Recent General Knowledge in University Admission Tests PART 06

1
11
Recent General Knowledge in University Admission Tests Part 06
Recent General Knowledge in University Admission Tests Part 06

আজ, আপনাদের কাছে Recent General Knowledge in University Admission Tests or বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষায় সাম্প্রতিক সাধারণ জ্ঞান নিয়ে হাজির হয়েছি । Admission পরীক্ষা নিয়ে চিন্তা করে না এমন লোক খুব কমই আছে। আজকে আমরা Admission Test এর গুরুত্বপূর্ণ বিষয় Recent General Knowledge বিষয়ের Part 06 নিয়ে আলোচনা করবো। Recent General Knowledge in University Admission Tests

Recent General Knowledge in University Admission Tests PART 06

বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষায় সাম্প্রতিক সাধারণ জ্ঞান

What is the meaning of admission test? ⇒ a test to see if someone should be admitted to a institute.
What is admission system? ⇒ The admission management system is a digital tool that helps educational institutions manage the student enrollment process effortlessly. It lets admission teams capture student inquiries, check their eligibility, follow-up, collect documents, and complete the application process digitally.

To do well in an admissions test, you need to prepare properly – so start by reading our ten top tips:

1. Check which test your course requires
2. Confirm key dates and deadlines
3. Get to know the test specification
4. Plan your preparation
5. Use the free preparation resources
6. Prepare effectively
7. Prepare using past paper questions 
8. Practise under timed exam conditions
9. Check what you need for the test
10. And finally – try to stay calm and positive on the test day

Admission test schedule for session 2021-2022 of all government or public university in Bangladesh will be available here. You would get here admission circular, application starting and dead line, admission test routine, application process and instruction’s link, admission related update notice and many more. Over 290,000 students have submitted their applications for admission into Dhaka University’s first year honours under the session of 2021-2022.

Everyone are invited to inform about update news by comments in below.

[বি.দ্রঃ নিচের সকল তথ্য এর প্রকাশকালঃ ১ মে, ২০২২]

সমাজবিজ্ঞান

সমাজবিজ্ঞান পরিচিতি

◊ সমাজবিজ্ঞান এর ইংরেজী প্রতিশব্দ কি ? উ: Sociology.
◊ কাকে সমাজবিজ্ঞানের জনক বলা হয় ? উ: আগাস্ট কোঁৎ।
◊ সমাজবিজ্ঞানের ্য বিষয় কি ? উ: ব্যক্তি, গোষ্ঠী এবং প্রতিষ্ঠানের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক।
◊ Socious অর্থ কি ? উ: সমাজ।
◊ সমাজবিজ্ঞান হচ্ছে সামাজিক ঘটনাবলীর বিজ্ঞান (Science of Social phenomena) উক্তিটি কার ? উ: উইলিয়াম গ্রাহম সামনার।
◊ সমাজবিজ্ঞানই একমাত্র বিজ্ঞান যা সমাজ ও সামাজিক সম্পর্ক বিষয়ে পাঠ করে। এই উক্তিটি কার ? উ: ম্যাকাইভার ও পেজ।
◊ কোন দেশে সমাজবিজ্ঞানের যাত্রা শুরু হয় ? উ: ফ্রান্স ও জার্মানী।
◊ সমাজবিজ্ঞানকে কে সামাজিক কর্যাবলীর বিজ্ঞান বলে অভিহিত করেছেন ? উ: মেক্স বেবার।
◊ সুসংবদ্ধ জ্ঞানই হলো বিজ্ঞান উক্তিটি কার ? উ: হাবার্ট স্পেন্সার।
◊ শিল্প বিপ্লব কোথায় সংঘটিত হয় ? উ: ইংল্যান্ড।
◊ হাবার্ট স্পেন্সার কোন ধরনের সমাজবিজ্ঞানী ? উ: বিবর্তনবাদী।
◊ সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক প্রতিষ্ঠান কি ? উ: পরিবা, বিবাহ ও সম্পত্তি।
◊ “সমাজভূক্ত মানুষ হয় সংযোগকারী নয় বিযুক্তকারী” -এই উক্তিটি কার ? উ: ফরবীজের।
◊ কে নব্য প্রস্তর যুগকে নবপলীয় যুগ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন ? উ: গর্ডন চাইল্ড।
◊ মানুষ যার যার সাধ্যানুযায়ী কাজ করবে এবং যোগ্যতানুযায়ী পারিশ্রমিক পাবে এটি কোন মতবাদের সার কথা ? উ: সমাজতন্ত্রের।
◊ প্রতিষ্ঠানকে কে ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর সামাজিক সম্পর্ক নিয়ন্ত্রণের প্রচলিত ব্যবস্থা হিসেবে চিহ্নিত করেছেন ? উ: জিন্সবার্গ।
◊ নিম্নের কোনটি স্থায়ী সামাজিক গোষ্ঠী ? উ: সম্প্রদায়।
◊ সামাজকর্মের মূল কেন্দ্রবিন্দু হচ্ছে- উ: সামাজিক দল।
◊ ডারউইনের মতে কারা জীবন যুদ্ধে টিকে থাকতে পারে ? উ: বিজয়ীরা।
◊ আধুনিক সমাজবিজ্ঞান সমাজ গবেষণার মূলত কি পদ্ধতি অনুসরণ করে ? উ: বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি।
◊ সমাজ গবেষণার প্রথম পর্যায়ের কাজ কি ? উ: সমস্যা নির্বাচন সমাজ গবেষণার সর্বশেষ কাজ কি ? উ: ভবিষ্যদ্বাণী।
◊ কখন থেকে সমাজবিজ্ঞান একটি আলাদা বিজ্ঞান হিসেবে রূপ নিতে শুরু করে ? উ: ঊনবিংশ শতাব্দীর মধ্যভাগের পর থেকে সমাজবিজ্ঞান।
◊ আগাষ্ট কোৎ তাঁর Positive philosophy গ্রন্থে চিন্তা ও সমাজের কয়টি পর্যায়ের কথা বলেছেন ? উ: তিনটি
◊ সমাজবিজ্ঞান রাষ্ট্রবিজ্ঞানের সম্পর্ক হচ্ছে- উ: সামাজিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে রাষ্ট্রকে সর্বময় ক্ষমতার উৎস হিসেবে আলোচনা করা।

কতিপয় পথিকৃৎ সমাজবিজ্ঞানী

◊ ইবনে খালদুন সামাজিক ইতিহাসকে- উ: বৈজ্ঞানিক ভিত্তির উপর প্রতিষ্ঠিত করেন
◊ “মানুষের মত রাষ্ট্রের বয়সও বৃদ্ধি পায়” উক্তিটি কার ? উ: ইবনে খালদুন
◊ হাবার্ট স্পেন্সার মূলত প্রভাবিত হয়েছিলেন- উ: ডারডইন এর দ্বারা
◊ স্পেন্সারের Synthetic Philosophy সমাজতাত্ত্বিক খন্ডটির নাম হচ্ছে- উ: Principles Sociology
◊ মার্কস সমাজের যে ব্যাখ্যা দিয়েছেন তা হচ্ছে- উ: ঐতিহাসিক দ্বন্দ্বমূলক বস্তুবাদী
◊ মার্কস মূলত ছিলেন- উ: সমাজ দার্শনিক ও অর্থনীতিবিদ
◊ Surplus value তত্ত্বটি কার ? উ: কার্ল মার্কস

সমাজবিজ্ঞানের মৌলিক প্রত্যয়সমূহ

◊ “মানুষ সামাজিক জীব। সমাজবিহীন মানুষ হয় পশু না হয় দেবতা” এটি কার উক্তি ? উ: এ্যারিষ্টটলের।
◊ Society is essentially a mental phenomena 4 উক্তিটি কার ? উ: জিসবার্টের।
◊ Society is a system of social relationship এটি কার উক্তি ? উ: ম্যাকাইভারের।
◊ সমাজ ও সম্প্রদায়- এক নয়।
◊ “যা কিছু সামাজিকভাগে প্রতিষ্ঠিত তাই প্রতিষ্ঠান” উক্তিটি কার ? উ: ম্যাকাইভারের।
◊ মানব সমাজের সাংগঠনিক উপাদান কোনটি ? উ: প্রতিষ্ঠান।
◊ পরিবার, বিবাহ, সরকার, রাষ্ট্র এগুলো কি ? উ: প্রতিষ্ঠান।
◊ গ্রাম কিসের উদাহরণ ? উ: সম্প্রায়ের।
◊ “সংঘ হচ্ছে উদ্দেশ্য সাধনের উপায়” উক্তিটি কার ? উ: ক্রোবারের।
◊ দল গঠনের সহায়ক কি ? উ: পারস্পরিক সচেতনতা ও আন্তরিকতা।
◊ “Primary ও secondaray” – এ দু’ভাগে গোষ্ঠীকে ভাগ করেছেন কে ? উ: কুলী।
◊ পরিবার হচ্ছে- উ: প্রাথমিক গোষ্ঠী।
◊ শ্রেণী হচ্ছে কিছু লোকের সমষ্টি , যারা উৎপাদন সংগঠনে এক ধরনের কাজ করে উক্তিটি কার ? উ: মার্কস।
◊ সমাজ কাঠামো শব্দটি সর্ব প্রথম কে ব্যবহার করেন ? উ: স্পেন্সার।
◊ সমাজ বিজ্ঞানের অন্যতম কেন্দ্রীয় প্রত্যয় হচ্ছে- উ: সমাজ কাঠামো।
◊ মার্কসের মতে সমাজ কাঠামোর ভিত্তি হচ্ছে – দুইটি।
◊ সাংস্কৃতিক উপাদানের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক কোনটি ? উ: উৎপাদন কৌশল।
◊ “মানুষের সংস্কৃতি হলো উপরি কাঠামো” উক্তিটি কার ? উ: মার্কসের।
◊ দৈহিক বৈশিষ্ট্যের উপর ভিত্তি করে মানব জাতিকে কয়টি নরগোষ্ঠীতে ভাগ করা হয় ? উ: তিনটি।
◊ নিগ্রোদের বাসস্থান কোথায় ? উ: আফ্রিকা।
◊ সমাজের সবচেয়ে ক্ষুদ্র ও মৌল প্রতিষ্ঠান কি ? উ: পরিবার।
◊ কোন যুগে সামন্ততন্ত্রের উদ্ভব হয় ? উ: মধ্যযুগে।
◊ সামন্ততন্ত্র কখন চূড়ান্ত রূপ লাভ করে ? উ: ত্রয়োদশ শতাব্দীতে।
◊ রেনেসাঁ শব্দের অর্থ কি ? উ: নব জাগরণ।

সমাজ জীবনের উপাদানসমূহ

◊ সমাজ জীবনের মৌল উপাদান কয়টি ? উ: চারটি।
◊ সমাজ জীবনের মৌল উপাদানগুলো কি কি ? উ: ভৌগোলিক, জৈবিক, সাংস্কৃতিক ও সামাজিক উপাদান।
◊ ব্যক্তি যে প্রক্রিয়ায় সামাজিক সদস্য হিসাবে গড়ে উঠে তার নাম ? উ: সামাজিকীকরণ।
◊ পরিবার, বিবাহ ও জ্ঞাতি সম্পর্ক কিসের মাধ্যমে আধুনিক যুগের সূচনা হয় ? উ: শিল্প বিপ্লবের মাধ্যমে।
◊ মানুষ সামাজিক জীব এ উক্তিটি কার ? উ: এ্যারিষ্টটলের।
◊ আদিম সামাজিক প্রতিষ্ঠান কি ? উ: পরিবার।
◊ পরিবার গঠনের অন্যতম পূর্ব শর্ত কি ? উ: বিবাহ।
◊ দক্ষিণ ভারতের টোডাদের মধ্যে কোন ধরনের পরিবার প্রথা বিদ্যমান ? উ: বহু স্বামী বিবাহ ভিত্তিক পরিবার।
◊ ক্ষমতার মাত্রার ভিত্তিতে পরিবারের প্রকার গুলো কি কি ? উ: পিতৃ প্রধান ও মাতৃ প্রধান পরিবার।
◊ মাতৃতান্ত্রিক পরিবার কোন সমাজ দেখা যায় ? উ: গারো সমাজে।
◊ বহু স্বামী বিবাহ ভিত্তিক পরিবার কোন সমাজে দেখা যায় ? উ: টোডা উপজাতি।
◊ ওয়েষ্টার মার্কের মতে সার্বজনীন পরিবার কোনটি ? উ: একক বিবাহ।
◊ ভিত্তিক পরিবার মর্গানের মতে কোন পরিবার আগে এসেছে ? উ: মাতৃতান্ত্রিক পরিবার।
◊ ওয়েষ্টার মার্কের মতে কোন পরিবার প্রাচীন ? উ: পিতৃতান্ত্রিক।
◊ একজন পুরুষের সাথে একজন মহিলার বিবাহকে কি বলে ? উ: একক বিবাহ।
◊ পরিবারের উল্লেখযোগ্য কাজ কি ? উ: সন্তান জন্মদান ও লালন পালন।
◊ ব্যক্তির অনানুষ্ঠানিক শিক্ষাঙ্গন কোনটি ? উ: পরিবার।
◊ History of Human marriage- গ্রন্থটির লেখক কে ? উ: Westermark.
◊ “বিবাহ হচ্ছে এক দুঃসাহসিক বন্ধুত্ব” কথাটি কার ? উ: গ্রোভাসের।
◊ আধুনিক সমাজে পরিবার গঠনের পূর্ব শর্ত কি ? উ: বিবাহ।
◊ Marriage and the Family গ্রন্থের লেখক কে ? উ: নিমফ।
◊ মানব সমাজে প্রথমে কোন ধরনের পরিবারের আবির্ভাব ঘটে ? উ: মাতৃপ্রধান।
◊ মাতৃপ্রধান পরিবারকে কি পরিবার বলা হয় ? উ: মাতৃ অধিকার।
◊ পিতৃ প্রধান পরিবার কোন উপজাতির মধ্যে দেখা যেত ? উ: সেমেট্রিক।
◊ পরিবারের আকারের ভিত্তিতে পরিবারকে ক’ভাগে ভাগ করা যায় ? উ: ৩ ভাগে।
◊ রাশিয়ানরা কখন পরিবারকে বিলোপ করে দিয়েছিল ? উ: সোভিয়েত ইউনিয়ন ভাঙ্গার পরে।
◊ সোভিয়েত ইউনিয়ন কত সালে বিপ্লব সংঘটিত হয়েছিল ? উ: ১৯১৭।
◊ পরিবারের জৈবিক কাজ কয়টি ? উ: ২ টি।
◊ প্লেটোর আদর্শ রাষ্ট্রের ধারণা কোন বইয়ে পাওয়া যায় ? উ: Republic.
◊ যৌথ পরিবার ভেঙ্গে কি পরিবার গড়ে উঠেছে ? উ: একক।
◊ জ্ঞাতি সম্পর্ক কত প্রকারের হয় ? উ: চার প্রকারের।

সামাজিক স্তর বিন্যাস

◊ কোন দার্শনিক দাস প্রথাকে সমর্থন করেছিলেন ? উ: এ্যারিষ্টটল।
◊ সামাজিক স্তর বিন্যাসের উপাদান কয় ভাগে বিভক্ত ? উ: ২ ভাগে।
◊ সামাজিক স্তর বিন্যাস কয় প্রকার ? উ: ৪ প্রকার।
◊ দাস উৎপাদনের জীবন্ত হাতিয়ার কে বলেছেন ? উ: এ্যারিস্টটল।
◊ জাতীয়-বর্ণ প্রথা কোন সমাজে বেশি দেখা যায় ? উ: ঐতিহ্যবাহী ভারতীয় সমাজে।
◊ সামাজিক শ্রেণীর মূল ভিত্তি কি ? উ: অর্থনীতি।
◊ কত সালে সোভিয়েত ইউনিয়নে শ্রমিক শ্রেণীর শাসন কায়েম হয় – উ: বিংশ শতাব্দীর ২য় দশকে।
◊ সামাজিক স্তরবিন্যাসের তত্ত্ব হচ্ছে প্রধানত: উ: ৩ টি।

