের প্রতি মার্জারীর প্রথম উপদেশ কী ছিল?
ক. পরোপকারই পরম ধর্ম খ. চুরির দায়ে চোরকে দ- দাও
গ. চুরির দায়ে চোরকে দ- দিও না ঘ. চুরির দায়ে ধনীকে দ- দাও
২৬. মার্জারীর পরম উপকার হয়েছিল কিসে?
ক. দুধ নাগাল পাওয়ায় খ. দুধ পান করায়
গ. কমলাকান্ত ঘুমিয়ে পড়ায় ঘ. যষ্টি ভেঙে যাওয়ায়
২৭. মার্জারীর মতে পরম ধর্ম হলো
ক. পরোপকার করা খ. ক্ষুধা নিবৃত্ত করা
গ. জ্ঞানদান করা ঘ. আশ্রয় প্রদান করা
২৮. মার্জারীর মতে কারা চোরের নামে শিউরে ওঠে?
ক. বড় বড় চোরেরা খ. বড় বড় সাদুরা গ. একেবারে মূর্খরা ঘ. হীনবুদ্ধি লোকেরা
২৯. অনেক বড় বড় সাধুকে মার্জারী কী বলে অভিহিত করেছেন?
ক. চোর অপেক্ষা অধার্মিক খ. চোর অপেক্ষা দুর্জন দোষী
গ. চোর অপেক্ষা অপরাধী ঘ. চোর অপেক্ষা অসৎ
৩০. মার্জারীর মতে অধর্ম কার নয়?
ক. চোরের খ. কৃপণের গ. ধনীর ঘ. গৃহস্থের
৩১. মাছেল কাঁটার জন্য মার্জারী কোথায় মেও মেও করে বেড়ায়?
ক. মাঠে-ঘাটে খ. রাস্তায় রাস্তায়
গ. প্রাচীরে প্রাচীরে ঘ. টেবিলের নিচে
৩২. ‘বিড়াল’ রচনায় মাছের কঁটা, পাতের ভাত মানুষ কোথায় ফেলে দেয়?
ক. নর্দমায় খ. উঠানে গ. ডাস্টবিনে ঘ. বাইরে
৩৩. মার্জারীর মতে মনুষ্যজাতির রোগ কোনটি?
ক. তেলা মাথায় তেল দেওয়া খ. ভেজা চুলে তেল দেওয়া
গ. খেতে বললে বিরক্ত হওয়া ঘ. খেতে বললে না খাওয়া
৩৪. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের গ্রন্থসংখ্যা কত?
ক. ৩৩ খ. ৩২ গ. ৩৪ ঘ. ৩৫
৩৫. কমলাকান্ত নেশার ঘোরে নিজেকে কী ভেবেছিল?
ক. মার্জার খ. ওয়েলিংটন ঘ. নেপোলিয়ন ঘ. ডিউক
৩৬. ‘বঙ্গদর্শন’ পত্রিকাটি কত সালে প্রথম প্রকাশিত হয়?
ক. ১৮৬৫ খ. ১৮৭১ গ. ১৮৭২ ঘ. ১৮৭৩
৩৭. অনেক মার্জার কবি হয়ে যায় কেন?
ক. গৃহমার্জারের রূপের ছটা দেখে খ. অন্য মার্জারের রূপ দেখে
গ. অন্য মার্জারের রূপের মাধুরী দেখে ঘ. আকাশের চাঁদ দেখে
৩৮. মার্জারের কথাগুলোকে কী হতে পারে?
ক. সামাজিক অশান্তি ক. সামাজিক উন্নতি
গ. সামাজিক বিশৃঙ্খলা ঘ. সামাজিক ভাঙন
৩৯. বাংলা সাহিত্যে অসামান্য অবদানের জন্য বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় কোন উপাধিতে ভূষিত হন?
ক. সাহিত্যবিশারদ খ. ভোরের পাখি গ. সাহিত্য স¤্রাট ঘ. বীরবল
৪০. কোনো বিচারক যদি তিন দিন না খেয়ে থাকে তাহলে ‘বিড়াল’ রচনা অনুসারে তার ক্ষেত্রে নিচের কোন ঘটনাটি ঘটবে?
ক. সারাদিন বসে বসে ঘুমাবে খ. চুরি করা অবস্থায় ধরা পড়বে
গ. অসুস্থ হয়ে পড়বে ঘ. বিচারকার্য ছেড়ে দেবে

উত্তরপত্র

০১.গ ০২.গ ০৩.ঘ ০৪.গ ০৫.ঘ ০৬.খ ০৭.ক ০৮.গ ০৯.গ ১০.ক ১১.গ ১২.ঘ ১৩.গ ১৪.গ ১৫.ঘ ১৬.ক ১৭.গ ১৮.গ ১৯.থ ২০.গ ২১.গ ২২.ক ২৩.ক ২৪.ক ২৫.ক ২৬.খ ২৭.ক ২৮.খ ২৯.ক ৩০.ক ৩১.গ ৩২.ক ৩৩.ক ৩৪.গ ৩৫.গ ৩৬.গ ৩৭.ক ৩৮.গ ৩৯.গ ৪০.খ