অর্থনৈতিক ব্যবস্থা

◊ সম্পত্তির প্রধান বৈশিষ্ট্য কি ? উ: উপযোগিতা।
◊ সমাজ স্বীকৃত অধিকার সম্পত্তির প্রকারভেদ গুলো কি কি ? উ: বস্তুগত ও অবস্তুগত।
◊ সম্পত্তি কিসের প্রতীক ? উ: ক্ষমতার প্রতীক।
◊ আদিম সমাজের সম্পত্তির মালিকানা কিরূপ ছিল ? উ: যৌথ মালিকানা।
◊ Human Society গ্রন্থটি কার লেখা ? উ: Kingsley Davis.
◊ সমাজতন্ত্রের মূল কথা কি ? উ: প্রত্যেকেই সাধ্য অনুযায়ী কাজ করবে এবং যোগ্যতানুযায়ী পারিশ্রমিক পাবে।
◊ মার্কসবাদীদের সমাজতন্ত্রের পরবর্তী পর্যায় কি ? উ: সাম্যবাদ।
◊ যে যুগে মানুষ খাদ্যের প্রয়োজনে কিছু দিন পর পরই স্থান পরিবর্তন করত, তাকে কোন যুগ বলা হয় ? উ: যাযাবর যুগ।
◊ পশু পালন যুগের অর্থনীতিকে কোন ধরনের অর্থনীতি বলা হয় ? উ: পশুচারণ।
◊ কোন যুগে মানুষ স্থায়ী ভাবে বসবাস শুরু করে ? উ: কৃষি যুগে।
◊ সভ্যতা কিসের অবদান ? উ: কৃষির।
◊ চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত কত সালে করা হয় ? উ: ১৭৯৩ সালে।
◊ শিল্প যুগকে কয়টি স্তরে ভাগ করা যায় ? উ: ৩ টি।
◊ শিল্প যুগের পরবর্তী স্তরের নাম কি ? উ: সমাজতান্ত্রিক যুগ।
◊ কোন যুগে সামন্ততন্ত্রের উদ্ভব হয় ? উ: মধ্যযুগে।
◊ সামন্ততন্ত্র কখন চুড়ান্ত রূপ লাভ করে ? উ: ত্রয়োদশ শতাব্দীতে।
◊ কবে ইউরোপীয় সামন্ত সমাজে ভাঙ্গন দেখা দেয়- উ: ১৪০০ সাল থেকে।
◊ কখন থেকে পুঁজিবাদের বিকাশ শুরু হয় ? উ: দ্বাদশ শতাব্দী থেকে।
◊ পুঁজিবাদ কখন চূড়ান্ত রূপ লাভ করে ? উ: শিল্প বিপ্লবের পরে।
◊ শিল্প বিপ্লব কখন সংঘঠিত হয় ? উ: ১৭৬২ সালে।
◊ কোথায় শিল্প বিপ্লব সংঘটিত হয় ? উ: ইংল্যান্ডে।
◊ সমাজতন্ত্রের চূড়ান্ত রূপ কি ? উ: সাম্যবাদ।
◊ কে সমাজতন্ত্র কে বৈজ্ঞানিক ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত করেন ? উ: কার্ল মার্কস।
◊ সমাজের ইতিহাস শ্রেণী সংগ্রামের ইতিহাস মতবাদটি কার ? উ: কার্ল মার্কস এর।
◊ সোস্যাল ডেমোক্রেটিক লেবার পার্টির জন্ম কত সালে ? উ: ১৮৮৯ সালে।

রাজনৈতিক ব্যবস্থা

◊ রাষ্ট্রের উপাদান কয়টি ? উ: ৪ টি।
◊ উপাদান ৪ টি কি কি ? উ: জনসংখ্যা , নির্দিষ্ট ভূ-খণ্ড, সরকার, সার্বভৌমত্ব।
◊ সরকার বা রাষ্ট্রকে নিয়ন্ত্রণ করে কে ? উ: জনগণ।
◊ “কোন নির্দিষ্ট ভূ-খন্ডে আইন অনুসারে সংগঠিত জনসমাজই হলো রাষ্ট্র” -সংজ্ঞাটি কার ? উ: উইলসনের।
◊ উইলসন কে ছিলেন ? উ: আমেরিকার প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট।
◊ রাষ্ট্রের উৎপত্তি সম্পর্কে নৃ-তাত্ত্বিক ব্যাখ্যা দেন কে ? উ: এস এইচ ফ্রীড।
◊ জনগন কার নাগরিক ? উ: রাষ্ট্রের।
◊ আধুনিক গণতন্ত্র বলতে কি বুঝ ? উ: অপ্রতিনিধিত্বকারী।
◊ গণতন্ত্র রাষ্ট্রের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান কোনটি ? উ: সার্বভৌমত্ব।
◊ রাষ্ট্রের কার্যাবলী কত প্রকার ? উ: ২ প্রকার।
◊ সামাজিক গোষ্ঠীর সংঘাতকে রাষ্ট্রের উৎপত্তির কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন কে ? উ: কার্ল মার্কস।
◊ মার্কসের মতে পুঁজিবাদী সমাজ কয়টি শ্রেণীতে বিভক্ত ? উ: ২ টি।
◊ কত সালে রাশিয়ার সমাজতন্ত্রের পতন হয় ? উ: ১৯৯১।
◊ রাষ্ট্রের সার্বভৌম ক্ষমতা থাকে- জনগণের হাতে।
◊ স্পেন্সার কার দ্বারা প্রভাবিত ছিলেন ? উ: ডারউইন।
◊ রেনেসাঁর সূচনাকারী কে ? উ: ইটালীর কবি পেত্রার্ক।

ধর্মীয় ব্যবস্থা

◊ Primitive Religion গ্রন্থের রচয়িতা- উ: এইচ. লোঈ।
◊ ধর্মের উৎপত্তি সম্পর্কে Animism তত্ত্ব প্রদান করেন- E. B. টেইলর।
◊ ফ্রয়েড যে গ্রন্থের মাধ্যমে ধর্মের উৎপত্তির ব্যাখ্যা দিয়েছেন তার নাম হচ্ছে- উ: Totem and Taboo,
◊ ধর্ম সামাজিক সংহতিকে- বৃদ্ধিকরে।
◊ ধর্ম ও সমাজ একে অপর হতে বিচ্ছিন্ন নয়।
◊ ইসলামের মৌলিক ভিত্তি হচ্ছে- উ: একেশ্বরবাদের ওপর প্রতিষ্ঠিত।
◊ হিন্দুদের সবচেয়ে প্রাচীন ধর্মীয় গ্রন্থ কোনটি ? উ: বেদ।

বিচ্যুতি ও সামাজিক নিয়ন্ত্রণ

◊ “আদিকালে সমাজে শান্তি ও শৃংখলা বলতে কিছু ছিল না” কার মত ? উ: হবস্।
◊ কার মতে রাষ্ট্র, সমাজ নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব গ্রহন করে ? উ: লক্।
◊ প্রকৃতির রাজ্য সম্পর্কে কার ধারণা হবসের বিপরীত ? উ: রুশো।
◊ সমাজে যে সংঘাত ছিল তা কার তত্ত্বে পাওয়া যায় ? উ: হবস্।
◊ পেইজ কোথাকার সমাজ বিজ্ঞানী ? উ: আমেরিকান।
◊ সামাজিক পরিবর্তন সমাজ বিবর্তন প্রত্যয়টি গৃহীত হয়- জৈবিক বিবর্তন তত্ত্বাবলী থেকে।
◊ Cultural In তত্ত্ব দেন উ: অগবার্ন।
◊ “The Decline of the West” গ্রন্থের লেখক কে ? উ: Spencer.
◊ টয়েনবী কে ছিলেন ? উ: ঐতিহাসিক।
◊ “পুঁজিবাদের মধ্যেই তাঁর ধ্বংসের বীজ লকিয়ে আছে” উক্তিটি কার ? উ: মার্সস।
◊ “Social Change” গ্রন্থটি কে লিখেছেন ? ই : অগবার্ন।

বিবিধ

◊ সমাজবিজ্ঞানের প্রথম বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা দেন- ইবনে খালদুন।
◊ তাঁর বইয়ের নাম- আল মুকাদ্দিমা
◊ মার্কস সমাজের যে ব্যাখ্যা দিয়েছেন তা হচ্ছে- ঐতিহাসিক দ্বন্দ্বমূলক বস্তুবাদ
◊ Capital Communist Menifesto এগুলো রচনা করেন মার্কস।
◊ Surplus value তত্ত্বটি তাঁরই ও হার্বার্ট স্পেনসার একজন বিবর্তনবাদী সমাজবিজ্ঞানী।
◊ “মানব সমাজের ইতিহাস মূলত শ্রেণী সংগ্রামের ইতিহাস”, “শ্রেণী হচ্ছে কিছু লোকের সমষ্টি দ্বারা উৎপাদন সংগঠনে একসাথে কাজ করে”, “পুঁজিবাদের মধ্যেই তার ধ্বংসের বীজ লকিয়ে আছে” -উক্তিগুলো মার্কসের
◊ আদর্শ রাষ্ট্রের ধারণা দেন – প্লেটো, রিপাবলিক গ্রন্থে।
◊ টয়েনবি একজন ঐতিহাসিক।
◊ Suicide নিয়ে প্রথম গবেষণা করেন- এমিল ডুর্খেইম
◊ অগাস্ট কোঁৎ – ফ্রান্সের সমাজবিজ্ঞানী
◊ সামন্তবাদের মূল ভিত্তি – কৃষি
◊ সংস্কৃতি হলো- মানুষের আচরণের সমষ্টি
◊ Origin of the family, Private Property and the state বইটির লেখক ফ্রেডরিখ এঙ্গেলস।
◊ তিনি বলেছেন, “ব্যক্তিগত সম্পদ উদ্ভবের ফলে নারীর ঐতিহাসিক পরাজয় ঘটেছে।”
◊ সমাজের অর্থনৈতিক কাঠামো নির্ধারণ করে উৎপাদন সম্পর্ক।
◊ বিবর্তনবাদের জনক – ডারউইন, অপরাধ বিজ্ঞানের জনক লাব্রাসো।
◊ Archeology প্রত্নতত্ত্ব Anthropoloty- নৃতত্ত্ব (মানুষের অতীত, বর্তমান, ভবিষ্যৎ নিয়ে বিজ্ঞানভিত্তিক গবেষণা)।
◊ পৃথিবীতে মূলতঃ ৩ জাতের মানুষ রয়েছে। ককেশীয়ড (শ্বেতবর্ণ – মধ্যপ্রাচ্য, ককেশাস এবং ইউরোপে বসবাস করে), নেগ্রোয়েড (কালো বর্ণ) এবং মঙ্গোলয়েড (বাড়ামি বর্ণ – চীনের অধিবাসী)।
◊ পাবর্ত্য চট্টগ্রাম (Chittagong Hill Tracts – CHT) অঞ্চলে জেলা রয়েছে ৩ টি- খাগড়াছাড়ি, রাঙামাটি, বান্দরবান। পার্বত্য চট্টগ্রামের সাথে ভারতের ত্রিপুরা ও মিজেরাম এবং মায়ানমারের চীন ও আরাকান প্রদেশের সীমানা রয়েছে।
◊ পার্বত্য চট্টগ্রাম ম্যানুয়েল এ্যাক্ট হয় ১৯০০ সালে। এখানে ১৯৭৫-১৯৯৭ সাল পর্যন্ত ২২ বছরব্যাপী ইনসারজেন্সি বা গৃহযুদ্ধ চলে। শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরিত হয় ২ ডিসেম্বর ১৯৯৭। পার্বত্য চট্টগ্রামের আঞ্চলিক রাজনৈতিক দল- JSS (জনসংহতি সমিতি) এবং UPDF (ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট)।
◊ পার্বত্য অঞ্চলে সংসদীয় আসন -৩ টি।
◊ পার্বত্য চট্টগ্রামে উপজাতি রয়েছে ১২ টি। একমাত্র বান্দরবান জেলায় সর্বোচ্চ ১২ টি উপজাতি সম্প্রদায় বসবাস করে , এর হচ্ছে- চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা, তনচঙ্গা, মুরং, লুসাই, কুবির, খেয়াং, বম, চাক, পানখোয়া, বনজোগী।
◊ পিতৃপ্রধান উপজাতি- মারমা , চাকমা , হাজংসহ অধিকাংশ উপজাতি। মাতৃপ্রধান উপজাতি গারো, খাসিয়া।
◊ চাকমাদের সার্কেল- ১ টি (রাঙামাটি)।
◊ মারমাদের সার্কেল- ২ টি ; মং সার্কেল- খাগড়াছড়ি, বোমাং সার্কেল- বান্দরবান।
◊ মণিপুরী জাদুঘর হচ্ছে মৌলভীবাজারে।
◊ খাসিয়া, মণিপুরী, মুন্ডা, পাঙন – সিলেট অঞ্চলের।
◊ গারো, হাজং কোচদের বাস – নেত্রকোনা, ময়মনসিংহ, শেরপুর।

রাজনৈতিক ব্যবস্থা

◊ “The state” এর রচিয়তা কে ? উ: উইলসন।
◊ দার্শনিক রুশো কোন দেশে জন্ম গ্রহণ করেন ? উ: ফ্রান্সে।
◊ হবস ও লক কোন দেশের দার্শনিক ? উ: ইংল্যান্ড এর দার্শনিক।
◊ স্পেন্সারেরর মতো কোন সমাজে রাষ্ট্রের কোন অস্তিত্ব পাওয়া যায় না ? উ: আদিম সমাজে।

উৎপাদন কৌশল ও সামাজিক পরিবর্তন

◊ সার্বজনীনভাবে মৌলিক শ্রমবস্তু হলো- উ: ভূমি।
◊ মার্কসের মতে ইতিহাসে প্রথম শ্রেণী নির্ভর শোষণমূলক সমাজ হচ্ছে- উ: দাস সমাজ।
◊ বাংলাদেশের বর্তমান অর্থনীতি হচ্ছে- উ: মিশ্র অর্থনীতি।

বাংলাদেশের সামাজিক সমস্যা

◊ বাংলাদেশের বেশির ভাগ মানুষ মূলত আবর্তিত হচ্ছে- উ: দারিদ্রের দুষ্ট চক্রে (Vicious circle of poverty)।
◊ বাংলাদেশের দারিদ্রের একটি অন্যতম কারণ- উ: কর্মসংস্থানের অভাব।
◊ দারিদ্র্য কোন ধরনের সমস্যা ? উ: সামাজিক।
◊ নিরক্ষর হচ্ছে ঐ ব্যক্তি যিনি- উ: লিখতে পড়তে পারেন না।
◊ থমাস ম্যালথাস ছিলেন একজন- উ: অর্থনীতিবিদ।
◊ ধর্মযাজক ম্যালথাসের মতে জনসংখ্যা বৃদ্ধি পায়- উ: জ্যামিতিক হারে।
◊ কাম্য জনসংখ্যা মূলত- উ: জনশক্তি বা সম্পদ।
◊ বাংলাদেশের এক নম্বর সমস্যা- উ: জনসংখ্যা সমস্যা।
◊ বাংলাদেশে যৌতুক নিরোধ আইন পাস করা হয়- উ: ১৯৮০ সালে।

বাংলাদেশের গ্রামীণ উন্নয়ন

◊ বাংলাদেশে পল্লী অঞ্চলে বসবাসকারী জনগোষ্ঠীর পরিমাণ- উ: ৮০ %।
◊ পল্লী উন্নয়নের জন্য বৃটিশ সরকার কত সালে ইউনিয়ন বোর্ড ও জেলাবোর্ড গঠন করেন ? উ: ১৯১৯ সালে।
◊ সমন্বিত পল্লী উন্নয়ন কর্মসূচি পরবর্তীকালে রূপান্তরিত হয়- উ: বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ডে।
◊ B. R. D. B কি ? উ: Bangladesh Rural Development Board Bard.
◊ BARD কি ? উ: বাংলাদেশের পল্লী উন্নয়ন সংস্থা।
◊ RDA কোথায় অবস্থিত ? উ: বগুড়ায়।
◊ বাংলাদেশের স্বনির্ভর আন্দোলনের যাত্রা শুরু হয়- উ: ১৯৭৫ সালে
◊ বাংলাদেশের পল্লী উন্নয়ন কল্পে কাজের বিনিময়ে খাদ্য কর্মসূচি চালু হয়। উ: ১৯৭৪ সালে
◊ গ্রামীণ ব্যাংক হচ্ছে- উ: পল্লী উন্নয়নের জন্য একটি সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক সংগঠন
◊ গ্রামীণ ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা ? উ: ডঃ মুহাম্মদ ইউনুস
◊ কোন গ্রামের মহিলাদের জামানত ছাড়া ঋণ প্রদানের মাধ্যমে গ্রামীন ব্যাংকের যাত্রা শুরু হয় ? উ: চট্টগ্রামের জোবরা গ্রাম
◊ BRAC হলো – Bangladesh Rural Advancement Committee.
◊ BRAC প্রতিষ্ঠিত হয়- উ: ১৯৭২ সালে।
◊ BRAC এর প্রতিষ্ঠাতা ? উ: ফজলে হাসান আবেদ।
◊ ব্র্যাকের কার্যক্রম শুরু হয়- উ: সিলেটের সাল্লা নামক গ্রামকে কেন্দ্র করে।

ইতিহাস

◊ ইতিহাস শব্দের ইংরেজি প্রতিশব্দ কি ? উ: History.
◊ Historia শব্দটি কোন ভাষার ? উ: গ্রিস।
◊ Historia শব্দটি প্রথম কে ব্যবহার করেন ? উ: হেরোডোটাস।
◊ History শব্দটি কোন শব্দ থেকে উৎপত্তি হয়েছে ? উ: Historia.
◊ ইতিহাসের উপাদানকে কয় ভাগে ভাগ করা যায় ? উ: দুই ভাগে।
◊ ইতিহাসের জনক কে ? উ: হেরোডোটাস।
◊ হেরোডোটাসের জন্ম কোথায় ? উ: গ্রিসে (প্রাচীন গ্রিক)।
◊ একটি জাতির ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি যথাযথভাবে সংরক্ষণ করে কোন বিষয় ? উ: ইতিহাস।
◊ ‘সমাজ জীবনই ইতিহাস’ কথাটি কে বলেছেন ? উ: টয়েনবি।
◊ টয়েনবি কে ছিলেন ? উ: একজন বিখ্যাত ঐতিহাসিক।
◊ এক সময় মানুষ ছিল গুহাবাসী, সভ্যতায় তার অবদান কেমন ছিল ? উ: সর্বনিম্ন স্তরে।
◊ ইবনে খালদুন কোন যুগের দার্শনিক ছিলেন ? উ: মধ্যযুগের।
◊ পি. কে. হিট্টি কে ছিলেন ? উ: একজন বিখ্যাত ঐতিহাসিক।
◊ ‘বর্নাক’ শব্দের অর্থ কি ? উ: মন্দির।
◊ রোমান আইনের জনক কে ? উ: সিসেরো।
◊ ব্যবিলনীয় সভ্যতার স্থপতি কে ছিলেন ? উ: হাম্বুরাবি।
◊ ব্যবিলনীয়দের প্রধান দেবতার নাম কি ? উ: আরডক।
◊ কনফুসিয়াস কোন দেশের দার্শনিক ছিলেন ? উ: চীন।
◊ সিন্ধু সভ্যতা কত সালে আবিষ্কৃত হয় ? উ: ১৯১০ সালে।
◊ হিব্রু কি ? উ: একটি জাতি (জাতি না থাকলে ভাষা)।
◊ হিব্রুদের আদি বাসস্থান কোথায় ? উ: আরব মরুভূমিতে।
◊ হিব্রুদের প্রধান দেবতার নাম কি ? উ: ঈল।
◊ মেসোপটেমীয় কি জাতীয় শব্দ ? উ: গ্রিক।
◊ গ্রিকদের প্রধান দেবতার নাম কি ? উ: জিউস।
◊ রোমের প্রধান দেবতার নাম কি ? উ: জুপিটার।
◊ রোমান আইনের শাখা কয়টি ? উ: ৩ টি।
◊ টাইগ্রিস নদী কোথায় অবস্থিত ? উ: ইরাক।
◊ ‘লাওৎসে’ কে ? উ: একজন বিখ্যাত চীনা দার্শনিক।
◊ হোমার কোন দেশের কবি ? উ: গ্রিস।
◊ কৃষি আবিষ্কার হয় কোন যুগে ? উ: নবপলীয় যুগে।
◊ প্রাচীন পারস্যের বর্তমান নাম কি ? উ: ইরান
◊ নীলনদের অববাহিকায় গ্রামের পরিবর্তে কি গড়ে উঠেছিল ? উ: নগর।
◊ প্রাচীন মিসরে সভ্যতার বিকাশে কিসের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল ? উ: ধর্মের।

ভূগোল

◊ বাংলা ভাষায় ভূগোল শব্দের আভিধানিক অর্থ কি ? উ: পৃথিবী গোলাকার (ভূ-শব্দের অর্থ পৃথিবী)।
◊ ভূগোল শাস্ত্রটি মোট কয়টি শেণিতে ভাগ করা হয়েছে ? উ: ১৪ টি।
◊ পৃথিবীর আকার, আয়তন ও দ্রাঘিমাংশ জানা যায় কিসের সাহায্যে ? উ: গাণিতিক ভূগোল পাঠ করে।
◊ পাহাড় হতে নদীগুলো উৎপত্তি হয়ে সাগরে পড়েছে , এটা কিভাবে জানা যায় ? উ: ভূ-ত্বক পরিচয় বিদ্যা পাঠ করে।
◊ ভূ-ত্বক পরিচয় বিদ্যা কি ? উ: পৃথিবীর অভ্যন্তরীণ অবস্থা সম্পর্কে জানা।
◊ আবহাওয়া ও জলবায়ু সম্পর্কে কিভাবে জানা যায় ? উ: জলবায়ু তত্ত্বের সাহায্যে।
◊ কি পাঠ করে আমরা পৃথিবীর রাজনৈতিক অবস্থা, ধর্ম, লোক বসতি, সরকার ও শাসন পদ্ধতি সম্পর্কে জানতে পারি ? উ: রাজনৈতিক ভূগোল।
◊ হ্যালির ধূমকেতু কত বছর পরপর আকাশে দেখা যায় ? উ: প্রায় ৭৬ বছর।
◊ কোনটি জলবায়ুর উপাদান ? উ: বৃষ্টিপাত।
◊ দক্ষিণ গোলার্ধে নিম্নচাপকে কেন্দ্র করে বাতাস কোন দিকে প্রবাহিত হয় ? উ: ঘড়ির কাঁটার বিপরীত দিকে।
◊ স্থলবায়ু সাধারণত কখন শুরু হয় ? উ: ভোর বেলা।
◊ কোনটি বাংলাদেশের সবচেয়ে পুরাতন দ্বীপ ? উ: মহেশখালী।
◊ শীতকালে ভিজা কাপড় দ্রুত শুকায় কেন ? উ: বাতাসে আর্দ্রতা কম থাকায়।
◊ ওজোন হোল বায়ুমণ্ডলের কোন স্তরে অবস্থিত ? উ: ট্রপোস্ফিয়ার।
◊ মানচিত্রে ক্ষুদ্রতম অংশ মাপার জন্য কোন মাপনী ব্যবহৃত হয় ? উ: কর্ন মাপনী।
◊ পার্বত্য চট্টগ্রামের বনভূমি কোন ধরনের বনভূমির অন্তর্গত ? উ: ক্রান্তীয় চিরসবুজ।
◊ কর্কটক্রান্তি রেখা কোন জেলার ওপর দিয়ে গেছে ? উ: রাঙ্গামাটি।
◊ চাঁদ থেকে পৃথিবীতে আলো পৌছাতে কত সেকেন্ড সময় লাগে ? উ: ১.২৬ সেকেন্ড।
◊ দিন ও রাত্রি সমান হয় কোন তারিখে ? উ: ২১ মার্চ ও ২৩ সেপ্টেম্বর।
◊ ভূমিকম্প মাপার যন্ত্রের নাম কি ? উ: সিসমোগ্রাফ।
◊ ওজোন স্তরের ফাটলের জন্য মুখ্যত দায়ী গ্যাস কোনটি ? উ: ক্লোরোফ্লোরো।
◊ কার্বন পৃথিবী এক মিনিটে কত ডিগ্রি আবর্তন করে ? উ: ৪ ডিগ্রি।
◊ বাংলাদেশের কোন ভূমিরূপ সবচেয়ে প্রাচীন ? উ: পাহাড়ী ভূমি।
◊ শীল্ড আগ্নেয়গিরির উৎকৃষ্ট উদাহরণ কোনটি ? উ: মনালোয়া।
◊ বিশ্বের বৃহত্তম গরান বনভূমি কোথায় অবস্থিত ? উ: বাংলাদেশে।
◊ বাংলাদেশের কোন দ্বীপে টারশিয়ারী যুগের পাহাড় রয়েছে ? উ: মহেশখালী।
◊ উচ্চতা বৃদ্ধি পাবার সাথে তাপমাত্রা হ্রাস না পেয়ে বৃদ্ধি পেলে তাকে কি বলে ? উ: তাপমাত্রার উৎক্রম।
◊ বায়ুমণ্ডলের কোন স্তরে আবহাওয়া ও জলবায়ুর ক্রিয়াকলাপ বিরাজ করে ? উ: প্রটোস্ফয়ার।
◊ গাঙ্গেয় বদ্বীপ কি ? উ: সঞ্চয়জাত সমভূমি।
◊ বাংলাদেশের ঘূর্ণিঝড় কখন হয় ? উ: মৌসুমী বায়ু প্রবাহের পূর্বে।
◊ বায়ুমন্ডলে নাইট্রোজেনের পরিমাণ কত শতাংশ ? উ: ৭৮.১ %।
◊ সুনামির কারণ কি ? উ: সমুদ্র তলদেশে ভূমিকম্প।
◊ যে বায়ু সর্বদাই উচ্চচাপ অঞ্চল থেকে নিম্নচাপ অঞ্চলের দিকে প্রবাহিত হয় তাকে কি বলা হয় ? উ: নিয়ত বায়ু।
◊ সমুদ্রপৃষ্ঠে বায়ুর চাপ প্রতি বর্গ সে.মি. এ কত ? উ: ১০ নিউটন।
◊ সমুদ্র পৃষ্ঠে বায়ুর স্বাভাবিক চাপ কত ? উ: ৭৬ সে.মি.।
◊ বাংলাদেশের জলবায়ু কী ধরনের ? উ: ক্রান্তীয় মৌসুমী জলবায়ু।
◊ বাংলাদেশের বার্ষিক সর্বোচ্চ গড় বৃষ্টিপাত কোন স্টেশনে রেকর্ড করা হয় ? উ: সিলেট।
◊ SPARSO কোন মন্ত্রণালয়ের অধীন ? উ: প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়।
◊ গ্রিন হাউজ ইফেক্টের জন্য বাংলাদেশে কোন ধরনের ক্ষতি হতে পারে ? উ: নিম্নভূমি নিমজ্জিত হবে।
◊ সমবৃষ্টিপাত সম্পন্ন স্থানসমূহকে যোগকারী রেখাকে বলা কি হয় ? উ: আইওসাহাইট।
◊ বাংলাদেশে সংঘটিত বন্যার রেকর্ড অনুযায়ী (১৯৭১-২০০৭) কোন সালের বন্যায় সবচেয়ে বেশি এলাকা প্লাবিত হয় ? উ: ১৯৮৮ সালে।
◊ বাংলাদেশের উপকূলীয় সমভূমিতে বসবাসকারী জনগোষ্ঠী যে ধরনের বন্যা কবলিত হয় তার নাম কি ? উ: জলোচ্ছ্বাসজনিত বন্যা।
◊ কোন দুর্যোগটি বাংলাদেশের জনগণের জীবিকা পরিবর্তনের ক্ষেত্রে দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলতে পারে ? উ: সমুদ্রের জলস্তরের বৃদ্ধি।
◊ বাংলাদেশে কালবৈশাখী ঝড় কখন হয় ? উ: প্রাক – মৌসুমী বায়ু ঋতুতে।
◊ পূর্ব সতর্কতা ছাড়াই কোন দুর্যোগ সংঘটিত হয় ? উ: ভূমিকম্প।
◊ সার্ক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র কোথায় অবস্থিত ? উ: নয়াদিল্লি।
◊ ‘V 20’ গ্রুপ কিসের সাথে সম্পর্কিত ? উ: জলবায়ু পরিবর্তন।
◊ কোন পর্যায়ে দুর্যোগের ক্ষতি মূল্যায়ন করা হয় ? উ: পুনর্বাসন পর্যায়ে।
◊ দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন কাজকে পর্যায়ক্রম অনুযায়ী সাজাতে হলে কোন কাজটি সর্বপ্রথম হবে ? উ: ঝুঁকি চিহ্নিতকরণ।

সমাজকল্যাণ

◊ সমাজকল্যাণ ও সমাজকর্মের মধ্যে মূল পার্থক্য কেমন ? উ: প্রক্রিয়াগত জনসংখ্যাধিক্য সমস্যা।
◊ কীভাবে অন্যান্য সমস্যার কারণ ? উ: কর্মসংস্থানে সমস্যা বয়ে আনে।
◊ আবাসন কিভাবে সমস্যা হিসাবে রূপ নেয় ? উ: স্থানান্তর।
◊ সমাজকল্যাণের সাথে অধিকতর সম্পর্কিত দুটি বিষয় কি কি ? উ: সমাজবিজ্ঞান ও মনোবিজ্ঞান।
◊ সমাজ সংস্কারের আবশ্যকতা দেখা কি কারণে ? উ: সমাজের ক্ষতি করে এমন।
◊ কোনো প্রথা বিলুপ্তকরণে ভূমিকা নেয় সামাজিক আইনের বৈশিষ্ট্য কি ? উ: সমাজে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সহায়তা করা।
◊ পরিবারের অভ্যন্তরে সম্পর্কের ধরণ কেমন ? উ: পরস্পর সহায়ক।
◊ নগরায়ণ ও শিল্পায়ন সৃষ্ট সমস্যা কোনটি ? উ: অপরাধপ্রবণতা ও পরিবেশগত দুর্যোগ সৃষ্টি।
◊ সমাজকল্যাণ ও সমাজ উন্নয়ন কি রকম ? উ: পরস্পর সম্পর্কিত।
◊ সমাজকর্ম ও সমাজসেবা কি রকম ? উ: অভিন্ন বিষয়।
◊ অপরাধ ও অপরাধপ্রবণতার মধ্যে কোনটি সমাজতাত্ত্বিকভাবে অধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ? উ: অপরাধ ও অপরাধপ্রবণতা দুটিই।
◊ সমাজকল্যাণ ও সমাজকর্ম প্রায়োগিক দিক থেকে কি রকম ? উ: সমার্থক।
◊ সমাজসেবক ও সমাজসংস্কারক কি রকম ? উ: সমার্থক নয়।
◊ নারীশিক্ষা ও শিশুমৃত্যু প্রধানত কিসের উপাদান ? উ: সমাজকল্যাণের।
◊ জ্ঞাতি সম্পর্ক ও জাতি সম্পর্ক কি রকম ? উ: ভিন্ন।
◊ নারী উন্নয়ন ও ক্ষমতায়নে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালনে করণীয় কি ? উ: অধিকার সচেতনতায় সুশীল সমাজের ভূমিকা।
◊ প্রবেশন ও প্যারোল কি ? উ: একটি শাস্তি ভোগ করার আগে আর একটি কিছু শাস্তি ভোগ করার পর।

যুক্তিবিদ্যা

◊ যুক্তিবিদ্যার শ্রেণীবিভাগ কোনটি ? উ: অবরোহ, আরোহ, প্রতীকী।
◊ সহানুমান কোন ধরনের অনুমান ? উ: মাধ্যম অনুমান।
◊ জাত্যর্থক পদ কোনটি ? উ: মানুষ।
◊ পদ মাত্রেই বাক্যের কি ? উ: উদ্দেশ্য ও বিধেয়।
◊ মিলের মতে আরোহী পদ্ধতি কত প্রকার ? উ: ৩ প্রকার।
◊ সব কাক কালো, সব কোকিল কালো। সব কোকিল কাক এটি কোন ধরনের অনুপপত্তি ? উ: চতুষ্পতি অনুপপত্তি।
◊ কক্রক সংজ্ঞার উদাহরণ কোনটি ? উ: Man is a human being.
◊ যুক্তবিদ্যার জনক কে ? উ: এরিস্টটল।
◊ তাৎপর্য অনুসারে বাক্যকে ভাগ করা হয় ? বিশ্লেষক বাক্য ও সংশ্লেষক বাক্য।
◊ Man is born free, but everywhere he is in chain. উক্তিটি কার ? উ: রুশো।
◊ দার্শনিক হেগেল কোন দেশের নাগরিক ? উ: জার্মানির।
◊ বৈজ্ঞানিক আরোহের স্তর কয়টি ? উ: তিনটি।
◊ মিলের পরীক্ষণ পদ্ধতি কয়টি ? উ: পাঁচটি।
◊ সহানুমানের সংস্থান কয়টি ? উ: চারটি।
◊ নক্ষত্রের পতনের সঙ্গে রাজার মৃত্যু হলো এটি কোন ধরনের অনুপপত্তি ? উ: কাকতালীয়।
◊ যৌক্তিক চিন্তার মূলসূত্র কয়টি ? উ: ৬ টি।
◊ যৌক্তিক সংজ্ঞার কাজ কি ? উ: পদের অর্থ স্পষ্ট করা।
◊ সহানুমানের আবিষ্কর্তা কে ? উ: কোহেন।
◊ দাদৃশ্যানুমান কোন ধরনের অনুমান ? উ: আরোহ অনুমান।
◊ অন্বয়ী পদ্ধতি কিসের উপর নির্ভরশীল ? উ: সামঞ্জস্যের উপর।
◊ পরফিবির মতে বিধেয়ক কত প্রকার ? উ: ৫ প্রকার।
◊ প্রাকল্পিক বচনের প্রথম অংশকে কি বলে ? উ: পূর্বকল্প।
◊ ঈশ্বর মানুষ সৃষ্টি করেছেন, মানুষ পাপ সৃষ্টি করেছেন। অতএব, ঈশ্বর পাপ সৃষ্টি করেছেন- এটি কোন ধরনের অনুপাত্তি ? উ: অবৈধ চতুস্পদী।

মনোবিজ্ঞান

◊ মনোবিজ্ঞানের আধুনিক সংজ্ঞা কি ? উ: আচরণ ও মানসিকতা প্রক্রিয়ার বিজ্ঞান।
◊ গবেষক প্রাণীর আচরণের উপর যে চলের প্রভাব লক্ষ্য করেন সে চলকে কি বলা হয় ? উ: নির্ভরশীল চল।
◊ কোন গ্রন্থিকে প্রভু গ্রন্থি বলা হয় ? উ: পিটুইটারি গ্রন্থি।
◊ মুরু মস্তিষ্কের কোন এলাকা দর্শন – এর জন্য দায়ী ? উ: অক্সিপিটাল লোব।
◊ সংবেদন সৃষ্টির জন্য নূন্যতম উদ্দীপকের শক্তি বা তীব্রতাকে কি বলা হয় ? উ: সংবেদনের সমতা।
◊ যখন নতুন শিক্ষা পুরাতন শিক্ষনের স্মৃতির উপর বাধা সৃষ্টি করে তাকে কি বলা হয় ? উ: অনুশিক্ষণ প্রতিবন্ধকতা।
◊ চিরায়ত সাপেক্ষীকরণের প্রবক্তা কে ? উ: প্যাভলব।
◊ বুদ্ধি পরিমাপের অভীক্ষা সর্বপ্রথম কে তৈরি করেন ? উ: ক্যাটলে।
◊ গড়, মাধ্যমা ও প্রচুরক কি ? উ: কেন্দ্রীয় প্রবণতা।

ধর্মীয় বিষয়সমূহ

ইসলাম ধর্ম

◊ ধর্মগ্রন্থ: কুরআন।
◊ পবিত্রস্থান: মক্কা-মদিনা।
◊ প্রবর্তক: মুহাম্মদ (সা:)।
◊ উপাসনালয়: মসজিদ।
◊ ইসলাম শব্দের অর্থ কি ? উ: শান্তি (আল্লাহর নিকট আত্মসমর্পন)।
◊ ইসলামের প্রথম বাণী কোনটি ? উ: ইকরা (পড়)।
◊ কুরআন করে নাযিল হয় ? উ: রমজান মাসে (২৩ বছর ধরে)।
◊ কুরআন শব্দের অর্থ কি ? উ: পাঠ করা বা একত্রিত করা।
◊ কুরআনের মাক্কি ও মাদানি সুরা সংখ্যা কত ? উ: যথাক্রমে- ৯২ টি ও ২২ টি।
◊ হিযরতের পূর্ববর্তী সূরাগুলো কি ? উ: মাক্কী (পরবর্তী সুরাগুলো মাদানি)।
◊ আল কুরআনের দীর্ঘতম সূরা কোনটি ? উ: আল বাকারাহ (ক্ষুদ্রতম আল কাউছার)।
◊ আল-কুরআনে প্রথম অবতীর্ণ সূরা কোনটি ? উ: সূরা আলাকের ৫ আয়াত (সর্বশেষ নাজিলকৃত সূরা- সূরা নাস)।
◊ আল-কুরআনের প্রথম অবতীর্ণ পূর্ণাঙ্গ সূরা কোনটি ? উ: আল ফাতিহা (এই সূরাকে উম্মুল কুরআন বলা হয়)।
◊ কুরআনের হৃদয় বলা হয় কোন সূরাকে ? উ: সূরা ইয়াসিনকে।
◊ পবিত্র কুরআনে বালাদুল আমিন বা নিরাপদ শহর বলা হয়েছে কোনটিকে ? উ: পবিত্র মক্কা নগরীকে।
◊ বেহেশত ও দোজখের সংখ্যা কত ? উ: যথাক্রমে ৮ ও ৭ টি।
◊ উৎকৃষ্ট বেহেশত কোনটি ? উ: জান্নাতুল ফেরদৌস (নিকৃষ্ট জাহান্নাম হাবিয়া)।
◊ রাসূল (সা) কবে হিজরত করেন ? উ: ৬২২ খ্রিস্টাব্দে।
◊ বিশ্বের প্রথম লিখিত সনদ কোনটি ? উ: মদিনা সনদ।
◊ সর্বপ্রথম কোথায় কুরআন নাযিল হয় ? উ: মক্কার অদূরে হেরা পর্বতের গুহায়।
◊ জামিউল কুরআন (কোরআন একত্রকারী) বলা হয় কাকে ? উ: হযরত ওসমান (রা)-কে।
◊ কুরআনে জের, যবর, পেশ এবং হরকত সংযোজন করেনকে ? উ: হাজ্জান বিন ইউসুফ।
◊ কুরআন প্রথম বাংলায় অনুবাদ করেন কে ? উ: ভাই গিরিশ চন্দ্ৰ সেন।
◊ মুসলমানদের মধ্যে কে প্রথম কুরআন বাংলায় অনুবাদ করেন ? উ: মাওলানা আমীর উদ্দিন বাসুনিয়া।
◊ কুরআন কোথায় সংরক্ষিত ছিল ? উ: লওহে মাহফুজে।
◊ কুরআনের সর্বশেষ সুরা কোনটি ? উ: সূরা আন নাস।
◊ মোট আসমানি কিতাব কয়টি ? উ: ১০৪ টি।
◊ প্রধান আসমানি কিতাব কয়টি ? উ: ৪ টি।
◊ ইসলামের সর্বপ্রথম মসজিদ নির্মিত হয় কোথায় ? উ: কুবায় (মদিনা)।
◊ ইসলামের সর্বপ্রথম শিক্ষা কেন্দ্র কোনটি ? উ: দারুল আরকাম (মক্কা)।

হিন্দু

◊ ধর্মগ্রন্থ: রামায়ণ, বেদ।
◊ পবিত্রস্থান: গয়া-কাশী।
◊ প্রবর্তক: আর্য ঋষিগণ।
◊ উপাসনালয়: মন্দির।
◊ হিন্দু শব্দটি কোথায় থেকে এসেছে ? উ: সিন্ধু শব্দ থেকে।
◊ সনাতন শব্দের অর্থ কি ? উ: চিরন্তন।
◊ সনাতন ধর্মের ভিত্তি কি ? উ: বেদ।
◊ বেদের ভাষা কি ? উ: সংস্কৃতি।
◊ বেদের অপর নাম কি ? উ: শ্রুতি।
◊ কোন বেদ সবচেয়ে প্রাচীন ? উ: ঋক।
◊ বেদ কত প্রকার ? উ: ৪ প্রকার।
◊ হিন্দু ধর্মের মূল কি ? উ: ব্রহ্ম।
◊ যত মত তত পথ উক্তিটি কার ? উ: রামকৃষ্ণ।
◊ পরম হংসদেবের বৈষ্ণব ধর্মের প্রবর্তক কে ? উ: শ্রী চৈতন্য।
◊ বেদাঙ্গ কয়টি ? উ: ৬ টি (বেদাঙ্গ হলো- সহায়ক গ্রন্থ)।
◊ জন্মান্তরে বিশ্বাসী কারা ? উ: হিন্দুরা।
◊ আর্যদের ধর্ম গ্রন্থের নাম কি ? উ: ঋগ্বেদ।
◊ আর্যদের ভাষা কোনটি ? উ: প্রাচীন বৈদিক।

বৌদ্ধ

◊ ধর্মগ্রন্থ: ত্রিপিটক।
◊ পবিত্রস্থান: বুদ্ধগয়া।
◊ প্রবর্তক: গৌতমবুদ্ধ।
◊ উপাসনালয়: প্যাগোডা।
◊ বৌদ্ধ ধর্মের প্রবর্তক কে ? উ: গৌতম বুদ্ধ।
◊ গৌতম বুদ্ধের আরেক নাম কি ? উ: সিদ্ধার্থ।
◊ গৌতম বুদ্ধের জন্ম হয় কোথায় ? নেপালের লুম্বিনীর এক উদ্যানে।
◊ বুদ্ধ সন্ন্যাসীদের কি বলা হয় ? উ: ভিক্ষু।
◊ গৌতম বুদ্ধ গৃহত্যাগ করেন কখন ? উ: ২৯ বছর বয়সে (নির্বাণ লাভ করেন- ৩৫ বছর বয়সে)।
◊ ত্রিপিটক রচিত কোন ভাষায় ? উ: পালি ভাষায়।
◊ গৌতম বুদ্ধের মুখ নিঃসৃত বাণীকে কি বলা হয় ? উ: সূত্র।
◊ বুদ্ধ শব্দের অর্থ কি ? উ: জ্ঞানী।
◊ বৌদ্ধ ধর্মের মূলকথা কি ? উ: অহিংসা পরম ধর্ম।
◊ বৌদ্ধদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব কি ? উ: বৌদ্ধ পূর্ণিমা।
◊ কোন ধর্মে ঈশ্বরের ধারণা অনুপস্থিত ? উ: বৌদ্ধ।
◊ নির্বাণ অর্থ কি ? উ: পার্থিব জগতের দুঃখ কষ্ট থেকে পরম মুক্তি।
◊ গৌতম বুদ্ধ মৃত্যুবরণ করেন কোথায় ? উ: কুশী নগরে।
◊ শাক্যসিংহ নামে কে পরিচিত ছিলেন ? উ: গৌতম বুদ্ধ।
◊ কোন বাঙালি ভিক্ষু তিব্বতে বৌদ্ধ ধর্ম প্রচার করতে যান ? উ: অতীশ দিপঙ্কর।
◊ বৌদ্ধধর্ম চীন, জাপান, তিব্বত, মিশর, প্রভৃতি দেশে বিস্তার লাভ করে কার প্রচেষ্টায় ? উ: সম্রাট অশোকের প্রচেষ্টায়।
◊ সম্রাট অশোক কি কারণে বৌদ্ধ ধর্ম গ্রহণ করেন ? উ: কলিঙ্গের যুদ্ধের ভয়াবহতা দেখে।
◊ বৌদ্ধ ধর্মের উৎকর্ষ সাধনের জন্য প্রতিষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয় কোনটি ? উ: নালন্দাবিশ্ববিদ্যালয়।
◊ বৌদ্ধদের পবিত্র স্থান তক্ষশিলা কোথায় অবস্থিত ? উ: পাকিস্তানের রাওয়ালপিন্ডিতে।
◊ বাংলায় প্রথম বৌদ্ধ শাসন আনেন কারা ? উ: পালরা।

খ্রিস্টান ধর্ম

◊ ধর্মগ্রন্থ: বাইবেল।
◊ পবিত্রস্থান: জেরুজালেম।
◊ প্রবর্তক: যীশুখ্রিস্ট।
◊ উপাসনালয়: গীর্জা।
◊ যীশুখ্রিস্টের জন্মস্থান কোথায় ? উ: বেথেলহেম।
◊ যীশুর মাতার নাম কি ? উ: মেরি।
◊ খ্রিস্ট ধর্মের ত্রিত্ববাদ কি ? উ: ঈশ্বর, যীশু, আত্মা।
◊ পৃথিবীতে সবচেয়ে বেশি লোক কোন ধর্মের ? উ: খ্রিস্ট ধর্মের।
◊ খ্রিস্টানদের ধর্মীয় প্রধানের উপাধি কি ? উ: পোপ।
◊ খ্রিস্ট ধর্ম মতে যীশু কার পুত্র ছিল ? উ: ঈশ্বরের।
◊ Protestant কোন ধর্মীয় মতবাদ ? উ: খ্রিস্টান।
◊ খ্রিস্টানদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব কি ? উ: বড়দিন।
◊ ক্রুসেড বা ধর্মযুদ্ধ পরিচালিত হয় ? উ:উ: খ্রিস্টান কর্তৃক মূসলমানদের উপর ।

ইহুদি ধর্ম

◊ ধর্মগ্রন্থ: ওন্ড ও নিউ টেস্টামেন্ট।
◊ পবিত্রস্থান: জেরুজালেম।
◊ প্রবর্তক: মুসা আঃ (মোজেস)।
◊ উপাসনালয়: সিনামোম।
◊ ইহুদি ধর্ম গ্রন্থের ভাষা কি ? উ: হিব্রু।
◊ হিব্রু শব্দের অর্থ কি ? যাযাবর বা নিচু জাতি।
◊ Rabbi (র‍্যাবাই) শব্দটি প্রচলিত ছিল ? উ: ইহুদি।
◊ ধর্মের সাথে পৃথিবীতে একমাত্র ইহুদি রাষ্ট্র কোনটি ? উ: ইসরাইল।

শিখ

◊ ধর্মগ্রন্থ: গ্রন্থসাহেব।
◊ পবিত্রস্থান: অমৃতসর।
◊ প্রবর্তক: গুরুনানক।
◊ উপাসনালয়: গুরুদুয়ারা।
◊ গুরুনানক শাহের জন্ম কোথায় ? উ: পাকিস্তানে।

জৈন

◊ পবিত্রস্থান: বর্ধমান।
◊ ধর্মগ্রন্থ: জিন্দাবেস্তা ও দশাতির।
◊ প্রবর্তক: মহাবীর।
◊ জৈন ধর্মের প্রবর্তক মহাবীরের জন্ম কোথায় ? উ: উত্তর বিহারে।

বিশ্বের তিনটি ধর্মালম্বীদের পবিত্রস্থান কোনটি ? জেরুজালেম (মুসলমান, ফ্রিস্টান, ইহুদি)।

Recent General Knowledge in University Admission Tests Part 06
Recent General Knowledge in University Admission Tests Part 06

সাধারণ জ্ঞানের লিখিত প্রস্তুতি

প্রশ্ন: ‘শতবর্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়’ এ বিষয়ে একটি সংক্ষিপ্ত একটি রচনা লিখ।
অথবা,
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শতবর্ষের অর্জন নিয়ে একটি সংক্ষিপ্ত একটি রচনা লিখ।
অথবা,
‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বাঙালি ও বাংলাদেশের ইতিহাস’ এ বিষয়ে সংক্ষিপ্ত একটি রচনা লিখ।

উত্তরঃ স্বাধীন জাতিসত্তার বিকাশের অন্যতম লক্ষ্য নিয়ে ১ জুলাই, ১৯২১ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। ১৯৫২ সালে ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধ এবং এর পরবর্তী সব জনআন্দোলন ও সংগ্রামে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের রয়েছে গৌরবময় ভূমিকা। ১৯২০ সালের ১ জুলাই প্রাচ্যের অক্সফোর্ড খ্যাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ৯৯ বছর শেষ করে শতবর্ষে পদার্পন করে। ৩০ জুন, ২০২১ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার শত বছর পূর্ণ হবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার শতবর্ষ উদযাপনের রূপকল্প বক্তব্য হচ্ছে , ‘টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (SDG) অর্জন, চতুর্থ শিল্পবিপ্লব উপযোগী বিশ্ববিদ্যালয় বিনির্মাণ ও দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি’।
১৭৫৭ সালের ২৩ জুন পলাশীর প্রান্তরে বাংলার স্বাধীনতার সূর্য অস্তমিত হয়। এর মধ্য দিয়ে দীর্ঘদিনের জন্য বাঙালি জাতির স্বাভাবিক অগ্রযাত্রা ব্যাহত হয়। ব্রিটিশ শাসকেরা বিভিন্নভাবে বাঙালিদের দমিয়ে রাখতে চেষ্টা করে। যার ফলে জাতি হিসেবে বাঙালির উন্নতির ধারা ক্রমশ হ্রাস পেতে থাকে। তবে এর পাশাপাশি বাঙালি সমাজের একটি অংশের শিক্ষিত হওয়ার প্রবণতাও লক্ষ্য করা যায়। এই শিক্ষিত সমাজই প্রথম | বাংলাদেশে একটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার প্রয়োজন অনুভব করেন। এরপর নানা পটপরিবর্তনের মাধ্যমে জন্ম নেয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। আর এ বিশ্ববিদ্যালয়ের নেতৃত্বে ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন , ১৯৬২ সালের শিক্ষা আন্দোলন, উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান, ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধ সহ দেশের যেকোন দুঃসময়ে জনতার অধিকার আদায় এবং শাসকশ্রেণির অন্যায়ের বিরুদ্ধে দুর্বার আন্দোলন গড়ে উঠেছে। বলা হয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বিশ্বের একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয়, বিশ্ববিদ্যালয় একটি স্বাধীন দেশ প্রতিষ্ঠায় সর্বোচ্চ ভূমিকা পালন করেছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বাঙালি ও বাংলাদেশের ইতিহাস। বাংলাদেশের ইতিহাসের প্রতিটি অধ্যায়ের সঙ্গে এই বিশ্ববিদ্যালয় জড়িত। তাই স্বাভাবিকভাবেই দেশের যেকোনো ক্রান্তিলগ্নে এই বিশ্ববিদ্যালয়ই সবার আশা-আকাঙ্খার প্রতীক হয়ে দাঁড়ায়। দেশের ইতিহাস, সমাজব্যবস্থা, অর্থনীতি সহ প্রতিটি ক্ষেত্রেই অনস্বীকার্য অবদান রেখেছে এই বিশ্ববিদ্যালয়। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানও ছিলেন এই বিশ্ববিদ্যালয়েরই একজন ছাত্র। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনাসহ সরকারের মন্ত্রিসভার গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী। শতবর্ষে পদার্পন করা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্তমানে ১৩ টি অনুষদ, ৮৪ টি বিভাগ, ৬০ টি ব্যুরো ও গবেষণা কেন্দ্র এবং ১৯ টি আবাসিক হল রয়েছে।

প্রশ্নঃ বাংলাদেশের স্বাধীনতার সূবর্ণজয়ন্তী বা ৫০ বছরে বাংলাদেশের সফলতা বা অর্জন নিয়ে ১০ টি বাক্য লিখুন।

উত্তর: ২০২১ সালের ২৬ শে মার্চ বাংলাদেশের স্বাধীনতার সূবর্ণজয়ন্তী পালন করেছে। স্বাধীনতার ৫০ বছরে বাংলাদেশের অর্জনগুলো নিচে আলোচনা করা হলো:-
০১. আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস: ১৭ নভেম্বর ১৯৯৯ জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতিবিষয়ক সংস্থা (ইউনেস্কো)’র ৩০ তম সাধারণ অধিবেষণে বিশ্বের ১৮৮ টি দেশের সম্মতিক্রমে একুশে ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে ঘোষণা করা হয় যা বাংলাদেশের একটি অনন্য অর্জন।
০২. কৃষি: প্রায় ১৬ কোটি জনগোষ্ঠীর বাংলাদেশ বর্তমানে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ।
০৩. শিক্ষা: বছরের প্রথম দিনে বিনামূল্যে বই বিতরণ, অসস্কুল শিক্ষার্থীদের বৃত্তির ব্যবস্থা ও তাদের শিক্ষা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ‘শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্ট আইন- ২০১২’ প্রণয়ন করা, শিক্ষকদের বেতন বৃদ্ধি ও পর্যাপ্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নির্মাণ এবং পৃষ্ঠপোষকতা করার মধ্য দিয়ে শিক্ষাক্ষেত্রে ব্যাপক উন্নয়ন সাধিত হয়েছে।
০৪. স্বাস্থ্য: স্বাস্থ্য খাতকে যুগোপযোগী করতে প্রণয়ন করা হয়েছে ‘জাতীয় স্বাস্থ্য নীতিমালা -২০১১’ এবং দেশের প্রায় প্রতিটি উপজেলায় নির্মাণ করা হয়েছে সরকারি হাসপাতাল।
০৫. নারী ও শিশু উন্নয়নে অর্জন: নারী ও শিশুর সার্বিক উন্নয়নে ‘জাতীয় নারী উন্নয়ন নীতিমালা -২০১১’ এবং ‘জাতীয় শিশুনীতি -২০১১’ প্রণয়নের মধ্য দিয়ে নারী ও শিশু উন্নয়নে ব্যাপক সফলতা এসেছে।
০৬. নারীর ক্ষমতায়ন: স্বাধীন বাংলাদেশের ৫০ বছরে আমরা প্রধানমন্ত্রী, বিরোধীদলীয় নেত্রী, স্পিকার, বিভিন্ন মন্ত্রী বিচারপতি নির্বাচন কমিশনারসহ আরও অনকে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে নারীদের পেয়েছি।
০৭. শিল্প ও বাণিজ্য খাতে অর্জন: বাংলাদেশের পোশাক শিল্পের পাশাপাশি প্রসার ঘটেছে আবাসন, জাহাজ, ওষুধ, ও প্রক্রিয়াজাতকরণ খাদ্যশিল্পের।
০৮. বিদ্যুৎ ও যোগাযোগ খাতে সফলতা: বাংলাদেশ বর্তমানে ১০০ ভাগ বিদ্যুতায়নের পথে এবং পদ্মা সেতু, মেট্রোরেল, এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণের মধ্য দিয়ে যোগাযোগ ব্যবস্থায় ব্যাপক অর্জন সাধিত হয়েছে।
০৯. অর্থনীতিতে অর্জন: আয়ে বিশ্বের ৮ম, নতুন নতুন অর্থনৈতিক অঞ্চল নির্মাণ, জিডিপি’তে প্রবৃদ্ধি বৃদ্ধির মধ্য দিয়ে বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম অর্থনৈতিক দেশে পরিণত হওয়ার পথে বাংলাদেশ।
১০. যুদ্ধাপরাধ ও বঙ্গবন্ধুর খুনীদের বিচার: দেশে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, ১৯৭১ সালের যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার , বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যাকারীদের বিচার করার মধ্য দিয়ে বিচার বিভাগে বাংলাদেশ সফলতা দেখিয়েছে।

প্রশ্ন: মুজিববর্ষ নিয়ে একটি অনুচ্ছেদ লিখ।

উত্তর: সর্বকালের শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্ম শতবর্ষ এবং বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতার সূবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে ১৭ মার্চ ২০২০ থেকে ২০২২ সালের ৩১ মার্চ [পূর্বে ছিল ১৭ মার্চ ২০২০ থেকে ২০২১ সালের ১৬ ডিসেম্বর] সময়কালকে বাংলাদেশ সরকার মুজিববর্ষ হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত নেয়। ১০ জানুয়ারি ২০২০ মুজিববর্ষের ক্ষণ গণনা শুরু হয়। মুজিববর্ষের স্লোগান হলো- ‘মুজিব বর্ষের প্রতিশ্রুতি, আর্থিক খাতের অগ্রগতি’। ওয়েবসাইট: mujib100.gov.bd মুজিববর্ষের লোগো’র ডিজাইনার করেন সব্যসাচী হাজরা। বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে শেখ মুজিবুর রহমানের ভূমিকা তৃণমূল পর্যায়ে প্রচারের পাশাপাশি প্রতি বছরের মতই তার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস, আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী, জাতীয় শোক দিবস এবং জেল হত্যা দিবসও পালিত হবে। এছাড়াও বাংলাদেশ সরকার জন্মশতবার্ষিকী ও মুজিববর্ষ উদযাপন উপলক্ষ্যে স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ও প্রামাণ্যচিত্র নির্মাণের পরিকল্পনা করেছে। মুজিববর্ষের কর্মসূচী হিসেবে দেশের গরীব ও অসচ্ছল মানুষের মাঝে বিভিন্ন সহায়তা প্রদান ও গৃহহীনদের মাঝে ঘর উপহার দেওয়া হয়। বাংলাদেশের পাশাপাশি অনেক দেশে মুজিববর্ষ উপলক্ষে বিভিন্ন কর্মসূচী পালন করা হচ্ছে। বাংলাদেশের সাথে যৌথভাবে বৈশ্বিকভাবে এ দিবস পালন করছে ইউনেস্কো। ২৫ নভেম্বর ২০১৯ (১২-১৩ নভেম্বর ২০১৯ প্যারিসে অনুষ্ঠিত ইউনেস্কোর ৪০ তম সাধারণ অধিবেষণে) ইউনেস্কো-তে এ সিদ্ধান্ত গৃহিত হয়। ইউনেস্কোর ১৯৩ টি সদস্য দেশকে নিয়ে বিশ্বব্যাপী মুজিববর্ষ পালিত হচ্ছে।

প্রশ্ন : করোনাভাইরাসের কবলে বিশ্ব আজ বিপর্যস্ত। এ করোনাভাইরাস উৎপত্তি ও বিস্তার সম্পর্কে লিখ

উত্তরঃ বর্তমান বিশ্বে এক ভয়াবহ বিপর্যয়ের নাম করোনা ভাইরাসজনিত রোগ ‘কোভিড -১৯’। নিচে এর উৎপত্তি ও বিস্তার সম্পর্কে লিখা হলো প্রাচীন গ্রিক শব্দ করোন (Korone) থেকে সপ্তদশ শতকে ল্যাটিন ভাষায় যুক্ত হয় করোনা (Korona) শব্দটি। COVID-19 এর CO দিয়ে Corona, VI দিয়ে Virus , D দিয়ে Disease. আর ভাইরাস ছড়ানোর সময় হিসেবে 19 (2019) সালকে চিহ্নিত করা হয়েছে। ১৯৩০ এর দশকে করোনা ভাইরাসের প্রথম সন্ধান সন্ধান মিলে। চীনের হুবেই প্রদেশের উহানে ৩১ ডিসেম্বর ২০১৯ করোডাইরাস এর উৎপত্তি ঘটে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২০ এ রোগটিকে ‘কোভিড -১৯’ নামকরণ করে। এ রোগে আক্রান্ত হলে জ্বর, কাশি, শ্বাসকষ্ট, শ্বাসপ্রশ্বাসে সমস্যা, পেটে জ্বালাপোড়া, পাতলা পায়খানা লক্ষণগুলো দেখা দেয়। ৯ জানুয়ারি ২০২০ চীনে প্রথম এ রোগে মৃত্যু হয়। এ রোগের কারণে ৩০ জানুয়ারি ২০২০ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বৈশ্বিক জরুরি অবস্থা জারি করে এবং ১১ মার্চ ২০২০ এ রোগকে বৈশ্বিক মহামারি ঘোষণা করে। তারপর দ্রুত এ রোগটি সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পরে এবং বিশ্বজুড়ে মহামারি আকার ধারণ করে। এ রোগ প্রতিরোধে বিভিন্ন দেশ প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এ রোগ প্রতিরোধে এ পর্যন্ত ১০ টি টিকাকে ব্যবহারের অনুমোদন দিয়েছে।

প্রশ্ন: করোনাভাইরাস মোকাবেলায় বাংলাদেশের প্রস্তুতি ও সফলতা সম্পর্কে লিখ।

উত্তর: করেনা ভাইরাসের ফলে সৃষ্ট রোগ ‘কোভিড-১৯’ এ আজ সারা বিশ্ব আক্রান্ত। বিশ্বের অন্যান্য দেশের পাশাপাশি এ রোগটি বাংলাদেশেও আক্রমণ করে। ৮ মার্চ ২০২০ বাংলাদেশে প্রথম এ রোগ শনাক্ত হয়। কিন্তু বাংলাদেশ সরকার শুরু থেকেই এ ব্যাপারে সচেতন ছিল। তাই তুলনামূলকভাবে বাংলাদেশ করোনা ভাইরাস মোকাবেলায় বিশ্বের অনেক উন্নত দেশের চেয়ে সফলতা দেখিয়েছে। নিচে এ সম্পর্কে আলোচনা করা হলো-
বাংলাদেশে ৮ মার্চ ২০২০ করোনা ভাইরাস শনাক্ত হলে সরকার এ ব্যাপারে সচেতন হয়ে উঠে। ২৬ মার্চ ২০২০ থেকে দেশে লকডউন চালু হয়। দেশের বাইরে থেকে সকল ধরণের যাতায়াত বন্ধ হয়ে গেলেও মাস্ক, প্রটেকটিভ গিয়ার, অন্যান্য ওষুধসহ ১৭ ধরনের পণ্য আমদানি শুল্ক ও কর অব্যাহতি ঘোষণা করে। দেশব্যাপী সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে নানান প্রচারণা শুরু করে। সরকার জনসাধারণকে নিরাপদ রাখতে অনেকগুলো পদক্ষেপ গ্রহণ করে , ফলে তুলনামূলকভাবে আমাদের প্রতিবেশী দেশ এবং উন্নত বিশ্বের অনেক দেশের তুলনায় এখানে আক্রান্তের সংখ্যা এবং মৃতের সংখ্যা কম হয়। দরিদ্রদের জন্য বিভিন্ন খাদ্য কর্মসূচি , বিভিন্ন সেক্টরে প্রণোদনা চালু করার মাধ্যমে অর্থনীতিকে সচল রাখার চেষ্টা অব্যাহত রাখে। বিশ্বের বড় অর্থনীতির দেশগুলো যখন জিডিপি তলানিতে চলে গেছে সেখানে বাংলাদেশ তুলনামূলক বিচারে অনেক ভালো অবস্থান ধরে রাখতে সক্ষম হয়। সাম্প্রতিক সময়ে এক প্রতিবেদন অনুযায়ী করোনা ভাইরাস মোকাবেলায় দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশের অবস্থান সবার শীর্ষে এবং বিশ্বে পঞ্চম।

প্রশ্ন : অষ্টম পঞ্চবার্ষিক সম্পর্কে লিখ।

উত্তর: ২৯ ডিসেম্বর, ২০২০ জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের সভায় অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়। নিচে অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা সম্পর্কে লেখা হলো-
মেয়াদকাল: ২০২০ থেকে ২০২৫
প্রস্তাবিত স্লোগান: দক্ষতার উন্নয়নে বিনিয়োগ।
গুরুত্বপূর্ণ খাত:
১. কর্মসংস্থান তৈরিতে প্রবৃদ্ধি বা জিডিপি গ্রোথ,
২. সবার সমান সুবিধা নিশ্চিত করতে সাম্য ও সমতা এবং
৩. জলবায়ুর বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা করা।
সবচেয়ে বেশি প্রাধান্য পাবে: গ্রাম।
গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যসমূহ:
১. ৭৫ লাখ কর্মসংস্থান সৃষ্টি।
২. ৭৭ লাখ কোটি টাকা বিনিয়োগ। যার ৭৬ % বেসরকারি খাতের।
৩. ডেল্টা ২১০০ প্ল্যানের কার্যক্রম শুরু।
৪. ২০২৪-২৫ অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৮.৫ % অর্জন।
৫. দারিদ্র্যের হার ১২.১৭ % এ নামিয়ে আনা।
প্রধান লক্ষ্য: পাশ্চাত্যের দেশগুলোর মতো গ্রামগুলোকে সাজানো, দেড় কোটি নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির কৌশল।
মনে রাখুন, ভিশন -২০৪১ বাস্তবায়নে (২০২১-২০৪১) মোট পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা থাকছে ৪ টি। ৮ম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা হচ্ছে এর প্রথম। অষ্টম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনার প্রথম ধাপ হবে চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের প্রস্তুতি (২০২০ থেকে) নেয়া।

প্রশ্ন: টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (SDGs) সম্পর্কে লিখ।

উত্তর: টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (SDGs) হলো ভবিষ্যত আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংক্রান্ত একগুচ্ছ লক্ষ্যমাত্রা। জাতিসংঘ লক্ষ্যগুলো প্রণয়ন করেছে এবং “টেকসই উন্নয়নের জন্য বৈশ্বিক লক্ষ্যমাত্রা” হিসেবে লক্ষ্যগুলোকে প্রচার করেছে। এসব লক্ষ্য সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা -কে প্রতিস্থাপন করেছে , যা ২০১৫ সালের শেষ নাগাদ মেয়াদোত্তীর্ণ হয়ে যায়। SGDS-এর মেয়াদ ২০১৬ থেকে ২০৩০ সাল। এতে মোট ১৭ টি লক্ষ্যমাত্রা ও ১৬৯ টি সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

লক্ষ্যসমূহ: ২০১৫ সালের আগস্ট মাসে ১৯৩ টি দেশ নিম্নোক্ত ১৭ লক্ষ্যমাত্রা বিষয়ে একমত হয়েছে। যথা- ০১. দারিদ্র্য বিমোচন, ০২. ক্ষুধা মুক্তি, ০৩. সুস্বাস্থ্য, ০৪. মানসম্মত শিক্ষা, ০৫. লিঙ্গ সমতা, ০৬. সুপেয় পানি ও পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা, ০৭. নবায়নযোগ্য ও ব্যয়সাধ্য জ্বালানী, ০৮. ভালো চাকুরি ও অর্থনীতি, ০৯. উদ্ভাবন ও উন্নত অবকাঠামো, ১০. বৈষম্য হ্রাস, ১১. টেকসই নগর ও সম্প্রদায়, ১২. সম্পদের দায়ীত্বপূর্ণ ব্যবহার, ১৩. জলবায়ু বিষয়ে পদক্ষেপ, ১৪. টেকসই মহাসাগর, ১৫. ভূমির টেকসই ব্যবহার, ১৬. শান্তি, ন্যায়বিচার ও কার্যকর প্রতিষ্ঠান, ১৭. টেকসই উন্নয়নের জন্য অংশীদারিত্ব।

প্রশ্ন: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিশেষ উদ্যোগ কয়টি এবং কি কি ? আমার বাড়ি আমার খামার সম্পর্কে লিখ।

উত্তর: মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিশেষ উদ্যোগ ১০ টি। যথা-
০১. আমার বাড়ি আমার খামার, ০২. আশ্রয়ণ প্রকল্প, ০৩. ডিজিটাল বাংলাদেশ, ০৪. শিক্ষা সহায়তা কর্মসূচি, ০৫. নারীর ক্ষমতায়ন, ০৬. ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ, ০৭. কমিউনিটি ক্লিনিক ও মানসিক স্বাস্থ্য, ০৮. সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি, ০৯. বিনিয়োগ বিকাশ এবং ১০. পরিবেশ সুরক্ষা
শেখ হাসিনার বিশেষ ১০ টি উদ্যোগের মধ্যে ১ নম্বর হচ্ছে ‘আমার বাড়ি আমার খামার’। ‘আমার বাড়ি আমার খামার’ প্রকল্পটির পূর্বের নাম ছিল ‘একটি বাড়ি একটি খামার’। ‘আমার বাড়ি আমার খামার’ প্রকল্পটি স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের অধীনে।

প্রশ্ন: Fast Track Project কী ? বাংলাদেশ সরকারের Fast Track Project থেকে যেকোন এটি সম্পর্কে সংক্ষেপে লিখ।

উত্তর: সরকারের অগ্রাধিকারমূলক মেগা প্রজেক্টগুলোকে একত্রে Fast Track Project বলা হয়। বর্তমানে দেশের Fast Track Project এর কয়েটি হচ্ছে- ০১. পদ্মা বহুমুখী সেতু, ০২. পদ্মা রেল সংযোগ প্রকল্প, ০৩. ঢাকা মেট্রোরেল, ০৪. রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, ০৫. বঙ্গবন্ধু (কর্নফুলী) টানেল, ০৬. পায়রা সমুদ্র বন্দর, ০৭. মৈত্রী সুপার থার্মাল বিদ্যুৎ প্রকল্প (রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র), ০৮. মাতারবাড়িতে দেশের প্রথম গভীর সমুদ্রবন্দর ইত্যাদি

তিনটি প্রকল্পের সার-সংক্ষেপ
পদ্মা বহুমুখী সেতু – মাওয়া-জাজিরা – ৬.১৫ কিলোমিটার – দেশের সর্ববৃহৎ সেতু চীন
বঙ্গবন্ধু (কর্নফুলী) টানেল – কর্ণফুলী নদীর তলদেশে – ৩.৪ কিলোমিটার – দেশের প্রথম টানেল চীন
ঢাকা মেট্রোরেল – উত্তরা-মতিঝিল – ২০.১০ কিলোমিটার – দেশের প্রথম মেট্রোরেল জাপান

প্রশ্ন: পদ্মা সেতুর অর্থনৈতিক গুরুত্ব সম্পর্কে একটি অনুচ্ছেদ লিখ।

উত্তর: পদ্মা বহুমুখী সেতু প্রকল্প মাওয়া-জাজিরা পয়েন্ট দিয়ে নির্দিষ্ট পথের মাধ্যমে দেশের কেন্দ্রের সাথে দক্ষিণ-পশ্চিম অংশের সরাসরি সংযোগ তৈরি করবে। এই অপেক্ষাকৃত অনুন্নত অঞ্চলের সামাজিক, অর্থনৈতিক ও শিল্প বিকাশে উল্লেখযোগ্যভাবে অবদান রাখবে। প্রকল্পটির ফলে প্রত্যক্ষভাবে প্রায় ৪৪,০০০ বর্গ কি.মি. (১৭,০০০ বর্গ মাইল) বা বাংলাদেশের মোট এলাকার ২৯ % অঞ্চলজুড়ে ৩ কোটিরও অধিক জনগণ প্রত্যক্ষভাবে উপকৃত হবে। ফলে প্রকল্পটি দেশের পরিবহণ নেটওয়ার্ক এবং আঞ্চলিক অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো হিসাবে বিবেচিত হচ্ছে। সেতুটিতে ভবিষ্যতে রেল, গ্যাস, বৈদ্যুতিক লাইন এবং ফাইবার অপটিক কেবল সম্প্রসারণের ব্যবস্থা রয়েছে। এছাড়া
০১. প্রতিবছর ১.৯ % হারে দারিদ্র্য হ্রাস পাবে।
০২. অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির হার বাড়বে ১.২ %।
০৩. নির্মিত হওয়ার বছরের মধ্যে জিডিপি ৬০০০ মিলিয়ন ডলার বৃদ্ধি পাবে এবং ২০৩২ সালের পর বাৎসরিক রিটার্ন ৩০০ মিলিয়ন ডলারে দাঁড়াবে।
০৪. দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১ টি উপকূলীয় জেলার সাথে রাজধানী ঢাকাসহ পূর্বাঞ্চলের যোগাযোগ শক্তিশালী হবে বা অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ নেটওয়ার্ক শক্তিশালী হবে। ফলে ঐ অঞ্চলের কৃষি, যোগাযোগ, শিল্পায়ন, নগরায়ন, জীবনমান বৃদ্ধি পাবে যা দেশের সার্বিক উন্নয়ন ঘটাবে।
০৫. বিসিআই এমের রুটের সাথে কানেক্ট থাকায় আন্তর্জাতিক যোগাযোগ বৃদ্ধি পাবে।
০৬. পদ্মা সেতু ও উভয় পাড়ের পর্যটন থেকেই প্রতিবছর কয়েক শ কোটি টাকা আয় হবে। উভয় পাড়ে সিঙ্গাপুর , হংকের আদলে আধুনিক সিটি তৈরি করা হবে।
০৭. ১৫৬ মিলিয়ন ডলার মূল্যমানের ৯ হাজার হেক্টর জমি নদী ভাঙ্গন থেকে রেহাই পাবে। পাশাপাশি বন্যার কবল থেকেও থেকেও রক্ষা পাবে কয়েক লক্ষ মানুষ।
০৮. ৫০ % ভর্তুকি দিয়ে চালু রাখা ফেরি সার্ভিস চালু রাখা বন্ধ হবে এবং আদায়কৃত টোল সম্পূর্ণরুপে সরকার পাবে। ফলে প্রতিবছর সরকারের আয় বাড়বে প্রায় ৪০০০ মিলিয়ন ডলার।
০৯. সেতুর উভয় পাশেই ব্যাপক হারে শিল্পায়ন ও নগরায়ন ঘটবে যা অর্থনীতির চাকা সচল রাখবে।
১০. প্রায় ২ কোটির অধিক বেকারের কর্মসংস্থান ঘটবে বলে আশা করা যাচ্ছে।

প্রশ্ন: জলবায়ু কি ? জলবায়ু পরিবর্তনে বাংলাদেশের উপর কি কি নেতিবাচক প্রভাব পড়বে ?

জলবায়ু: সাধারণত জলবায়ু বা Climate বলতে কোন স্থানের ৩০-৪০ বছরের আবহাওয়ার গড়কে নির্দেশ করে। অর্থাৎ কোন স্থান বা এলাকার ৩০-৪০ বছরের আবহাওয়ার গড়কে জলবায়ু বলা হয়।

জলবায়ু পরিবর্তনে বাংলাদেশের উপর নেতিবাচক প্রভাব:
জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য দায়ী হ। মূলত উন্নত দেশগুলো। কেবল চীন আর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র মিলেই বিশ্বের প্রায় ৪০ শতাংশ কার্বন নির্গমন করে। কিন্তু এই দূষণের ফলে সৃষ্ট পরিবেশগত বিপর্যয়ের অন্যতম ভুক্তভোগী হচ্ছে বাংলাদেশ। নিচু দেশ হবার কারণে বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চল তলিয়ে যাওয়ার আশংকায় আছে। জলবায়ু পরিবর্তনে বাংলাদেশ যেসব সমস্যার | মুখোমুখি হতে পারে তার সংক্ষিপ্ত বিবরণ নিচে দেওয়া হল ;
০১. বন্যা: প্রতি বছর বাংলাদেশ বন্যা পরিস্থিতির মোকাবিলা করে। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বৃষ্টি চক্রে সমস্যা দেখা দেওয়ার কারণে মাঝে মাঝে অতিবৃষ্টি দেখা দেয়। এটা বন্যা সৃষ্টির অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
০২. বজ্রঝড়: সম্প্রতি বাংলাদেশে বজ্রপাতকে দুর্যোগ হিসেবে ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। বজ্রপাতের ফলে মৃত্যুর সংখ্যা ইদানীং দ্রুত বাড়ছে। এটি প্রকৃতির নিষ্ঠুরতার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে দেশে ঝড় এবং বজ্রপাতের মাত্রা বৃদ্ধি পাচ্ছে।
০৩. বৃষ্টিপাত হ্রাস: বাংলাদেশ তথা ভারতীয় উপমহাদেশের বৃষ্টিপাতের চক্র দুর্বল হয়ে যাচ্ছে। যার ফলে বৃষ্টিপাতের প্রবাহে সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে। বছর জুড়ে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ হ্রাস পাচ্ছে।
০৪. লবণাক্ততা বৃদ্ধি: বৃষ্টিপাত কমে গেলে তা পানির লবণাক্ততা বাড়িয়ে দিতে সাহায্য করে। বৃষ্টিপাত কমে যাওয়ায় নদ – নদীর পানিপ্রবাহ শুকনো মৌসুমে স্বাভাবিক মাত্রায় থাকে না। ফলে নদীর পানির বিপুল চাপের কারণে সমুদ্রের লোনাপানি যতটুকু এলাকাজুড়ে আটকে থাকার কথা ততটুকু থাকে না, পানির প্রবাহ কম থাকার কারণে সমুদ্রের লোনাপানি স্থলভাগের কাছাকাছি চলে আসে। ফলে লবণাক্ততা বেড়ে যায় দেশের উপকূলীয় অঞ্চলের বিপুল এলাকায়।
০৫. সুন্দরবনের ক্ষয়ক্ষতি: সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বেড়ে লবণাক্ততা বেড়ে যাওয়ায় ইতোমধ্যেই সুন্দরবনের সুন্দরী গাছে ব্যাপক মাত্রায় আগামরা রোগ দেখা দিয়েছে। অনেকে একে মানবসৃষ্ট কারণ হিসেবে উল্লেখ করতে চাইলেও গবেষকরা একে প্রাকৃতিক কারণ হিসেবেই শনাক্ত করেছেন। সুন্দরবনের অন্যান্য গাছও আগামরা ও পাতা কঙ্কালকরণ পোকার আক্রমণের শিকার হচ্ছে। আক্রান্ত হচ্ছে বাইনের বাগানও।
০৬. অস্বাভাবিক তাপমাত্রা: যেকোন দেশের জলবায়ুর অন্যতম নিয়ন্ত্রক সেই দেশের তাপমাত্রা। বাংলাদেশ নাতিশীতোষ্ণমণ্ডলে অবস্থিত একটি দেশ। এদেশের তাপমাত্রা অন্যান্য চরমভাবাপন্ন দেশের তুলনায় স্বাভাবিক। তবে বৈশ্বিক কার্বন নির্গমনের ফলশ্রুতিতে বাংলাদেশের তাপমাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেতে শুরু করেছে।
০৭. মরুকরণ: স্বল্প বৃষ্টিপাত দিন দিন বেড়েই চলেছে। এর ফলে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নেমে গিয়ে খরায় আক্রান্ত হবে বিপুল সংখ্যক মানুষ, এর মধ্যে বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের লোকই বেশি। এরকম খরায় কত মানুষ ক্ষতিগ্রস্থ হবে , তার ব্যাপারে বিভিন্ন উৎস থেকে আলাদা আলাদা উপাত্ত পাওয়া যায়। কারও মতে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত কারণে ২০৫০ খ্রিস্টাব্দ নাগাদ খরায় উদ্বাস্তু হবে প্রায় ৮০ লক্ষ মানুষ।
০৮. ভূগর্ভস্থ পানির স্তর হ্রাস: বিভিন্ন স্থানে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর হ্রাস পেয়ে দেখা দিচ্ছে স্থায়ী মরুকরণ। রাজশাহীর বরেন্দ্র এলাকায় বৃষ্টিপাত কমে যাওয়ায় নেমে যাচ্ছে পানির স্তর। যদিও এর মধ্যে মানবসৃষ্ট কারণ, বিশেষ করে ভারতের ফারাক্কা বাঁধের প্রভাবও দায়ী , তবে অনাবৃষ্টির দরুন ভূগর্ভস্থ পানির স্তর হ্রাস বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। এছাড়া সুপেয় পানির অভাবে ভূগর্ভস্থ পানির ব্যাপক ব্যবহার বেড়ে যাওয়ায়ও ভূগর্ভস্থ পানি কমে যাচ্ছে।
০৯. ঘূর্ণিঝড় জলোচ্ছাস বা সাইক্লোন: যদিও স্বাভাবিকভাবেই বাংলাদেশের জন্য একটি নৈমিত্তিক ঘটনা, কেননা ভারত মহাসাগরের উত্তর দিকের এই অঞ্চলটি যথেষ্টই ঝঞ্ঝাবিক্ষুব্ধ অঞ্চল। প্রায় প্রতি বছরের এপ্রিল, মে, জুন এবং সেপ্টেম্বর, অক্টোবর, নভেম্বরে বঙ্গোপসাগরে লঘুচাপ ও নিম্নচাপের সৃষ্টি হয় ও তা জল-ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয়। আর সেই তান্ডবে ব্যাপক জলোচ্ছাসে তলিয়ে যায় উপকূলবর্তি হাজার হাজার একর স্থলভাগ।
১০. স্থায়ী জলাবদ্ধতা: জলোচ্ছ্বাসের সময় সমুদ্র থেকে আসা লোনা পানিতে অনেক নিম্নভূমিতে সৃষ্টি হয় দীর্ঘমেয়াদী জলাবদ্ধতা। এছাড়া প্রচণ্ড জল-ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে ভেঙ্গে পড়ে উপকূলীয় অঞ্চলের অবকাঠামো, বেড়িবাঁধ। ফলে অ্যাধে লোনা পানি প্রবেশ করে জলাবদ্ধতাকে স্থায়ী রূপ দেয। প্রতিটি ঘূর্ণিঝড়ের পরবর্তী সময়ে সাতক্ষীরা, খুলনা, বাগেরহাট, এবং কক্সবাজারের টেকনাফসহ অন্যান্য জায়গায় এই জলাবদ্ধতা দেখা দেয়।
অন্যান্য সমস্যা
শিলাবৃষ্টি/Hailstones
অতিবৃষ্টি/Excessive rainfall
নদী ভাঙ্গন/River Erosion
ভূমিধ্বস/Landslide
ভূমিকম্প/Earthquake
সুনামি/Tsunami

প্রশ্ন: ১৯৬৬ সালের ৬ দফা আন্দোলন সম্পর্কে কি জানো ? এ বিষয়ে একটি অনুচ্ছেদ লিখ।

উত্তর: ১৯৬৬ সালের ছয় দফা আন্দোলন: ছয় দফা আন্দোলন বাংলাদেশের একটি ঐতিহাসিক ও গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ঘটনা। ১৯৬৬ সালের ৫ ও ৬ ফেব্রুয়ারি লাহোরে অনুষ্ঠিত বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর এক সম্মেলনে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে শেখ মুজিবুর রহমান পূর্ব পাকিস্তানের স্বায়ত্তশাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে “৬ দফা দাবি” পেশ করেন। আনুষ্ঠানিকভাবে ছয় দফা উত্থাপন করা হয় লাহোর প্রস্তাবের সাথে মিল রেখে ২৩ মার্চ।
ছয় দফা দাবির মূল উদ্দেশ্য- পাকিস্তান হবে একটি ফেডারেলরাষ্ট্র এবং ছয় দফা কর্মসূচীর ভিত্তিতে এই ফেডারেলরাষ্ট্রের প্রতিটি অঙ্গরাজ্যকে পূর্ন স্বায়ত্তশাসন দিতে হবে। ছয়দফা কর্মসূচীর ভিত্তি ছিল ঐতিহাসিক লাহোর প্রস্তাব। পরবর্তীকালে এই ৬ দফা দাবিকে কেন্দ্র করে বাঙালি জাতির স্বায়ত্তশাসনের আন্দোলন জোরদার করা হয়।
দফাসমূহঃ
০১. ঐতিহাসিক লাহোর প্রস্তাবের ভিত্তিতে শাসনতন্ত্র রচনা করে পাকিস্তানকে একটি শক্তিশালী ফেডারেশ বা যুক্তরাষ্ট্ররূপে গড়তে হবে। এতে পার্লামেন্টারি সরকার পদ্ধতি থাকবে এবয় আইন গুলো হবে সর্বাভৌম।সকল নির্বাচনী প্রাপ্ত বয়স্কদের সরকারি ভোটে অনুষ্ঠিত হবে।
০২. কেন্দ্রীয় বা ফেডারেল সরকারের এখতিয়ার কেবল দেশ রক্ষা ও পররাষ্ট্র এ দুটি বিষয় থাকবে। অবশিষ্ট সকল বিষয়ে ক্ষমতা থাকবে প্রাদেশিক সরকারের হাতে।
০৩. পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানের জন্য দুটি সম্পূর্ণ পৃথক অথচ সহজে বিনিয়োগ মুদ্রা থাকবে। এ ব্যবস্থায় মুদ্রা নিয়ন্ত্রণ আঞ্চলিক সরকারের হাতে থাকবে এবং দুই অঞ্চলের জন্য দুটি স্বতন্ত্র ব্যাংক থাকবে। এ ব্যবস্থায় বিকল্পসরূপ দুই অঞ্চলের জন্য কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণে একই মুদ্রা থাকতে পারে।
০৪. সকল প্রকার কর, খাজনা ধার্য ও আদায়ের ক্ষমতা থাকবে আঞ্চলিক ক্ষমতার হাতে। আঞ্চলিক সরকার আদায়কৃত রাজস্বের একটি নির্দিষ্ট অংশ কেন্দ্রীয় সরকারকে দেয়ার ব্যবস্থা থাকবে, যা দিয়ে ফেডারেল তহবিল গড়ে উঠবে।
০৫. বৈদেশিক বাণিজ্য থেকে আয়কৃত বৈদেশিক মুদ্রা আঞ্চলিক ভিত্তিতে হিসাব রাখতে হবে। তবে কেন্দ্র এ আয়ের একটি নির্ধারিত অংশ পাবে।
০৬. অঙ্গরাজ্যগুলো তাদের প্রতিরক্ষার জন্য মিলিশিয়া বা প্যারামিলিটারি রক্ষীবাহিনী গঠনের অধিকার থাকবে। ছয় দফা দাবি ছিল পূর্ব পাকিস্তানের জাতীয় ‘মুক্তির সনদ’। ছয় দফা কর্মসূচি বাস্তবায়িত হলে দুই অঞ্চলের মধ্যে বিরাজমান অসমতা কমে আসত এবং পাকিস্তান একটি শক্তিশালী ফেডারেল রাষ্ট্রেরূপে বিকাশ লাভ করতে পারত। কিন্তু পশ্চিম পাকিস্তানী শাসক গোষ্ঠীর একগুঁয়েমির ফলে তা ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়।

প্রশ্নঃ ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচন সম্পর্কে সংক্ষেপে লিখ।

উত্তর: ইয়াহিয়া খানের সামরিক শাসনামলে পাকিস্তানে প্রথম জাতীয় পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ১৯৭০ সনের ৭ ডিসেম্বর। পূর্ব পাকিস্তানে প্রাদেশিক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ১৯৭০ সালের ১৭ ডিসেম্বর। এ নির্বাচনে জাতীয় পরিষদের ৩০০ টি আসনের মধ্যে আওয়ামী লীগ পায় ১৬০ টি। আর সংরক্ষিত ১৩ টি আসনে পায় ৭ টি। অপরদিকে, পূর্ব পাকিস্তানের প্রাদেশিক পরিষদের ৩০০ টি আসনের মধ্যে আওয়ামী লীগ পায় ২৮৮ টি। আর সংরক্ষিত ১০ টি আসনে পায় ১০ টি। এ নির্বাচনে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের দায়িত্ব পালন করেন বিচারপতি আবদুস সাত্তার। এ নির্বাচনের মাধ্যমে বাঙালি জাতীয়তাবাদের আরও অগ্রগতি হয় এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনের জন্য আরও এগিয়ে যায়।

প্রশ্নঃ ১৯৭১ সালের ৭ ই মার্চের ভাষণ সম্পর্কে লিখ।

উত্তর: ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ (বাংলা ২২ ফাল্গুন, ১৩৭৭ বঙ্গাব্দ) রোজ রবিবার ঢাকার রমনায় অবস্থিত রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) অনুষ্ঠিত প্রায় ১০ লক্ষ জনতার জনসভায় শেখ মুজিবুর রহমান কর্তৃক প্রদত্ত এক ঐতিহাসিক ভাষণ। ৭ মার্চ বিকেল ৩ টা ২০ মিনিটে বঙ্গবন্ধু মঞ্চে উপস্থিত হন। উক্ত ভাষণ প্রায় ১৯ মিনিট স্থায়ী হয়। এই ভাষণে তিনি তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের (বর্তমানে বাংলাদেশ) বাঙালিদেরকে স্বাধীনতা সংগ্রামের জন্য প্রস্তুত হওয়ার আহ্বান জানান। এই ভাষণের একটি লিখিত ভাষ্য অচিরেই বিতরণ করা হয়েছিল। এটি তাজউদ্দীন আহমদ কর্তৃক কিছু পরিমার্জিত ছিল। পরিমার্জন মূল উদ্দেশ্য ছিল সামরিক আইন প্রত্যাহার এবং নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের দাবীটির ওপর গুরুত্ব আরোপ করা। ১২ টি ভাষায় ভাষণটি অনুবাদ করা হয়। এ ভাষণের কারণে নিউজউইক ম্যাগাজিন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে রাজনীতির কবি হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। ২০১৭ সালের ৩০ শে অক্টোবর ইউনেস্কো এই ভাষণকে ঐতিহাসিক দলিল হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।

প্রশ্নঃ ১৯৭১ সালের অসহযোগ আন্দোলন সম্পর্কে একটি অনুচ্ছেদ লিখ।

উত্তর: বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আহবানে ১৯৭১ সালের ২ মার্চ থেকে ২৫ মার্চ পর্যন্ত পাকিস্তান সরকারের বিরুদ্ধে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে পরিচালিত আন্দোলনই অসহযোগ আন্দোলন। এ আন্দোলনে কেন্দ্রীয় শাসনের বিপরীতে স্বশাসন প্রতিষ্ঠার কথা বলা হয়। ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান রেসকোর্স ময়দানে দিগনির্দেশনামূলক ভাষণের মাধ্যমে অসহযোগ আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করেন। এছাড়া আওয়ামী লীগ বিভিন্ন নির্দেশের মাধ্যমে এ আন্দোলন পরিচালনা করে। ১৯৭০ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। কিন্তু সরকার গঠনে আহবান জানানোর পরিবর্তে পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান ১৯৭১ সালের ১ মার্চ জাতীয় পরিষদ অধিবেশন অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত ঘোষণা করেন। শেখ মুজিবুর রহমান এ সিদ্ধান্তকে ‘দুর্ভাগ্যজনক’ আখ্যা দেন এবং এর প্রতিবাদে ২ মার্চ ঢাকায় এবং -৩ মার্চ সমগ্র পূর্ব পাকিস্তানে হরতাল আহবান করেন। আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে জনগণ অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য পূর্ব পাকিস্তানে অসহযোগ আন্দোলন শুরু করে। নির্বাচনের ফলাফলের ভিত্তিতে ক্ষমতা হস্তান্তরে সামরিক সরকারের গড়িমসি এবং পশ্চিম পাকিস্তানের প্রধান রাজনৈতিক দল পাকিস্তান পিপল্‌স পার্টির সরাসরি অসহযোগিতার ফলে শেখ মুজিবুর রহমান অসহযোগ আন্দোলনের ডাক দেন। এর বিস্তৃতি ছিল সম্পূর্ণ পূর্ব পাকিস্তান ব্যাপী। অসহযোগ আন্দোলনের পরিণতিতে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হয় এবং নয়মাস যুদ্ধের পর স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের অভ্যুদয় ঘটে।

প্রশ্ন: বাংলাদেশের অস্থায়ী সরকার বা মুজিবনগর সরকার সম্পর্কে একটি অনুচ্ছেদ লিখ।

উত্তর: মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন বাংলাদেশের অস্থায়ী সরকার বা মুজিবনগর সরকার গঠিত হয় ১৯৭১ খ্রিস্টাব্দের ১০ ই এপ্রিল তারিখে। ১৯৭১ সালের ১৭ ই এপ্রিল এই সরকারের মন্ত্রীপরিষদের সদস্যরা শপথ গ্রহণ করেন। ১৯৭১ সালের ২৬ শে মার্চ বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা এবং পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে দেশের জনগণের প্রতিরোধযুদ্ধ শুরু হলেও বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনার জন্য মুক্তিবাহিনী সংগঠন ও সমন্বয় , আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমর্থন আদায় এবং এই যুদ্ধে প্রত্যক্ষ সহায়তাকারী রাষ্ট্র ভারতের সরকার ও সেনাবাহিনীর সঙ্গে সাংগঠনিক সম্পর্ক রক্ষায় এই সরকারের ভূমিকা ছিল অপরিসীম। এই সরকার গঠনের সঙ্গে সঙ্গে পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রতিরোধযুদ্ধ প্রবল যুদ্ধে রূপ নেয় এবং স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশের বিজয় অর্জন ত্বরান্বিত হয়।
১০ এপ্রিল ১৯৭১ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে রাষ্ট্রপতি করে সার্বভৌম গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার ঘোষণা করেন। সৈয়দ নজরুল ইসলামকে উপরাষ্ট্রপতি এবং বঙ্গন্ধুর অনুপস্থিতিতে অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত করা হয়। তাজউদ্দীন আহমদকে প্রধানমন্ত্রী, ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী, খন্দকার মোশতাক আহমেদ ও এ এইচ এম কামরুজ্জামানকে মন্ত্
রিপরিষদের সদস্য নিয়োগ করা হয়। ১১ এপ্রিল এম এ জি ওসমানীকে প্রধান নিযুক্ত করা হয়। প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন ১১ এপ্রিল বাংলাদেশ বেতারে মন্ত্রিপরিষদ গঠনের ঘোষণা দিয়ে ভাষণ প্রদান করেন।
১৭ এপ্রিল ১৯৭১ পূর্ব ঘোষণা মোতাবেক কুষ্টিয়া জেলার মেহেরপুরে বৈদ্যনাথ তলার এক আমবাগানে মন্ত্রিপরিষদের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান আয়োজিত হয়। সকাল ৯ টা থেকেই সেখানে নেতৃবৃন্দ ও আমন্ত্রিত অতিথিদের আগমন শুরু হয়। দেশি বিদেশি প্রায় ৫০ জন সাংবাদিক উক্ত অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। বেলা ১১ টায় শপথ অনুষ্ঠান শুরু হয়। কোরআন তেলাওয়াত ও বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা হয় এবং শুরুতেই বাংলাদেশকে ‘গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ’ রূপে ঘোষণা করা হয়। এরপর অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি একে একে প্রধানমন্ত্রী ও তার তিন সহকর্মীকে পরিচয় করিয়ে দিলেন। এরপর নতুন রাষ্ট্রের সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান হিসেবে কর্নেল এম এ জি ওসমানী এবং সেনাবাহিনীর চিফ অব স্টাফ পদে কর্নেল আবদুর রবের নাম ঘোষণা করেন। এরপর সেখানে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র পাঠ করা হয়। এই ঘোষণাপত্র এর আগেও ১০ এপ্রিল প্রচার করা হয় এবং এর কার্যকারিতা ঘোষণা করা হয় ২৬ ই মার্চ ১৯৭১ থেকে। ঐদিন থেকে ঐ স্থানের নাম দেয়া হয় মুজিবনগর। ঐ অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী উভয়েই বক্তব্য পেশ করেন। প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ তার ভাষণে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণার প্রেক্ষাপট বর্ণনা করেন। ভাষণের শেষাংশে তিনি বলেন,

বিশ্ববাসীর কাছে আমরা আমাদের বক্তব্য পেশ করলাম, বিশ্বের আর কোন জাতি আমাদের চেয়ে স্বীকৃতির বেশি দাবিদার হতে পারে না। কেননা, আর কোন জাতি আমাদের চাইতে কঠোরতর সংগ্রাম করেনি। অধিকতর ত্যাগ স্বীকার করেনি। জয়বাংলা।

প্রশ্ন: দ্য কনসার্ট ফর বাংলাদেশ কি ? এ সম্পর্কে একটি অনুচ্ছেদ লিখ।

উত্তর : দ্য কনসার্ট ফর বাংলাদেশ ছিল ১ আগস্ট ১৯৭১ সালের রবিবার ২.৩০ এবং ৮.০০ অপরাহ্নে নিউ ইয়র্ক সিটির ম্যাডিসন স্কোয়ার | গার্ডেনে প্রায় ৪০,০০০ দর্শকের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত , সাবেক বিটল্স সঙ্গীতদলের লিড গিটারবাদক জর্জ হ্যারিসন এবং ভারতীয় সেতারবাদক রবিশঙ্কর কর্তৃক সংগঠিত দুটি বেনিফিট কনসার্ট। এই প্রদর্শনী পূর্ব পাকিস্তানের (বর্তমানে বাংলাদেশ) শরণার্থীদের জন্য আন্তর্জাতিক সচেতনতা এবং তহবিল ত্রাণ প্রচেষ্টা বাড়াতে, মূলত বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ-সম্পর্কিত বাংলাদেশের নৃশংসতার ফলে সাহায্যের উদ্দেশ্যে আয়োজন করা হয়েছিলো। এই কনসার্টের একটি শ্রেষ্ঠ বিক্রিত লাইভ অ্যালবাম, একটি বক্স-থ্রি রেকর্ড সেট এবং অ্যাপল ফিল্মসের কনসার্টের তথ্যচিত্র নিয়ে ১৯৭২ সালের বসন্তে চলচ্চিত্রাকারে প্রকাশ করা হয়।
এই অনুষ্ঠানে বিশ্ববিখ্যাত সঙ্গীতশিল্পীদের এক বিশাল দল অংশ নিয়েছিলেন, যাঁদের মধ্যে বব ডিলান, এরিক ক্ল্যাপটন, জর্জ হ্যারিসন, বিলি প্রিস্টন, লিয়ন রাসেল, ব্যাড ফিঙ্গার এবং রিঙ্গো রকস্টার ছিলেন উল্লেখযোগ্য। কনসার্ট ও অন্যান্য অনুষঙ্গ হতে প্রাপ্ত অর্থ সাহায্যের পরিমাণ ছিলো প্রায় ২,৪৩,৪১৮.৫১ মার্কিন ডলার, যা ইউনিসেফের মাধ্যমে শরণার্থীদের সাহায্যার্থে ব্যয় হয়।

প্রশ্ন: বাংলাদেশের অবস্থান ও আয়তন সম্পর্কে একটি অনুচ্ছেদ লিখ।

উত্তর: বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার একটি স্বাধান সার্বভৌম রাষ্ট্র। বাংলাদেশের সাংবিধানিক নাম গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ। বাংলাদেশের ভূখণ্ডগত আয়তন ১৪৭, ৫৭০ বর্গ কিলোমিটার। ভৌগোলিক অবস্থান ২০°৩৪ মি. উত্তর থেকে ২৬° ৩৮ মি. উত্তর অক্ষাংশ এবং ৮৮° ০১ মি . পূর্ব থেকে ৯২° ৪১ মি. পূর্ব দ্রাঘিমাংশে।বাংলাদেশের মাঝখান দিয়ে কর্কটক্রান্তি রেখা অতিক্রম করেছে। বাংলাদেশের সর্বমোট ভূসীমান্তের দৈর্ঘ্য ২৪০০ কিমি, যার ৯২ % সীমান্ত ভারতের সাথে বাকি, ৮ % সীমান্ত মায়ানমারের সাথে। ভূ-রাজনৈতিক ভাবে বাংলাদেশের পশ্চিমে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, উত্তরে পশ্চিমবঙ্গ, আসাম ও মেঘালয়, পূর্ব সীমান্তে আসাম, ত্রিপুরা ও মিজোরাম, দক্ষিণ-পূর্ব সীমান্তে মায়ানমারের চিন ও রাখাইন রাজ্য এবং দক্ষিণ উপকূলের দিকে বঙ্গোপসাগর অবস্থিত। বাংলাদেশের ভূখণ্ডগত সমুদ্রসীমা ১২ নটিক্যাল মাইল (২২.২২ কিমি) এবং উপকূল থেকে ২০০ নটিক্যাল মাইল (৩০ কিমি) পর্যন্ত বিস্তৃত এর অর্থনৈতিক সমুদ্রসীমা। ভৌগোলিকভাবে পৃথিবীর বৃহত্তম ব-দ্বীপের সিংহভাগ অঞ্চল জুড়ে বাংলাদেশ ভূখণ্ড অবস্থিত। নদীপ্রধান বাংলাদেশ ভূখণ্ডের উপর দিয়ে বয়ে গেছে ৫৭ টি আন্তর্জাতিক নদী। বাংলাদেশের উত্তর-পূর্বে ও দক্ষিণ-পূর্বে টারশিয়ারি যুগের পাহাড় ছেয়ে আছে। বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ অরণ্য সুন্দরবন ও দীর্ঘতম প্রাকৃতিক সৈকত কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত বাংলাদেশে অবস্থিত।

প্রশ্নঃ গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান সম্পর্কে একটি অনুচ্ছেদ লিখ।

উত্তর: গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশ রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আইন। এটি একটি লিখিত দলিল। ১৯৭২ খ্রিস্টাব্দের ৪ঠা নভে তারিখে বাংলাদেশের জাতীয় সংসদে এই সংবিধান গৃহীত হয় এবং একই বছরের ১৬ ই ডিসেম্বর অর্থাৎ বাংলাদেশের বিজয় দিবসের | প্রথম বার্ষিকী হতে এটি কার্যকর হয়। মূল সংবিধান ইংরেজি ভাষায় রচিত হয় এবং একে বাংলায় অনুবাদ করা হয়। তাই এটি বাংলা ও ইংরেজি উভয় ভাষায় বিদ্যমান। তবে ইংরেজী ও বাংলার মধ্যে অর্থগত বিরোধ দৃশ্যমান হলে বাংলা রূপ অনুসরণীয় হবে। ১০ ই এপ্রিল ২০১৮ সালের সপ্তদশ সংশোধনী সহ বাংলাদেশের সংবিধান সর্বমোট ১৭ বার সংশোধীত হয়েছে। এই সংবিধান সংশোধনের জন্য জাতীয় সংসদের সদস্যদের মোট সংখ্যার দুই তৃতীয়াংশ ভোটের প্রয়োজন হয়।
বাংলাদেশের সংবিধান কেবল বাংলাদেশের সর্বোচ্চ আইনই নয় ; সংবিধানে বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রের মূল চরিত্র বর্ণিত রয়েছে। এতে বাংলাদেশের ভৌগোলিক সীমারেখা বিধৃত আছে। দেশটি হবে প্রজাতান্ত্রিক, গণতন্ত্র হবে এদেশের প্রশাসনিক ভিত্তি, জনগণ হবে সকল ক্ষমতার উৎস এবং বিচার বিভাগ হবে স্বাধীন। জনগণ সকল ক্ষমতার উৎস হলেও দেশ আইন দ্বারা পরিচালিত হবে। সংবিধানে জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতা -কে রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে। বাংলাদেশের সংবিধান প্রস্তাবনা দিয়ে শুরু করে ১১ টি ভাগ বা অধ্যায়, ১৫৩ টি অনুচ্ছেদ এবং ৭ টি তফসিল দিয়ে শেষ হয়েছে। বাংলাদেশের সংবিধান এ পর্যন্ত ১৭ বার সংশোধন করা হয়।

প্রশ্ন: বাংলাদেশের অর্থনীতি সম্পর্কে একটি অনুচ্ছেদ লিখ।

উত্তর: বাংলাদেশের অর্থনীতি একটি মধ্য আয়ের উন্নয়নশীল এবং স্থিতিশীল অর্থনীতি। এই অর্থনীতির বৈশিষ্ট্যসমূহের মধ্যে রয়েছে মধ্যমহারের বার্ষিক প্রবৃদ্ধি, পরিব্যাপ্ত দারিদ্র্য, আয় বণ্টনে অসমতা, শ্রমশক্তির উল্লেখযোগ্য বেকারত্ব, জ্বালানী, খাদ্যশস্য এবং মূলধনী যন্ত্রপাতির জন্য আমদানী নির্ভরতা, জাতীয় সঞ্চয়ের নিম্নহার, বৈদেশিক সাহায্যের ওপর ক্রমহাসমান নির্ভরতা এবং কৃষি খাতের সংকোচনের সঙ্গে সঙ্গে সেবা খাতের দ্রুত প্রবৃদ্ধি। ১৯৭১ খ্রিস্টাব্দে স্বাধীনতা অর্জনের পর থেকে বাংলাদেশের অর্থনীতি যথেষ্ট অগ্রগতি অর্জন করেছে। বাংলাদেশের তৈরি পোষাক শিল্প বিশ্বের বৃহত্তম শিল্পের মধ্যে অন্যতম। ১৯৮০ খ্রিস্টাব্দের আগে পর্যন্ত বাংলাদেশের অর্থনীতি মূলত পাট ও পাটজাত পণ্যের ওপর নির্ভরশীল ছিল। এসময় পাট রপ্তানি করে দেশটি অধিকাংশ বৈদেশিক মুদ্রা আয় করত। কিন্তু বর্তমানে বিভিন্ন খাত থেকে বৈদেশিক মুদ্রা আয় করে। এর মধ্যে তৈরি পোষাক শিল্প অন্যতম। এ ছাড়াও প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স উল্লেখযোগ্য।

প্রশ্ন: “বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশ” এ বিষয়ে একটি সংক্ষিপ্ত রচনা লিখ।

ভূমিকা: হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি, স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান একটি নাম, চেতনা ও অধ্যায়। তার জন্ম না হলে হয়তো আমরা স্বাধীন , সার্বভৌম রাষ্ট্র পেতাম না। বাঙালির চিন্তা ও চেতনার বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে যার মাধ্যমে তিনিই বাংলার রাখাল রাজা, বাংলাদেশের প্রতিশব্দ শেখ মুজিবুর রহমান

জন্ম ও পারিবারিক পরিচয়: বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯২০ সালের ১৭ মার্চ গোপালগঞ্জ জেলার টুঙ্গিপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা শেখ লুৎফর রহমান ও মাতা সায়েরা খাতুন। দুই ভাই ও চার বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন পিতা – মাতার তৃতীয় সন্তান। তাঁর ডাকনাম ছিল ‘খোকা’।

শিক্ষা জীবন: বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ৭ বছর বয়সে গিমাডাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তিও মাধ্যমে শিক্ষা জীবন শুরু করেন। এরপর গোপালগঞ্জ পাবলিক স্কুল এবং মিশনারি স্কুলে ভর্তি হন। তিনি মিশনারি স্কুল থেকে ম্যাট্রিক পাস করেন। এরপর কলকাতা ইসলামিয়া কলেজ এবং কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইএ এবং বিএ পাস করেন। এরপর তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগে ভর্তি হন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালে চতুর্থ শেণির কর্মচারীদের দাবির আন্দোলনে যোগদানের কারণে তাঁর ছাত্রত্ব বাতিল করে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এবং তাঁর শিক্ষা জীবনের পরিসমাপ্তি ঘটে।

রাজনৈতিক জীবন: ছাত্র অবস্থাতেই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের রাজনৈতিক জীবনের সূত্রপাত ঘটে। আর তার রাজনৈতিক জীবনে রয়েছে বিশেষ বিশেষ অবদান। নিচে তা সংক্ষেপে আলোচনা করা হলো বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ভাষা আন্দোলনে বিশেষ ভূমিকা পালন করেন। ভাষা আন্দোলনের চূড়ান্ত অধ্যায়ের সময় তিনি জেলে থাকলেও বিভিন্ন সময় তার নেতৃত্ব ভাষা আন্দোলনকারীদের উৎসাহ ও অনুপ্রেরণা জুগিয়েছিল। ১৯৪৯ সালে আওয়ামী মুসলিম লীগ গঠিত হলে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যুগ্ম সম্পাদক নির্বাচিত হন। ১৯৫৪ সালে যুক্তফ্রন্ট নির্বাচনে জয়লাভের মাধ্যমে তিনি সরকারের সর্বকনিষ্ট মন্ত্রী হিসেবে
শপথ নেন এবং কৃষি, বন, সমবায় ও পল্লী মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ১৯৬৬ সালে আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত হন এবং ৬ ফেব্রুয়ারি ১৯৬৬ সালে লাহোরে ঐতিহাসিক ৬ দফা পেশ করেন। ১৯৬৮ সালে প্রধান আসামী হিসেবে আগড়তলা ষড়যন্ত্র মামলার শিকার হন এবং ১৯৬৯ সালে আগড়তলা ষড়যন্ত্র মামলা থেকে মুক্তি লাভ করেন। ৫ ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সালে পূর্ব পাকিস্তানের নাম ‘বাংলাদেশ’ রাখেন। ১৯৭০ সালের নির্বাচনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়। কিন্তু পাকিস্তান সরকার নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর না করে বিভিন্ন টালবাহানা শুরু করে। এরই ধারাবাহিকতায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ৭ মার্চ রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) ঐতিহাসিক ভাষণ দেন এবং ঘোষণা করেন- ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম’। এরপর ২৫ মার্চ রাতে বঙ্গবন্ধুকে পাকিস্তানি বাহিনী গ্রেফতার করে পশ্চিম পাকিস্তানে নিয়ে যায়। প্রেফতারের পূর্ব মুহূর্তে তিনি ওয়ারলেসের মাধ্যমে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। তাঁর অনুপস্থিতি এদেশের মানুষ যুদ্ধে ঝাপিয়ে পড়ে এবং দীর্ঘ ৯ মাস রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মাধ্যমে বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জন করে।
১০ জানুয়ারি , ১৯৭২ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশে পদার্পন করেন। যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশের দায়িত্ব ভার গ্রহণের পর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান জাতি গঠনে আরেক যুদ্ধে নেমে পড়েন। কিন্তু তাঁর কাজ শেষ না হতেই ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বিপথগামী কিছু সেনা সদস্যের হাতে তিনি সপরিবারে নিহত হন।

উপসংহার: বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সারা জীবন বাঙালির মুক্তির কথা ভেবেছেন। স্বাধীনতা লাভের পর তিনি এ জাতির অর্থনৈতিক মুক্তির জন্য সংগ্রাম করেছেন। বাঙালি জাতি সারা জীবন তাকে শ্রদ্ধার আসনে সমুন্নত রেখেছে এবং যতদিন বাংলাদেশ থাকবে ততদিন বঙ্গবন্ধু বাঙালির অন্তরে অমর থাকবেন।

Recent General Knowledge in University Admission Tests Part 06

Downlod PDF Now

2020-21 session Exam Qustion Analysis

Part 01Part 02

Genaral Knowledge Update

নোট ০১নোট ০২নোট ০৩নোট ০৪নোট ০৫নোট ০৬

পিডিএফটি যদি আপনাদের উপকারে আসে তাহলে শেয়ার করে আপবার বন্ধুদের পড়তে সহযোগিতা করুন।

Disclaimer: Dear, For your sort, we truly need to repudiate that all informations have been introduced here in this happy are gathered from internet through obvious notification and news sources. As nobody is up above to messes up, so there might be several willing errors past our site. If nobody truly minds one way or the other, excuse us for these unintesional mitakes and let us in on about it through our email: @gmail.com or Facebook: https://www.facebook.com/admissioninfos01/

Recent General Knowledge in University Admission Tests

CONTACT US

new-facebook-find-us-on-facebook.jpg

1 COMMENT

  1. I used to be recommended this blog by way of my cousin. I’m now not
    sure whether this submit is written by way of him as nobody else recognize such targeted approximately my difficulty.
    You’re wonderful! Thanks!

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here